বিসিসি’র শ্রমিক-কর্মচারীর মুখে হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ফান্ড না থাকলেও সিটি কর্পোরেশনের দৈনিক মজুরী ভিত্তিক দেড় সহ¯্রাধীক শ্রমিক-কর্মচারীর মুখে হাসি ফোটালেন সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল। বোনাস দিতে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে ওইসব শ্রমিক-কর্মচারীদের হাসি মুখে উদ্যাপনে জন্য বকেয়া থাকা দুই মাসের বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। বিসিসি’র বিভিন্ন ফান্ড এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে ধার করা অর্থে মেয়র আহসান হাবিব কামাল তাদের বকেয়া পরিশোধ করছেন। আন্দোলন করতে এসেও মেয়র’র এমন উদ্যোগকে খুশি হয়ে হাসি মুখে ফিরে গেছেন শ্রমিকরা।
এর পূর্বে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুই মাসের বকেয়া বেতন এবং উৎসব ভাতার দাবীতে আন্দোলন শুরু করে বিসিসি দৈনিক মজুরী ভিত্তিক শ্রমিক ও কর্মচারীরা। তারা মেয়র এর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে মেয়র আন্দোলনকারীদের ডেকে নিয়ে তাদের সাথে কথা বলেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মচারী এবং শ্রমিক লীগ বিসিসি শাখার সভাপতি শানু জমাদ্দার বলেন, আমরা দেড় হাজারের বেশি দৈনিক মজুরী ভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারী। গত ২ মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। চলতি মাস শেষ হলে বকেয়া মাসের সংখ্যা হবে ৩ মাস। তার মধ্যে সামনে ঈদ। কিন্তু স্ত্রী-সন্তানদের ঈদের পোশাকতো দুরের কথা একটু শেমাই’র ব্যবস্থাও করতে পারিনি। এজন্যই আমরা আন্দোলন শুরু করেছিলাম। কিন্তু মেয়র মহোদয় আমাদের দাবী মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি উৎসব ভাতা প্রদানে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। তবে বকেয়া দুই মাসের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন। বকেয়া বেতন পেলে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানো যাবে। অবশ্য এবার ঈদে উৎসব ভাতা না দিলেও আগামী কোরবানীর ঈদে উৎসব ভাতা প্রদান করবেন বলে মজুরী ভিত্তিক শ্রমিক কর্মচারীদের আশ্বস্থ করেছেন মেয়র।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল বলেন, ফান্ডে টাকা নেই। তাই বকেয়া পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। তার পরেও সামনে ঈদ। তাই শ্রমিক-কর্মচারীদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও তাদের জন্য ব্যবস্থা করা উচিৎ। এজন্য কষ্ট করে হলেও কাউন্সিলরদের নিয়ে বসে তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাছাড়া আগামী কোরবানীতে উৎসব ভাতা দেয়ার চেষ্টা করবেন। এজন্য শ্রমিক-কর্মচারীদের আদায় এবং নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতেও আহ্বান জানান তিনি।