বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদনে এমইপি দেশ ব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদনে গুণগত মান অক্ষুণœ রেখে এবং তুলনামূলক কম দাম হওয়ার কারণে দেশ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বরিশালের বেসরকারী প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী ইলেকট্রিক প্রডাক্ট (এমইপি)। প্রায় ৩ হাজার বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদন করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এর সাথে কয়েকহাজার মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছে এই কোম্পানি। যাদের বেশির ভাগ অংশই হচ্ছে নারী। এক সময় সংসারে অলস সময় কাটানো হতদরিদ্র গৃহবধূদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষ ও যোগ্য কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছে এমইপি। এই কোম্পানির পণ্যের কদর সারা দেশসহ বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা ও কারখানা পরির্দশনকালে এসব তথ্য তুলে ধরেন এমইপি’র শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকতারা।
মতবিনিময় সভায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল বলেন, এমইপি বরিশালে চ্যালেঞ্জিং ভুমিকায় বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদন করছে। এজন্য এখানকার অনেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। এমইপি’র মত ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়লে বরিশালে কর্মসংস্থান বাড়বে। বরিশালের অগ্রযাত্রাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এমইপি গ্রুপের ভূমিকা অপরীসীম। তিনি বলেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বরিশালসহ সারা দেশে এমইপি পন্যের ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দৈনিক আজকের পরিবর্তন সম্পাদক কাজী মিরাজ তার বক্তৃতায় বলেন, শুধু বরিশালেই নয় এমইপি সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তাদের পণ্য ইতিমধ্যেই গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে এমইপি’র উৎপাদিত সিলিং ফ্যান দেশের অন্য সবগুলি কোম্পানিকে পিছনে ফেলে ব্যাবসায়ীক সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে এমইপি’র পণ্যের গুণগত মান ও সৌন্দর্যের কারণে। পরিবর্তন সম্পাদক বলেন, এমইপি বরিশালের পণ্য। এই  পণ্যের সুনাম, সুখ্যাতি ছড়িয়ে আমাদের দায়িত্ব।
মতবনিময় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এমইপি’র চেয়ারম্যান সামসুল আলম চাকলাদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল, দৈনিক আজকের বার্তার প্রকাশক মেহেরুন্নেসা বেগম, আজকের পরিবর্তনের প্রকাশক ও সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, দৈনিক কীর্তনখোলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সালেহ টিটু, মাছরাঙা টেলিভিশনের গিয়াস উদ্দিন সুমন, কারখানার নির্বাহী পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার, পরিচালক ফাহিম আলম চাকলাদার, এজিএম (হেড অফ সেলস) সৈয়দ আহমেদ খান মাহিদ, রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাস, দৈনিক আজকের বার্তার বার্তা প্রধান কাজল ঘোষ, বার্তা সম্পাদক খান রফিক, প্রথম সকালের প্রকাশক ও সম্পাদক কাজী আল মামুন, দৈনিক সাহসী বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক নিকুঞ্জ বালা পলাশসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনের সাংবাদিকবৃন্দ।
পরে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এমইপির কারখানা ও উৎপাদিত বিভিন্ন পন্যসামগ্রী পরিদর্শন করেন। সরেজমিনে নগরীর হাটখোলায় বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমইপির কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, এমইপি নিজেরাই কাচামাল ব্যবহার করে উৎপাদন করছেন সুইস সকেট, সার্কিট, রেগুলেটর, এর্নাজি বাল্ব, এলইডি টিউব, ক্যাবলস, সিলিং ফ্যানসহ নানা ধরনের ৩ হাজার পণ্য। এমইপির নির্বাহী পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার জানান, ১৯৭৪ সালে তারা সুইচ সকেট ও সার্কিট উৎপাদন করে এ কারখানার যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তাদের ৩ হাজার প্রকার বৈদ্যুতিক সামগ্রী বিভিন্ন ইপিজেটের (বিশেষ করে নারায়নগঞ্জ, সাভার) মাধ্যমে বিদেশেও রপ্তানী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কুংটং নামে একটি চায়না কোম্পানী তাদের নানা ধরনের পণ্য বিদেশে সরবরাহ করে থাকে। সরকারী ভাবেও তাদের পন্যের চাহিদা বেশ। উদাহারণ হিসেবে তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতের মেইন সুইচ সারা দেশের মধ্যে একমাত্র এমইপি সরবরাহ করে থাকে। আন্ডারগ্রাউন্ডের ক্যাবলও তারা সারা দেশে সরবরাহ করেন। কারখানার এজিএম (হেড অফ সেলস) সৈয়দ আহমেদ খান মাহিদ বলেন, তাদের উৎপাদিত বৈদ্যুতিক সামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কদর সুইস সকেট, ক্যাবেল, ও সিলিং ফ্যানের। বর্তমানে তাদের সবচেয়ে বড় কার্যক্রম হচ্ছে কপার প্লান স্থাপন। দেশের সকল বৈদ্যুতিক সামগ্রীর প্রতিষ্ঠানকে বিদেশ থেকে রড আমদানী করে পণ্য তৈরি করতে হয়। কিন্তু এমইপি এখন ক্যাথড থেকে সরাসরী তামার রড তৈরি করছে। যার মাধ্যমে বিভিন্ন আকারের তামার তার তৈরি হচ্ছে।