বিসিসির যানবাহন শাখার অবৈধ অটোরিক্সা বিরোধী অভিযানের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কোরবানীকে সামনে রেখে চাঁদাবাজীতে মেতে উঠেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন লাইসেন্স শাখার দুই কর্মকর্তা। প্রায় প্রতিদিন নগরীতে অবৈধ অটোরিক্সা বিরোধী অভিযানের নামে মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজী করছে তারা। গতকালও অফিস সময়ের পরে সিনিয়র কর্মকর্তা বা ম্যাজিষ্ট্রেট এর অনুপস্থিতিতে ৩০টি অটো আটক করে ঈদ সেলামি রেখে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তারা।
একাধিক সূত্রে জানাগেছে, কোরবানীকে সামনে রেখে জমজমাট চাঁদাবাজী শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন শাখার তত্ত্বাবধায়ক মাঈনুল ইসলাম মনির ও লাইসেন্স পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম মানিক। অভিযানের নামে তারা নগরীর অবৈধ ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা আটক করে উৎকোচের মাধ্যমে ছেড়ে দিচ্ছেন। গতকাল বিকেলে নগরীর কাকলির মোড়, সদর রোড ও নগর ভবনের সামনে কথিত অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০টি অটোরিক্সা আটকের পরে ছেড়ে দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিসিসি’র যানবাহন লাইসেন্স শাখার কয়েকটি সূত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, অভিযান পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই বিসিসি’র নির্ধারিত ম্যাজিস্ট্রেট অথবা সিনিয়র কর্মকর্তার উপস্থিতি থাকতে হবে। তাদের উপস্থিতিতে অভিযান বা অবৈধ যানবাহন আটক করা যাবে। কিন্তু গতকাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এমনকি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মস্থলে ছিলোনা। সেই সুযোগে যানবাহন শাখার লাইসেন্স পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম মানিক নগরীতে কথিত অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০টি অটোরিক্সা আটক করে। পরে অটোরিক্সার মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে সর্বনি¤œ ৫শ থেকে দুই হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়ে অটোগুলো ছেড়ে দিয়েছে। কথিত অভিযানে হাতিয়ে নেয়া উৎকোচের অর্থ যানবাহন শাখার মাঈনুল ইসলাম মনির ও আতিকুল ইসলাম আতিক সহ সংশ্লিষ্টরা হাতিয়ে নিলেও আটকের বিষয়টি অবগত নন নগর ভবনের মেয়র বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এদিকে শুধু গতকালই নয়, বিগত দিন থেকেই মাঈনুল ও আতিক অটোরিক্সার মাধ্যমে অনিয়ম এবং দুর্নীতিতে মেতে রয়েছেন। বিশেষ করে লাইসেন্স পরিদর্শক আতিকুর রহমান মানিক শাখার পক্ষ থেকে উৎকোচ গ্রহন ও অনিয়মের আকড়াখানা বানিয়ে রেখেছে যানবাহন শাখাকে।
বিসিসি’র একাধিক সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে চাকুরী ফিরে পেয়ে নগর ভবনের যানবাহন শাখার দায়িত্ব বুঝে নেন মাঈনুল ও আতিক। মিষ্টি হাসির আড়ালে এই দুই কর্মকর্তা যোগ দানের খুব অল্প সময়ে কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। সূত্রটি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান মেয়র দায়িত্ব গ্রহনের পরে কিছু অটোরিক্সার লাইসেন্স প্রদান করেছেন। প্রতিটি লাইসেন্স প্রদান কালে মাঈনুল এবং মানিক প্রতি লাইসেন্স থেকে ২০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়। এছাড়া লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলেই তাদের মৌখিক ভাউচারের মাধ্যমে যানবাহন মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এমনকি খোড়া অযুহাতে রিক্সা অটোরিক্সা ও শ্রমিকদের লাইসেন্স আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায় করছে। এই দুই কর্মকর্তার নেতৃত্বে নগরীতে বেশ কিছু অবৈধ অটোরিক্সা চলাচল করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এদের মধ্যে আতিক অনিয়ম এবং দুর্নীতিতে শীর্ষ স্থানে রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। আর এসব করে যেই আতিকুল ইসলাম মানিক চাকুরীতে যোগদানের সময় চালাতেন লক্কর ঝক্কর মার্কা মোটর সাইকেল। সেই মানিক এখন প্রায় দুই লক্ষ টাকার পালসার মোটর সাইকেলে চলাচল করেন। যোগদানের পরে তৃতীয় শ্রেনীর এসব কর্মচারীদের মনিটরিং না করার ফলেই সিটি কর্পোরেশন এখন অনিয়ম এবং দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে এখনই সিটি মেয়র এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নজর দেয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন পুরাতনরা।
এ বিষয়ে যানবাহন পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম মানিক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে অভিযান চালানো হচ্ছে তা উপরস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশেই করা হচ্ছে। তবে ঘুষ গ্রহনের কোন ঘটনা ঘটেনি। অবৈধ অটোরিক্সা থেকে যে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে তা বিসিসি’র ফান্ডে জমা দেয়া হচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি।