বিসিসির কাছে পাওনা আদায়ে সড়কে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন যানবাহনের তেল বন্ধ

রুবেল খান ॥ কোটি কোটি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের জন্য সিটি কর্পোরেশনের সড়কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন শুরু করেছে ওজোপাডিকো। গতকাল সোমবার নগরীর ৫ অঞ্চলের সড়কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে পাঁচ অঞ্চলের সড়কে রাতে জ্বলেনি আলো। শুধু বিদ্যুৎ নয়, এর আগে বকেয়ার কারনে সিটির যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবেক মেয়র ও প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরন প্রতিটি এলাকা এবং সড়কে বিজলি বাতি সহ বিভিন্ন বাতি স্থাপনের মাধ্যমে আলোকিত করেন রাতের নগরী। এতে করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল গুনতে হচ্ছে বিসিসিকে। শওকত হোসেন হিরন মেয়র থাকা কালে প্রথম দিকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। কিন্তু নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্ত থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ বন্ধ হয়ে যায়। নতুন নির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামাল দায়িত্ব গ্রহনের পর এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারেননি। যার ফলে বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার পরিমান পাহার সমান হয়ে দাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী দুটি বিভাগ মিলিয়ে বিসিসি’র বকেয় প্রায় সাড়ে ২২ কোটি টাকা। তবে বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার পাহাড় জমার পেছনের কারন হিসেবে বরাদ্দ এবং বিসিসি’র নিজস্ব আয় কম থাকাকেই দায়ি করছেন নগর কর্তৃপক্ষ।
জানতে চাইলে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি’র বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন জানান, বিভাগ-২ এর কাছে বিসিসি’র ৯ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। একাধিক বার টাকা পরিশোধের নোটিশ, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি এবং লিগাল নোটিশ দেয়ার পরেও বকেয়া টাকা পরিশোধ করেনি বিসিসি কর্তৃপক্ষ। তাই সোমবার রাতে বিসিসি’র ৫ অঞ্চলের সড়কের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো– আমানতগঞ্জ, কাউনিয়া বিসিক, বিএম কলেজ সড়ক এবং বারৈজ্যার হাট।
তিনি আরো জানান, আপাতত পাঁচ অঞ্চলের সড়কের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এর পরেও বকেয়া পরিশোধ না করা হলে তাদের আওতাধীন অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক এবং পানির পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
বিদ্যুৎ বিক্রয় এবং বিতরন কেন্দ্র-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম তারিকুল ইসলাম জানান, বিসিসি কাছে তারা প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা। বিল পরিশোধের জন্য একাধিকবার নোটিশ দিয়েছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এ জন্য সোমবার তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযানের পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু বিসিসি’র বর্তমান সচিবের অনুরোধে আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে সিটি মেয়র নগরীতে ফিরলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী।
সরেজিমেনে দেখা গেছে, রাস্তায় বাতি না থাকায় বিএম কলেজ, বিসিক, আমানতগঞ্জ এবং বারৈজ্যার হাট এলাকা সেই পূর্বের অবস্থানে ফিরে গেছে। এসব এলাকার সড়কে বাতি না বন্ধ থাকায় অন্ধকার পুরিতে পরিনত হয়েছে। এসব এলাকার কোন কোন স্থানে হাটতে গেলে টর্স লাইট ব্যবহার করতে হচ্ছে পথচারীদের।
অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে নগর ভবনে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স গোলাম মাওলা এন্ড কোম্পানী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী নগরীর স্টিমার ঘাটের মেসার্স গোলাম মাওলা এন্ড কোম্পানী কর্তৃপক্ষ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তারা বলেন, পূর্বে ঠিক ভাবেই জ্বালানি তেলের টাকা পরিশোধ করেছে বিসিসি। কিন্তু বর্তমানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় এখন বিল পরিশোধে একটু ঝামেলা হচ্ছে। যে কারনে কিছু টাকা বকেয়া হয়েছে। এজন্য তারা পূর্বে তারা যে পরিমান পেট্রোল, মবিল, ডিজেল সরবরাহ দিতেন তার পরিমান এখন অনেকাংশে কমিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন এ বিষয়ে আমার কিছু যানা সেই। বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের জন্য বলেন।
বিসিসি’র দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি আমি শুনেছি। এমনকি বিদ্যুৎ বিলের টাকা বকেয়া থাকার বিষয়টিও সত্যি। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় এই মুহুর্তে আমাদের পক্ষে বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়। তাছাড়া বকেয়া থাকার কারনে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন তিনি।