বৈশাখকে পুজি করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পান্তা ইলিশ বানিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পহেলা বৈশাখের আগমনে নগর জুড়ে খুলবে পান্তা ইলিশের দোকান। গোটা নগরী জুড়ে নামি-বেনামি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শতাধিক পান্তা ইলিশ বিক্রির দোকান খুলবে। তবে তারা প্রত্যক্ষভাবে বিক্রি করছে না এই পান্তা ইলিশ। রেজিষ্ট্রেশন ফি’র নামে কৌশলে নেয়া হবে বিক্রির টাকা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তকমা লাগিয়ে বৈশাখে মানুষের পান্তা ইলিশের শখকে পুজি করে শুরু করেছে লাভজনক বাণিজ্য। আর একদিনের এই ব্যবসায় বিজ্ঞাপন চলছে ফেইসবুকের মত যোগাযোগের সামাজিক মাধ্যমে। তবে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠন গুলোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জমকালো বিজ্ঞাপনে এতিম, দরিদ্র ও পথশিশুদের জন্য করা আয়োজনের কোন খবর নেই। রয়েছে নির্দিষ্ট পরিমানে টাকা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশনের বিনিময়ে পান্তা ইলিশ খাওয়ার আমন্ত্রন। এমনি অভিযোগ করে নগরীর একাধিক সচেতন নাগরিক। তারা অভিযোগে আরো জানায়, শুধু নামি বেনামে সংগঠন নয়, এমন আয়োজন হয়েছে নগরীর অলিগলিতেও। কোথাও পোষ্টার ব্যানার ছাপিয়ে, আবার কোথাও মৌখিক ভাবে চলছে পান্তা ইলিশ বিক্রির প্রচারনা। এই আয়োজনের জন্য নিজেদের পকেট থেকে বিন্দুমাত্র খরচ করছেনা তারা। উল্টো বিনামূল্যে পান্তা ইলিশ খাওয়ার নিমন্ত্রনের বিনিময়ে হাতে গোনা কিছু ভিআইপিদের কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে তুলছে মোটা অংকের টাকা। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের অডিটোরিয়ামে পান্তা ইলিশ খাওয়ানো ব্যবস্থা করেছে তারা। এ বছর ইলিশের চাহিদা প্রথম থেকেই ছিল তুঙ্গে। আকাশ ছোঁয়া দাম আর মানুষের পান্তা ইলিশ খাওয়ার শখকে পুঁজি করেই ব্যবসা জমিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নামে এ সকল অসাধুরা। তবে তাদের এই আয়োজনে এমন অতিথিদের নিমন্ত্রন জানানো হয়েছে, যাদের পান্তা ইলিশ কিনে খাওয়ার সামর্থ আছে। এমন কাউকে নিমন্ত্রন দেয়া হয়নি, যে কিনা কখনও পান্তা ইলিশ চোখেও দেখেনি। শুধু শুনেছে নাম। এ বিষয়ে পহেলা বৈশাখের পান্তা ইলিশের আয়োজক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীর সাথে কথা বলা হলে তারা জানায়, আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবাই আমাদের কাজ। তবে কেন সেবার বিনিময়ে টাকা নেয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাব ছিল না তাদের কাছে। একই সাথে আয়োজনে গরীব দুঃখীদের অংশগ্রহনের কোন ব্যবস্থা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানায়, কিছু পথ শিশুদের পান্তা ইলিশ খাওয়ানো কথা আমরা ভেবে দেখেছি। সুযোগ হলে তাদেরকেও খাওয়ানো হবে। তবে রেজিষ্ট্রেশনের নামে কেন টাকা নেয়া হচ্ছে এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেনি তারা। প্রশ্নের জবাবে তারা বলে, আপনার যদি ইচ্ছে হয় তো, নিজের খরচে গরীব দুঃখীদের জন্য পান্তা ইলিশের আয়োজন করুন। একই সাথে প্রশ্ন করায় সমাজ সেবক বলে একাধিক বার ব্যঙ্গ করেন তারা।