বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ষড়যন্ত্রে স্বপ্ন ভঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে এক কাতারে নিয়ে আসে ক্রিকেটাররা। তাদের নৈপুন্যে সবাই উৎসব করে। যেখানে থাকে না কোন ভেদাভেদ বা মত। বর্তমান সময়ের সকল প্রতিকুলতা পিছনে ফেলে “দেশবাসীর আনন্দে ভেসে যাওয়ার উৎসব” করা হয়নি, না ভুল লেখা হয়েছে। করতে দেয়া হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত খেলা নিয়ে যা হয়েছে তাতে “ষড়যন্ত্রে ! ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গ” হয়েছে। যে জয়ে বতর্মান চ্যাম্পিয়ন ও ক্রিকেট দুনিয়ায় শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত “ভারত” ও তার শতকোটি সমর্থকদের প্রান খোলা নয়, কাটা ও প্রশ্নবিদ্ধ আনন্দ এনে দিয়েছে। আর দরিদ্র এই দেশটার খেলোয়ার, কর্মকর্তাসহ ১৬ কোটি বাঙ্গালীকে দিয়েছে কষ্টের গর্ব। কারন তাদের কাছে হেরে যাওয়ার ভয়ে ভীত ভারত ও তাদের কর্তারা এবং আইসিসি পূর্ব থেকে পরিকল্পনা শুরু করেছে। যার নিকৃষ্ট প্রমান দিয়েছে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। ১১ জনের বাংলাদেশ দলকে খেলতে হলো ১৪ জনের বিরুদ্ধে। ভারতীয় দলের ১১ ক্রিকেটারের সঙ্গে তাদের হয়ে খেলেছেন মাঠের আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড, আলিম দার আর টিভি আম্পায়ার স্টিভ ডেভিস। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে বাংলাদেশের পরাজয় নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করেছেন মাঠের বিচারকরা। কঠোর সমালোচনা করে আইসিসির সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল তো পদত্যাগের সিদ্বান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তার কাছে “আইসিসি মানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল” নয়, এখন “ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল”বলে মনে হচ্ছে। ম্যাচটি হেরে যাওয়ার পেছনে মুস্তফা কামালও আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণকেই দায়ী করছেন।
ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি বলেন, “আইসিসি মানে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল হয়ে গেছে। আমি ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি নই। পরবর্তী বোর্ড মিটিংয়ে আমি এটা তুলব।” তিনি বলেন, “যা দেখলাম আম্পায়ারা আমাদের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিয়ে নেমেছিলেন, তাদের কোন কোয়ালিটি নেই।”
“প্রয়োজনে আমি আইসিসি সভাপতি থেকে পদত্যাগ করব। এটা কোনোভাবে মেনে নেব না, ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররাও এর প্রতিবাদ করেছে। এমনকি সারা বিশ্বের সাবেক ক্রিকেটার, বিশ্ব মিডিয়া এর প্রতিবাদ করছে।”
খেলার ৩৪তম ওভারে মাশরাফির বলে পরিস্কার এলবিডব্লিউ সুরেশ রায়না। খেলোয়াড়রা আম্পায়ার ইয়ান গোল্ডের কাছে জোরালো আবেদন করেন। কিন্তু আঙুল ওঠেনি ইংলিশ আম্পায়ারের। এরপর থার্ড আম্পায়ারের কাছে রিভিউ নেন মাশরাফি। স্টিভ ডেভিস বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। কিন্তু সুবিচার পেলেন না টাইগাররা। এলবিডব্লিউর ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, বল লেগ স্ট্যাম্পের লাইনের বাইরে ফেলা যাবে না। মাশরাফির করা বলটি যদি বাইরে পড়ত তাহলে প্রথম দফায়ই আবেদন নাকচ করে দেওয়া হতো। বলটি লেগ স্ট্যাম্পের একেবারে বাইরে ছিল না। তারপরও সিদ্ধান্তটি গেল ভারতের পক্ষে! বিতর্কের জন্ম দিলেন বিতর্কিত ইংলিশ আম্পায়ার। ষড়যন্ত্র এখানেই শেষ হয়নি। ইনিংসের ৪০ তম ওভারে রুবেলের বলে আম্পায়ারের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে আউট হয়েও বেঁচে যান রোহিত শর্মা! তখন রোহিতের সংগ্রহ ছিল ৯০ রান। রুবেলের ফুলটস বলে ডিপে ইমরুল কায়েসকে ক্যাচ তুলে দেন রোহিত। কিন্তু হাইটের কারণে তা নো বল দেন ইংল্যান্ডের আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড। এখানে পাকিস্তানি আম্পায়ার আলিম দারেরও হাত আছে। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি মোটেই নো ছিল না! এমনকি কোমরের থেকেও নিচে ছিল। আম্পায়ারের কল্যাণে নতুন জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি করেন রোহিত। বাংলাদেশকে ঠেলে দেওয়া হলো অন্ধকারে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ের সময়ও দেওয়া হলো ভুল সিদ্ধান্ত। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মাহমুদউল্লাহর ছয়ের মারকে ক্যাচ বলে রায় দিলেন ইয়ান গোল্ড।
সব বিপক্ষে যাওয়া ম্যাচে ১০৯ রানে হেরে বিদায় হলো বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ‘ভাগ্যবান’ রোহিত শর্মার শতকে ৬ উইকেটে ৩০২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে ভারত। প্রথমে চমৎকার বোলিংয়ে ভারতের ব্যাটসম্যানদের বেধে রেখেছিলেন বোলাররা। ৩৪তম ওভারের আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষাই বদলে যায়। হতবাক হওয়া ক্রিকেটারদের বোলিং-ফিল্ডিং সবই যায় এলোমেলো হয়ে। যার কারনে শেষ ১৫ ওভারে ১৪৭ রান তুলে বড় সংগ্রহ করে। তিনশ’ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। কেউই নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। তাই লক্ষ্যের ধারে-কাছে যেতে পারেনি তারা। ৪৫ ওভারে ১৯৩ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ৫০ ওভারে ৩০২/৬ (রোহিত ১৩৭, ধাওয়ান ৩০, কোহলি ৩, রাহানে ১৯, রায়না ৬৫, ধোনি ৬, জাদেজা ২৩, অশ্বিন ৩; ৩/৬৯, রুবেল ১/৫৬, সাকিব ১/৫৮, মাশরাফি ১/৬৯)
বাংলাদেশ: ৪৫ ওভারে ১৯৩ (তামিম ২৫, ইমরুল ৫, সৌম্য ২৯, মাহমুদুল্লাহ ২১, সাকিব ১০, মুশফিক ২৭, সাব্বির ৩০, নাসির ৩৫, মাশরাফি ১, রুবেল ০, তাসকিন ০*; উমেশ ৪/৩১, সামি ২/৩৭, জাদেজা ২/৪২, মোহিত ১/৩৬)
ম্যাচ সেরা: রোহিত শর্মা।