বোরো ধান-চাল সংগ্রহ ব্যর্থ হওয়ার শংকা

রুবেল খান॥ বরিশাল জেলা থেকে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর দেড় মাস পার হলেও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর এক মুঠো ধান বা চাল সংগ্রহ করতে পারেনি। সরকারের সিদ্ধান্ত এবং দাপ্তরিক জটিলতায় সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে কৃষকরা দাবি করেছেন। তাই শেষ পর্যন্ত জেলা থেকে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরন হওয়া নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে।
খাদ্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানের বোরা মৌসুমে জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ মে থেকে ন্যায্য মূল্যে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হয়। আগামী ৩১ আগষ্ট সংগ্রহের সময় শেষ হবে। কার্যক্রম শুরু হলেও গত প্রায় দেড় মাসে এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে ধান চাল সংগ্রহ শুরু হয়নি। জেলায় এ বছর বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১ হাজার ৮৫ মেট্রিক টন এবং চালের লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৫৩৪ মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ২২ টাকা এবং চালের মূল্য ৩২ টাকা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন অফিস সূত্র জানায়, যে পরিমান ধান এবং চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে তার মধ্যে সদর উপজেলা থেকে ধান ৮৮ মেট্রিক টন ও চাল ৩০ মেট্রিক টন, বাবুগঞ্জ উপজেলা থেকে শুধু মাত্র ৩০ মেট্রিক টন ধান, উজিরপুর থেকে ধান ২৯৮ মেট্রিক টন ও চাল ৬৯ মেট্রিক টন, বাকেরগঞ্জে শুধু মাত্র ধান ১৮ মেট্রিক টন, গৌরনদীতে ধান ১১৮ মেট্রিক টন ও চাল ২৫১ মেট্রিক টন, আগৈলঝাড়ায় ধান ২৩৩ মেট্রিক টন ও চাল ১৮৪ মেট্রিক টন, মুলাদী উপজেলায় শুধুমাত্র ধান ৩৪ মেট্রিক টন, হিজলা উপজেলায় শুধু মাত্র ৩৭ মেট্রিক টন ধান এবং মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় ১২৪ ও বানারীপাড়া উপজেলায় ১০৫ মেট্রিক টন করে ধান।
সদর এলএসডি পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান বা চাল কিনছেন না। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী রাইস মিল মালিকদের কাছ থেকে ধান চাল কিনছেন। কিন্তু বোরো ধান চাল সংগ্রহের প্রায় দেড় মাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তারা এক মুঠো ধান বা চাল কিনতে পারেননি বলে নিশ্চিত করেন।
এদিকে বরিশাল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রনক কার্যালয়ের তথ্য সংগ্রহকারী জহিরুল ইসলাম জানান, জেলার ১০টি রাইস মিলের মাধ্যমে তারা ধান এবং চাল সংগ্রহ করে থাকেন। এর মধ্যে ৩টি আগৈলঝাড়ায়, ২টি উজিরপুর এবং ৫টি গৌরনদীর। মিল মালিক ছাড়া কোন কৃষক নিজে থেকে ধান-চাল তাদের কাছে নিয়ে এলে এখান থেকেই মূল্য দিয়ে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সূত্রটি।
তিনি বলেন, দাপ্তরিক জটিলতার পাশাপাশি সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য ধান চাল সংগ্রহ কার্যক্রম এখন পর্যন্ত শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর কারন হিসেবে তিনি বলেন, গত বছর অনেক মিল মালিক ধান-চাল দেয়নি। এ কারনে ঐ মিল মালিকদের এ বছর শাস্তি সরুপ বাদ দেয়া হয়েছে। যাদের বাদ দেয়া হয়েছে তাদের পূনরায় সুযোগ দেয়ার জন্য আবেদনও করেছেন মিল মালিকরা। এ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনে একটু সময় লাগছে। তাছাড়া বাকি যে মিল মালিকরা রয়েছে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নবায়ন শেষ হলেই ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হবে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে তাদের একাধিকবার বৈঠক হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আগামী ৩১ আগষ্টের মধ্যেই একটু তড়ান্বিত করে লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সদর এলএসডি’র পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জলিল সিকদার।