বিসিসি’র বিএনপিপন্থি ৬ কাউন্সিলর বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সরকার বিরোধী আন্দোলনে নাশকতা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামী হওয়ায় সাময়িকভাবে বহিস্কার হয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিএনপিপন্থি ৬ কাউন্সিলর। গতকাল মঙ্গলবার ২৭ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সিটি কর্পোরেশন শাখা-১ এর উপ সচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদেরকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। সাময়িক বহিস্কৃতরা হলেন- মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও বিসিসি’র ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদ, নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও বিসিসি’র ২৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়া উদ্দিন সিকদার জিয়া, বিএনপি’র দু’জন যুগ্ম সম্পাদক ও ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ আকবর ও ১৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার এবং সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতি এবং মহানগর বিএনপি’র সদস্য ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান সাময়িক বহিস্কারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে মঙ্গলবার বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বহিস্কৃত বিএনপিপন্থি কাউন্সিলররা কেউ মন্ত্রনালয় থেকে জারিকৃত আদেশের পত্র পাননি বলে দাবী করেছেন।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯ এর ১২ এর ১ উপধারায় উল্লেখ আছে যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রয়েছে তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা যাবে। ধারা অনুযায়ী যাদের বিরুদ্ধে ফৌজধারী বিধি অনুযায়ী মামলা এবং চার্জশিট রয়েছে সম্প্রতি মন্ত্রনালয় থেকে তাদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়। সে অনুযায়ী আমরা একটি তালিকা মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করেছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রনালয় থেকে বিধি মোতাবেক তালিকার মধ্যে থেকে ৬ জন ফৌজধারী মামলার আসামী এবং চার্জশিটভুক্ত ৬ কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মামলা নিস্পত্তি না হওয়া এবং পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত মন্ত্রনালয় থেকে জারিকৃত বহিস্কারাদেশ স্বাভাবিক থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, মঙ্গলবার মন্ত্রনালয়ে সকল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় যোগদান করতে গিয়ে মন্ত্রনালয় থেকেই বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হন। তবে ই-মেইল এবং ফ্যাক্স বার্তায় আদেশের কপি বিসিসিতে প্রেরন করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিসিসি সূত্রে জানাগেছে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাধারন কাউন্সিলর পদে ১ জন জামায়াতপন্থি সহ ২৫ বিএনপি পন্থি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এর বাইরে মহিলা কাউন্সিলর পদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিএনপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচিত কাউন্সিলদের মধ্যে প্রায় সকলেরই মহানগর বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। শুধু তাই নয়, সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্বও দিয়েছেন বিএনপিপন্থি কাউন্সিলররা। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি’র হরতাল এবং লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে লঞ্চ সহ বিভিন্ন যানবাহন, সড়কে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ এবং নাশকতার দায়ে অধিকাংশ বিএনপিপন্থি কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। এমনকি পুলিশের দায়েরকৃত ওই মামলায় বিএনপি নেতা-কাউন্সিলরদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। যদিও বিএনপি কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে এসব মামলাকে রাজনৈতিক মামলা বলে অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি মন্ত্রনালয় থেকে বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য চেয়ে বিসিসি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হলে চার্জশিট ভুক্ত বিএনপি-জামায়াত সহ ১২ কাউন্সিলরদের তালিকা মন্ত্রনালয় প্রেরন করা হয়। এর মধ্যে ১১ জন বিএনপি-জামায়াতপন্থি কাউন্সিলর।
এদিকে আদালত সূত্রে জানাগেছে, যাদের বহিস্কার করা হয়েছে তাদের মধ্যে সর্বশেষ চারজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলার চার্চশিট দাখিল করেছে পুলিশ। নগরীর শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর ঢালে ট্রাকে এবং বরিশাল নৌ বন্দরে সুন্দরবন লঞ্চে অগ্নিসংযোগের মামলায় চার্জশিটভুক্ত ওই চার কাউন্সিলর হলেন মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, যুগ্ম সম্পাদক মীর জাহিদুল কবির জাহিদ এবং কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার। এর পূর্বে আরো এক মামলায় বিএনপি নেতা এবং কাউন্সিলর সৈয়দ আকবর এবং হারুন অর রশিদকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা।
বরখাস্ত হওয়ার বিষয়ে বিএনপি’র মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এখন পর্যন্ত বরখাস্তের আদেশ হাতে পাইনি। তবে বর্তমান সরকারের জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমরা মামলার আসামী হয়েছি। এমনকি আমাদের বহিস্কারের বিষয়টিও বর্তমান অগণতান্ত্রিক শেখ হাসিনা সরকারের জুলুম-নির্যাতনের একটি অংশ। বিএনপিপন্থি কাউন্সিলরদের বরখাস্তের বিষয়ে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে বহিস্কারের বিষয়টি আমি শুনতে পেরেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া কোন চিঠি আমি পাইনি। পেলে বিস্তারিত বলা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।