বৈরি আবহাওয়ায় সবজির মুল্য বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে সবধরনের সবজি উৎপাদনে ব্যাহত হচ্ছে চাষীরা। সেই সাথে পণ্যের মূল্য দেড় গুন বৃদ্ধি পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও নগরীর পাইকারী ও খুচরা কাঁচা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে কম পণ্য সরবরাহের চিত্রটি বিদ্যমান। বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারী কাঁচা বাজারের আনিচ বাণিজ্যালয় এর সত্ত্বাধিকারী মোঃ আনিচুর রহমান আনিচ জানান, বর্তমানে প্রাকৃতিক প্রতিকূল পরিবেশে উত্তর ও দাক্ষিনাঞ্চলের প্রায়ই জায়গা পানিতে প্লাবিত হয়ে আছে। যার ফলে ওইসব অঞ্চলের কৃষকরা সবজি উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারছে না। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় কবলিত হওয়ায় আশংকা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারেদ মধ্যে শংকা বিরাজমান রয়েছে। এ সময় তিনি জানান, বর্তমানে যে পরিমাণে সবজি দরকার সে পরিমাণে আসছে না। যার ফলে পূর্বের মূল্য থেকে বর্তমানে অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে কেজি প্রতি পটল বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৬টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০-৬০টাকা। কচুর গাডি ধরনের যথাক্রমে ২৫, ২০ ও ১২ টাকা, কাকরোল ৩০-৪০ টাকা, করলা ৪০-৫০ টাকা, শশা ৩৫টাকা, জালি ৩০-৪০ টাকা, কাঁচাকলা পোন প্রতি ১২০-২০০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, পাতা কপি ৩০-৩৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ১০-১২ টাকা, কচুরলতি ২৫-৩০ টাকা, ফুলকপি ৩০-৪০ টাকা, লেবু ১ পোন ২০০-২৫০ টাকা, আমড়া শত প্রতি ১৫০-২০০টাকা এছাড়াও লাউ প্রতি পিচ ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো কেজি প্রতি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পূর্বের তুলনায় বর্তমান বাজারে দর দেড় গুন বৃদ্ধি পেলেও, কিছু সংখ্যক সবজির দাম কমেছে। এছাড়াও নগরীর খুচরা ব্যবসায়ীদের বাজার- নতুন বাজার, পোর্টরোড, বড় বাজার, চৌমাথা বাজার ঘুরে দেখা গেছে। স্থানের দূরত্ব অনুযায়ী সবজি বিক্রির মূল্য কিছু তারতম্য রয়েছে। নতুন বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুস ছত্তার জানান, দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়া ও নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সবজি সরবরাহ কম। তাই পর্যাপ্ত পণ্য না থাকায় চড়া দামে ও সীমিত লাভে তা বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে খুচরা বাজার গুলোতে কেজি প্রতি পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০-৬৫ টাকা, কচুর মুথা ২০ টাকা, কাকরোল ৪০-৫৫ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা, শশা ৫০টাকা, জালি ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচাকলা পোন প্রতি ৩৫০-৪০০টাকা, বেগুন ৪৫-৫৫টাকা, পাতাকপি ৩৫-৪০টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা, লেবু পোন প্রতি ৩০০ টাকা, আমড়া শত প্রতি ২০০-২৫০ টাকা, এছাড়া লাউ প্রতিপিস ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম যেন সোনার হরিনে পরিণত হয়েছে কেজি প্রতি ১২০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ সময় তিনি জানান, অনেক সবজি রয়েছে যার সরবরাহ কম থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। তখন বেড়ে যায় ওই সমস্ত সবজির মূল্য। যা পরবর্তীতে সাধারন ক্রেতাদের ক্রয় সীমার বাইরে চলে যায়। এদিকে বর্তমানে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৩৮০ টাকা, খাসির মাংস ৫২০ টাকা, বয়লার মুরগি ১৪০ টাকা এবং ডিম হালি প্রতি ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি শিব সংকর দাস জানান, দুর্যোগ পূর্ণ আবহাওয়ার ফলে পণ্য সরবরাহ কম রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে সবজি ক্ষেত গুলো প্লাবিত হয়েছে। যার ফলে উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়াও প্রতিযোগিতার বাজার থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীরা শাক সবজি সীমিত লাভে বিক্রয় করছে। কিন্তু বর্তমানে মাছের আমদানি বেশি রয়েছে। তিনি দুর্যোগ পূর্ন আবহাওয়া থেকে নিস্তার পেলে পণ্য সরবরাহ বাড়বে বলে আশা ব্যক্ত করেন।