বৃষ্টি¯œাত ঈদ উৎসব পালন

রুবেল খান ॥ ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্যে দিয়ে পালিত হলো মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। গুমট আবহাওয়া আবার কখনো বৃষ্টি এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ঈদ আমেজ এবং উৎসবে মেতে ওঠে নগরী সহ গোটা বরিশালবাসী। ঘরে ঘরে মাংস, পোলাউ, সেমাই, নতুন পোশাক, ঈদ সেলামি আদান-প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের তিনটি দিন পার করলো নগরবাসী। থেমে থেমে বৃষ্টির মধ্যেও কমতি ছিলোনা ঈদ উৎসবের। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে মানুষ ছুটেছে বিনোদন কেন্দ্র আর স্বজনদের বাড়ি ঘরে। ঈদের তিন দিন রাস্তা ঘাট ফাঁকা থাকলেও ঈদ আনন্দের খোঁজে ভিড় জমে প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে। আনন্দ পিপাসু নারী-পুরুষ, তরুন-তরুনী এবং সকল বয়সের মানুষের ভিড়ে তিল ধারনের ঠাই ছিলো না ভ্রমন স্পটগুলোতে।
সরেজমিনে দেখাগেছে, গত ১৮ জুলাই পালিত হয় মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ-উল-ফিতর। ঈদের দিন ভোর হতেই শিশু, কিশোর, আবাল বৃদ্ধ-বনিতারা ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য প্রস্তুতি নেয়। ঈদের জামাত শুরুর পূর্বেই সবাই সাড়িবন্ধ ভাবে মসজিদ এবং ঈদগাহ ময়দানের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ঈদের জামাত শেষে ধর্মপ্রান মুসল্লিরা সকল ভেদা-ভেদ আর দুঃখ-কষ্ট ভুলে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং করমর্দন করেন। একে অপরকে দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে আসতে বলেন।
এদিকে ঈদের দিনটাতে আবহাওয়া গুমট ভাব ছিল এবং দুপুরের দিকে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। যে কারনে ঈদের জামাত শেষ হওয়ার পর পরই বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ে বেরিয়ে পড়েন সবাই। সারাদিন এবাড়ি থেকে ওবাড়ি এবং সালামি আদায়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে শিশু-কিশোর সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। সেই সাথে নগরীর প্রতিটি ভ্রমন স্পটে বাড়তে থাকে ভিড়। বিশেষ করে নগরীর বান্দ রোডের প্লানেট পার্ক, কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, ত্রিশ গোডাউন বদ্ধভূমি সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পাড়, বঙ্গবন্ধু উদ্যান, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু এবং বরিশাল শহর থেকে একটু দূরে মাধবপাশার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর পাড়ে ভ্রমন পিয়াসুদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে সকাল থেকে গুমরটে ভাব থাকলেও ঈদের দিন বিকাল ৪টার পর হঠাৎ করেই বৃষ্টি শুরু হয়। ঘন্টা খানিক ছিটে বৃষ্টিতে ঈদ আনন্দ কিছু ম্লান হলেও পরে আবার তা ঠিক হয়ে যায়। এমনকি ঈদের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিনের বিনোদন কেন্দ্রগুলো ছিলো ভ্রমন পিয়াসুদের পদচারনায় মুখরিত।
আনন্দ পিপাসুদের বাড়তি আনন্দ দিতে নগরীর বিভিন্ন রাস্তা, এলাকা এবং মহল্লায় লাউড স্পিকারের মাধ্যমে বাজানো হয় গান। রাত দিন বিরামহীন ভাবে গানের শব্দ আর বিভিন্ন বয়সের তরুন, যুবক এবং শিশু কিশোরদের হই-হুল্লুর আর আতস বাজির শব্দে ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্ত। সেই সাথে আলোক সজ্জাতো রয়েছেই। এক কথায় গত তিন দিন ঈদ আনন্দে আত্মহারা ছিলো বরিশালবাসী। এমনকি এবারের ঈদ আয়োজন গত কয়েক বছরের থেকে কিছুটা ভিন্নতা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নগরবাসী।