বীজ সংকটে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার আশংকা

সিদ্দিকুর রহমান ॥ অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বীজ সংকটের ফলে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছে জেলার কৃষকরা। কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে চাষাবাদ করতে সক্ষম। তারপরেও প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে এই জেলায় কিছু বীজতলা নষ্ট হয়ে থাকলেও কৃষকদের সুবিধার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা স্বরূপ এটিআই ও হার্টিকালচার সেন্টারে ২ বিঘা জমিতে বীজ উৎপাদন করে রাখা হয়েছে। যদি বীজের প্রয়োজন হয় তাহলে ওই উৎপাদন কেন্দ্র থেকে সেটা সংগ্রহ করতে পারবে। কিন্তু সাধারন কৃষকদের মাঝে আগের উৎকন্ঠা বিরাজমান। তারা বলছে যে, একবার বীজ উৎপাদন করা হয়েছিল কিন্তু অতিরিক্ত বর্ষণের ফলে তা নষ্ট হয়েছে। একবার ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পর ২য় বার বীজ উৎপাদন করতে ভয় পাচ্ছে তারা। কারন বর্তমান প্রতিকূল পরিবেশে যেকোন মুহূর্তে বড় ধরনের ঝড় বা বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেক্ষেত্রে চাষকৃত জমি অব্যবহৃত রেখে সেই টাকা দিয়ে চাল ক্রয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে তারা। অন্যদিকে সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম জানান, তিনি কৃষি ঋণ নিয়ে আমন চাষের জন্য বীজ উৎপাদন করেছিলেন। কিন্তু প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে বীজতলা ডুবে যায় এবং কিছু বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। যে পরিমাণ বীজ রয়েছে তা জমি অপেক্ষা অপ্রতুল্য। তাই বীজের খোঁজে নানা স্থান ঘুরাঘরি করে যে বীজ পাওয়া যায় তা ক্রয়সীমার বাইরে। এ সময় তিনি বলেন, এই রকম আরও অনেক চাষি রয়েছে, যাদের একমাত্র আয়ের উৎস্য এই কৃষিকাজ করা। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের যে পরিমাণ ধানের উৎপাদন প্রয়োজন, সেই লক্ষ্যমাত্র ব্যাহত হওয়ার শংকায় ভোগাচ্ছেন। অন্যদিকে একই উপজেলার চাঁদপুরা, চরমোনাই, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নগুলোতে একই অবস্থা বিরাজমান। চরমোনাই এলাকায় কৃষক মহব্বত আলী জানান, গত বছর থেকে এই বছর জমির পরিমাণ কম, তারপরেও পর্যাপ্ত বীজ না থাকার ফলে কিছু জমি খালি রাখতে হচ্ছে। যে জেলার উৎপাদিত ধান দেশের বিভিন্ন স্থানে যায় সেই জেলায় প্রতিকূল অবস্থার ফলে সেই রপ্তানিও ব্যাহত হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে জেলার সদর উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ১৩৪ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হবে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন চাল। বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৯ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়। তার বিপরীতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৫০৬ মেট্রিক টন চাল। উজিরপুর উপজেলায় ৭ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির আবাদের বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৫ হাজার ৯৩৫ মেট্রিক টন চাল। বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ২৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হবে। যার ফলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫৭ হাজার ২৯৬ মেট্রিকটন। অন্যদিকে গৌরনদী উপজেলায় ৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হবে। যার ফলে এর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার ২০৭ মেট্রিকটন। এছাড়াও আগৈলঝাড়া উপজেলায় ৫৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হবে। যার ফলে এই উপজেলার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন। এদিকে মুলাদী উপজেলায় ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হবে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৩৮৩ মেট্রিকটন। হিজলা উপজেলায় ১২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আবাদের বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৪৫ মেট্রিকটন। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ২১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হবে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুমান করা হয়েছে ৪১ হাজার ৪০৯ মেট্রিকটন। বানারীপাড়া উপজেলায় ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমির বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫৭২ মেট্রিকটন। এছাড়াও মেট্রো রূপাতলী এলাকায় ৭৫০ হেক্টর জমির বিপরীতে ১ হাজার ৬৬৫ মেট্রিকটন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানাগেছে, হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা উফশি জাত ২.৭২ মেট্রিকটন এবং স্থানীয় জাত ১.৬৫ মেট্রিকটন। এদিকে গত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে দেখা গেছে ১১ লক্ষ ৮ হাজার ৩৭১ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৯৭৩ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। উপরের বিষয়গুলো সম্পর্কে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহা পরিচালক আব্দুল আজিজ ফরাজি জানান, জেলার সকল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা আমন ধান উৎপাদনের কৃষকদের মাঝে নানা রকম প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছে। এছাড়াও বৃষ্টিপাতের ফলে বীজ উৎপানে ব্যাহত হলেও, তার বিকল্প ব্যবস্থা এই অধিদপ্তর গ্রহণ করেছে। এছাড়াও সব উপজেলায় কর্মকর্তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় এই বছর প্রতিকূল পরিবেশের পরও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।