বৃষ্টিতে নগরীর সড়ক মরণ ফাঁদ

রুবেল খান॥ লাগাতার বৃষ্টিতে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে নগরীর গরুত্বপূর্ণ সহ প্রতিটি সড়ক। এসব সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। এতে প্রান হানির কোন খবর না পাওয়া গেলেও আহত হয়েছে অনেকেই। আর তাই আসন্ন ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের এসব সড়কে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের কথা ভেবে রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে বলে দাবী বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) কর্তৃপক্ষের। তবে কয়েকটি সড়কে নামে মাত্র সংস্কার কাজ করতে দেখলেও গুরুত্বপূর্ন সড়ক গুলোর দিকে নজর নেই ঠিকাদারদের। পাশাপাশি সংস্কার কাজের নামে শুভংকরের ফাকির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সম্প্রতি বরিশালে বিরামহীন ভাবে বৃষ্টিপাত হয়। যা গত কয়েক বছরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড অতিক্রম করে। আর বিরামহিন এই বর্ষণে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বরিশাল নগরী বিভিন্ন সড়ক ও বরিশাল-ঢাকা মহা সড়ক। বৃষ্টিতে প্রতিটি রাস্তায় খানা খন্দের পাশাপাশি রাস্তার গুরো পাথর উঠে গেছে। যে কারনে রাস্তাগুলো এখন পথচারী, যানবাহন এবং যাত্রীদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। কখন রাস্তার খাড়ায় পড়ে উল্টে যাচ্ছে যানবাহন। আবার কখন রাস্তার উপর জমে থাকা গুরো পাথরে পিছলে গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে মোটর সাইকেল, অটো রিক্সা সহ অন্যান্য যানবাহন। বিশেষ করে মোটর সাইকেল এবং অটো রিক্সার ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে।
মরন কুপ আর ফাঁদে পরিনত হওয়ায় রাস্তাগুলোর মধ্যে বেশ ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে নগরীর লঞ্চ ঘাট থেকে আমতলার মোড়, জিলা স্কুল মোড় থেকে আমলাতার মোড় পানির টেংকি পর্যন্ত, বটতলা থেকে সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা, লঞ্চ ঘাট থেকে কাকলির মোড়, জিলা স্কুল মোড় থেকে নাজিরের পুল, জেল খানার মোড় থেকে নথুল্লাবাদ, বগুরো রোড, ক্লাব রোড, রাজাবাহাদুর সড়ক, গোড়া চাঁদ দাস রোড সহ আরো বেশ কিছু সড়কে খানা খন্দ আর গুরো পাথরের ভয়ে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচলে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সার্বক্ষনিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই রাস্তাগুলোতে চলাচল করতে দেখা গেছে যানবাহন এবং যাত্রীদের।
যানবাহন শ্রমিক এবং বিভিন্ন যাত্রীরা জানান, আর কয়েকদিন পরেই ঈদ। এজন্য আজ থেকে নৌ এবং সড়ক পথে শুরু হচ্ছে বিশেষ সার্ভিস। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক লাখ মানুষ পরিবারের সাথে ঈদ করতে বরিশালে আসবে। লঞ্চ ঘাট এবং নথুল্লাবাদ থেকে গনপরিবহনের মাধ্যমে আপন ঠিকানায় ফিরবেন তারা। কিন্তু লঞ্চ ঘাট এবং নথুল্লাবাদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরিন সড়কের যে পরিস্থিতি তাতে যাত্রীরা সুস্থ স্বাভাবিকভাবে রাস্তায় পৌছাতে পাড়বে কিনা তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন বাস এবং লঞ্চ মালিক পক্ষ। তাই অতিদ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো সংস্কারের দাবী জানান তারা।
জানতে চাইলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ দত্ত পরিবর্তনকে জানান, বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন রাস্তায় খানা-খন্দ আর গুরো পাথর উঠে গেছে। তাই যেসব রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ সেই রাস্তাগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য বিসিসি’র ঠিকাদারদের বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছে। কাজ শেষে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হবে।
বরিশাল সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, ঈদের সময় নগরীতে গনপরিবহন একটু বেশিই চলে। কারন এসময় যাত্রীদের চাপ বাড়ে। তাই যাত্রীদের কথা চিন্তা করে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলোর প্রতি নজর দেয়া হচ্ছে।
এদিকে বিসিসি কর্তৃপক্ষ এমনটি দাবী করলেও বাস্তবে দেখা গেছে এর ভিন্ন চিত্র। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে বান্দ রোড, বিএম কলেজ রোড, ভাটার খাল, লঞ্চ ঘাট এবং সদর রোডটি সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এসব সড়কে যানবাহন এবং যাত্রীদের পদচারনা বেশি। কিন্তু এসব রাস্তা সংস্কার না করে ঠিকাদাররা তাদের নিজ নিজ এলাকার রাস্তাগুলো সংস্কার কাজ করছে। তাও নামে মাত্র সংস্কার কাজে শুভংকরের ফাঁকি দিচ্ছে ঠিকাদাররা। এমনটিই অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের। তবে যাত্রী এবং যানবাহন শ্রমিকদের দাবী সিটি মেয়র বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংস্কার কাজ সম্পন্ন করলে ভোগান্তি দূর হবে। রোধ পাবে দুর্ঘটনাও।