বেলতলায় রেষ্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলা, আহত ২

পরিবর্তন ডেস্ক॥ নগরীর বেলতলায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বেলতলা বাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে সকালে এ সন্ত্রাসী বাহিনী তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তিকে পিটিয়ে আহত করেছে। আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তারা হলেন বেলতলা এলাকার হাফিজুর রহমান (৪০) এবং মহাবাজ এলাকার পাপন হাওলাদার (৩০)। এদের মধ্যে পাপনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানানÑ শনিবার সকালে গোল্ড ব্রিকসের কমীচারি জাকির হাওলাদার একটি ভ্যান গাড়িতে হাওয়া দেওয়ার জন্য গ্রেজে যায়। এ সময় ভ্যান গাড়িতে অতিরিক্ত হাওয়া দেয়ার চাকা পামচার হয়ে যায়। এ নিয়ে গ্রেজ মালিকের সাথে ভ্যান চালকের বাকবিতান্ডায় হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঝাপ এলাকার বাসিন্দা এবং বেলতলা অটোরিক্সা মালিক সমিতি নামে একটি অবৈধ সংগঠনের সভাপতি দাবিদার রশীদ মিয়া ভ্যান চালক জাকিরকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ব ভ্যান চালক জাকির ইটভাটা মালিক হাফিজুর রহমানকে খবর দেয়।
ঘটনাস্থলে ছুটে এসে হাফিজ বিষয়টি প্রতিবাদ জানালে তার ওপর চড়াও হন রশীদ মিয়া। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরে রশীদ মিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালালে হাফিজুর রহমান এবং তার ভাই পাপন হাওলাদার গুরুতর আহত হন।
বিষয়টি মিমাংসায় বিকেলে আল জামিয়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মাঠে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে গণ্যমান্যরা। এসময় ওই বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ইসলামিয়া কলেজ (ঝাপ) এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিন্টুর নেতৃত্বে ৩০-৩৫ সদস্যের একটি দল অস্ত্র সজ্জিত হয়ে ইটভাটা মালিকের স্বজনদের ইসলামিয়া হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্টে অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় দোকানের বেশ কয়েকটি চেয়ার টেবিলসহ মূল্যবান মালামাল ভাংচুর করা হয়। পরে নগদ টাকাসহ দুইটি মোবাইল ফোন সন্ত্রাসীরা নিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক রিপন ফকির।’
দোকান মালিক বলেন- সন্ত্রাসীদের সকলের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় প্রতিরোধে কেউ এগিয়ে আসেনি। ভাংচুর ও লুটপাটে প্রায় বিশ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান হামলার শিকার দোকান মালিক রিপন ফকির।’
মারধর ও রেষ্টুরেন্টে হামলার বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত রশীদ মিয়ার মুঠো ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাহাবুবুর রহমান বলেন- সকালে মারধরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কিন্তু মারধরের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না দিয়ে বিষয়টি আপসের কথা ছিলো। সকালে ঘটনাকে কেন্দ্র সন্ধ্যার দিকে রেষ্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’