বোর্ড চেয়ারম্যান বললেন শাস্তিযোগ্য অপরাধ পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই বরিশাল বোর্ডের উত্তরপত্র ফেসবুকে !

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চলমান এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হতে এখনো সময় বাকি। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৯০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত হবে। এ ভাবেই চলে আসছিলো। কিন্তু এবারে ঘটলো উল্টোটা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ফেসবুকে চলে আসলো পরীক্ষার মুল্যায়নকৃত খাতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বেশ কয়েকটি আইডি হতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দেয়া এক ছাত্রীর ইংরেজী প্রথম পত্রের মুল্যায়নকৃত উত্তর পত্রের ছবি তুলে প্রকাশ করা হয়েছে। আর এ বিষয়টি এখন ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে দাড়িয়েছে।
তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা অভিযোগকারীর পরিচয় না পেলে তাৎক্ষনিক ভাবে বিষয়টি নিয়ে কিছু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক। তাই বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে এবং পোস্টদাতাকে সনাক্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ফেইসবুক থেকে পাওয়া এইচএসসি’র মুল্যায়নকৃত উত্তরপত্রের ছবিতে দেখা যাযা উত্তরপত্রটি বরিশাল বোর্ডের এক ছাত্রীর। ওই ছাত্রী তার আশানুরুপ পরীক্ষা দিতে না পারায় সে উত্তরপত্রের মূল্যায়নকারীর কাছে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। উত্তরপত্রের একটি পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এই অনুরোধ লিখেছেন তিনি। তাছাড়া ফেসবুকে পোস্ট করা ছবিগুলো থেকে দেখা যায় ওই ছাত্রী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। উত্তরপত্রের একটি পৃষ্ঠায় তার প্রতি লেখা অংশটির একটি ছবিও দেয়া হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করার পরে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে দাড়িয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কমেন্ট দিয়ে ছবিগুলো পোস্ট করছে একাধিক আইডিধারী। কেউ কেউ ছাত্রীকে পাশ করিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন আবার কেউ এর বিরোধীতা করছেন। কমেন্টস এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষককে দুর্নীতিবাজ আখ্যাও দিয়েছেন।
এ ধরনের একটি পোস্ট আজকের পরিবর্তনের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এর কাছে আসলে বিষয়টি নিয়ে আপলোডকারী ব্যাক্তির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা বাসিন্দা এবং এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী “মাইরালা গ্রুপ” নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ওই পোস্টটি সংগ্রহ করেছেন। সেখান থেকে সংগ্রহকৃত পোস্টটি পরবর্তীতে সে তার নিজের আইডিতে পোস্ট করেছেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী “মাইরালা গ্রুপ” নামে ওই ফেইসবুক গ্রুপে অনুসন্ধান চালালে উত্তর পত্রের ছবি যুক্ত আরো কয়েকটি পোস্ট দেখা যায়।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক বলেন, ইংরেজি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকদের কাছে প্রেরন করা হয়েছে। কিন্তু মুল্যায়নকৃত উত্তরপত্র ফেসবুকে দেয়াটা বড় একটি অপরাধ। এটা যে করেছে তার শাস্তি হওয়া উচিৎ।
তিনি বলেন, কে উত্তরপত্র ফেইসবুকে পোস্ট করেছে তাকে চিহ্নিত করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তবে যেটা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে সেট কোড এবং রোল নম্বর পাওয়া গেলে বিষয়টি খুব দ্রুত সমাধান এবং পোস্টধারীকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব। বিষয়টি তিনি গুরুত্বতার সাথে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।