বৈরি আবহাওয়ায় কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গনে আতংকিত তীরের বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বৈরি আবহাওয়ায় পানি বৃদ্ধি এবং ¯্রােতের কারনে কীর্তনখোলা নদীতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত দুই-তিনদিনের ভাঙ্গনে সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউপির চর আবদানী ও চরকাউয়া এলাকার কয়েক একর জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া বিশাল এলাকা জুড়ে ফাটলের সৃষ্টি হওয়ায় বড় ধরনের ভাঙ্গনের আশংকায় ওই সকল গ্রামের বাসিন্দারা। ভাঙ্গনের আতংকে বাসিন্দারা নদীর কুলের স্থাপনা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া শুরু করেছে। তবে এসব ভাঙ্গন শুরু হলেও খবর নেই পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের। অর্থ বরাদ্দের অভাবের অজুহাতে নিরব তারা। এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তারা জানান, কদিন ধরে অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বৈরি আবহাওয়ায় ¯্রােতের গতিও বেড়েছে। সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বেলতলা ফেরিঘাট এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, গত তিন দিন ধরে ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙ্গনে গ্যাং ওয়ের কিছু অংশ এবং সুন্দরবন ডক ইয়ার্ডের জমির বিশাল অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গতকাল বুধবারও ভাঙ্গন অব্যাহত ছিলো।
শুধু ফেরিঘাট এলাকাই নয়, কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গনে পার্শ্ববর্তী বিসিসি’র সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টও নদী ভাঙ্গনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, গত বছর বর্ষা মৌসুমে বেলতলা ফেরিঘাট এলাকায় নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে কয়েক কিলোমিটার জমি। ভাঙ্গনে নদীতে ঘর বাড়ি দেবে গিয়ে মানুষের মৃত্যুও হয়। পরবর্তীতে আন্দোলন সংগ্রাম করে বেলতলা ফেরিঘাটের অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাধ নির্মানের পাশাপাশি বালুর বস্তাও ফেলে। এ কারনে ভাঙ্গন রোধ হয়। কিন্তু হঠাৎ করে গত তিন দিন যাবত পূনরায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনে তার মালিকানাধিন সুন্দরবন ডক ইয়ার্ড সহ আশপাশের জমির বিশাল অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গন এখানো অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাছাড়া ইতোমধ্যে ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শুনেছি একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে শুধু বেলতলা ফেরিঘাট নয়, পার্শ্ববর্তী চরবাড়িয়া বাজার, চরআবদানী, লামছড়ি ও চরকাউয়া ইউনিয়নের চর কাউয়া ফেরিঘাট সংলগ্নে পূনরায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ কারনে এসব এলাকার মানুষের মাঝে নদী ভাঙ্গনের আতংক বিরাজ করছে। যে কারনে তারা নদীর আশপাশে থাকা স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছে। এমনকি নদী ভাঙ্গ এলাকার মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কখন যেনে সর্বনাশা নদীর কড়াল গ্রাসে বিলিন হয়ে যায় তাদের শেষ সম্বল আশ্রয় টুকু। এই আশংকায় রাতভর জেগে থেকে পাহারা দিচ্ছেন তারা।