বিয়ের অনুষ্ঠানের ধুম

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ হঠাৎ করেই বরিশালে বেড়েছে বিয়ের অনুষ্ঠান। প্রচন্ড গরমের মধ্যেও শুধু মাত্র নগরীর মধ্যেই গড়ে ১০টির বেশি বিয়ে হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি মাসে মুলমান বা অন্য সম্প্রদায়ের থেকেও হিন্দু বিয়ে বেশি হচ্ছে। এমনটিই নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিয়ে নগরীর চার দিকে বিয়ের ধুমপড়ায় বিউটি পারলার এবং কমিউনিটি সেন্টার গুলোতেও বেড়েছে ব্যস্ততা। সকাল থেকে রাত পার্লার গুলোতে বৌ এবং পার্টি সাজ নিয়ে ব্যবস্থ সময় কাটাচ্ছেন বিউটিশিয়ানরা। এমনকি বিয়ে ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গান-বাজনায় সরগরম হচ্ছে কমিউনিটি সেন্টার ও বিভিন্ন এলাকার অলিগলি।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২০১৫ সনে চলতি মে মাসে হঠাৎ করেই বিয়ের অনুষ্ঠান বেড়ে গেছে। নগরীর বরিশাল ক্লাব, মহিলা ক্লাব, রজনিগন্ধা কমিউনিটি সেন্টার, রঙ্গন কমিউিনিটি সেন্টার সহ আশপাশের কমিউনিটি সেন্টার গুলোতে প্রতিদিনই বিয়ে এবং বিবাহ পরবর্তী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান লেগেই রয়েছে। ক্লাবে ছাড়াও নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ছাদে কিংবা খোলা যায়গায় প্যান্ডেল সাজিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করছেন বর এবং কনে পক্ষে। একদিকে ক্লাবে ভাড়া বেশি আবার ক্লাবের সিডিউল না পেয়েই পারিবারিক ভাবে বিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে বরিশাল ক্লাবের ইনচার্জ সদরুল উল্লাহ রয়েল পরিবর্তনকে জানান, চলতি মাসে বিয়ে অনুষ্ঠানের চাপ একটু বেশি বেড়েছে। প্রতিদিনই তাদের ক্লাবের নিচ এবং উপর তলায় বিয়ে ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হচ্ছে। চতলি মে মাসে বিয়ের চাপ একটু বেশি থাকবে বলেও জানান তিনি। রয়েল বলেন, চলতি মৌসুমে মুসলিমের থেকে হিন্দু বিয়ে বেশি হয়ে থাকছে। এর কারন মে মাসে হিন্দু বিয়ের লঙ্গ বেশি। বিয়ের আয়োজন এবং অনুষ্ঠান নিয়ে ঠিক একই দাবী জানিয়েছেন নগরীর মহিলা ক্লাব সহ অন্যান্য কমিউনিটি সেন্টার কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে বিয়ের অনুষ্ঠান বাড়ায় শুধুমাত্র ক্লাব গুলোতেই ব্যস্ততা বাড়েনি। বেড়েছে বিউটি পার্লার গুলোর কর্ম ব্যস্থতা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বধু সাজানোর কাজে ব্যবস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। তবে বৃহস্পতি, শুক্র এবং শনিবারে বিয়ের স্বাজ সজ্জার চাপ একটু বেশি হচ্ছে বলে জানান বিউটিশিয়ানরা।
নগরীর বগুড়া রোড কৃষ্ণচূড়া বিউটি পার্লার এন্ড স্পা’র পরিচালক ডা. বনলতা মুর্শিদা জানান, বর্তমান সময়ে বৌ সাজের চাপ একটু বেশি। বৌ সাজের পাশাপাশি পার্টি সাজও বেড়েছে। এর কারন হিসেবে তিনি বলেন, চলতি মাসে বিয়ের চাপ একটু বেশি। কেননা বিগত সময়ে দেশজুড়ে যে রাজনৈতিক অস্থিরাতা বিরাজ করছিলো। এর প্রভাব কিছুটা বিয়ে অনুষ্ঠানেও পড়ে। পরিবারের সদস্যরা ভালো একটু সময় এবং দেশের পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। সেই সুযোগটাই এখন কাজে লাগাচ্ছেন তারা। তাছাড়া সামনে শুরু হচ্ছে রমজান মাস। এই মাসে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তাই আগে ভাগেই বিয়ে এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করছেন পরিবারগুলো। যে কারনে তাদের বিউটি পার্লার গুলোতেও কর্মব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. বনলতা মুর্শিদা।