বৃষ্টিপাতে ভোগান্তি বেড়েছে নগরবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে নদী বন্দরে সতর্ক সংকেত থাকায় অভ্যন্তরীণ রুটের ৬৫ ফুট দৈর্ঘ্যের কম লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছে বিআইডব্লিউটিএ। বঙ্গোপসাগরে লঘু চাপের কারনে গত দু’দিনের ভারি বৃষ্টিতে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আনিছুর রহমান জানান, মৌসুমি বায়ুর কারণে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এই কারনে গত দুইদিন ধরে প্রবল বর্ষন হচ্ছে। তা আরো দুইদিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা কথা জানিয়েছেন তিনি। আনিছুর রহমান বলেন, বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত ১১২ দশমিক ৮ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা আবুল বাশার জানান, নদী বন্দরে ২ নং সর্তক সংকেত থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার অভ্যন্তরীন রুটের ৬৫ ফুট দৈর্ঘ্যের কম লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে অন্যান্য লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সাথে সাথে জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে নিমাঞ্চল এলাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নগরীর জীবনানন্দ দাশ সড়ক, বিএম স্কুল সড়ক নবগ্রাম রোড, বগুরা রোড মুন্সীর গ্রেজ, বরিশাল কলেজ সংলগ্ন মল্লিক বাড়ি রোড, কলেজ রো, পলাশপুর সহ নগরীর অনেক এলাকার সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
শেষ আষাঢ়ের এ প্রবল বর্ষনের সাথে সাগরের জোয়ারে বরিশালÑপটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের কলাপাড়া, হাজীপুর ও মহিপুর ফেরিঘাটগুলো জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। ফলে জোয়ারের সময় এ মহাসড়কে যানবাহন পারাপারেও সৃষ্টি হচ্ছে বিপর্যয় । প্রায় একাই পরিস্থিতি খুলনাÑবরিশাল, ভোলাÑলক্ষ্মীপুর -চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাহারহাটÑভেদুরিয়া ও ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট ফেরি সেক্টরেও। ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে এ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সড়ক ও নৌপথে নিরাপদ যাত্রী পরিবহনও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে ঈদে ঘরে ফেরা বাড়তি যাত্রী পরিবহন নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে কর্তৃপক্ষ।
লাগাতার এ বর্ষণে দক্ষিনাঞ্চলের প্রধান খাদ্য ফসল আমনের বীজতলা এখন পানির তলায়। মারাত্মক ক্ষতির কবলে গ্রীষ্মকালীন সবজির বাগানও। গত ২৫জুনের আকষ্মিক প্রবল বর্ষণেও আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজি আরেকদফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মধ্য রমজানের শেষভাগে এসে এ টানা বর্ষণে সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলের ঈদ বাজারেও পড়ে চরম বিপর্যয়ের কবলে। দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে বুধবার রাতভর টানা বর্ষণের পরে গতকাল সকাল ১০টা থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেও দুপর ৩টার পর থেকেই আবার ভাড়ী বর্ষণে জন জীবন অচল হয়ে পড়ে।