আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আয়োজন সম্পন্ন

রুবেল খান॥ নামে আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা হলেও যাত্রা, জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শনীর রমরমা আয়োজন নিয়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা। গতকাল উদ্বোধনী দিনেই চরম অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলেও পত্রিকা অফিসগুলোতে ন্যূনতম সৌজন্যবোধের পরিচয় দিয়ে নিমন্ত্রন কার্ড পর্যন্ত দেয়া হয়নি। মেলায় স্টলের চেয়ে যাত্রা, জুয়া ও ভ্যারাইটিজ শোর প্যান্ডেল নির্মানে ব্যাপক পরিসর দেয়া হয়েছে। মেলায় আন্তর্জাতিক মানের কোন পন্য সামগ্রী না থাকলেও রয়েছে যাত্রা, জুয়া ও অশ্লীলতার ব্যাপক আয়োজন। মন্ত্রনালয় থেকে এসবের অনুমোদন না দিলেও স্থানীয় প্রশাসনের একান্ত সহযোগিতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগেরবারও চরম অশ্লীলতা দিয়ে শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এবারও মেলায় গতবারের মত সকল ধরনের বানিজ্য মেলার বিধি বহির্ভুত আয়োজনগুলি রাখা হয়েছে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে শহরের মধ্যে এ ধরনের আয়োজন পরীক্ষার্থীদের ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করবে। সন্ধ্যার পর থেকে মাইকের উচ্চ আওয়াজ পরীক্ষার্থীদের মনোসংযোগে বাধার সৃষ্টি করবে। যার ফলে বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রমতে, বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের অনুমতিক্রমে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে নগরীর বান্দ রোড বিআইডব্লিউটিএ’র মেরিন ওয়ার্কশপ মাঠে শুরু হয়েছে মাস ব্যাপী আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা। তবে চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র আয়োজনে নামেমাত্র বানিজ্য মেলা হলেও এখানে নেই আন্তর্জাতিক মানের কোন পণ্য সামগ্রী। সরেজমিনে দেখাগেছে, মেলার মাঠে সর্বমোট একশোটি স্টল রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে বেশিরভাগ স্টলেই শোভা পেয়েছে নি¤œ মানের জুতা। ভুয়া নামে চটপটি’র দোকানের পাশাপাশি কিছু কসমেটিক্স প্রসাধনি আর গার্মেন্টস্ এর বাতিলকৃত কাপড়ের পোশাক দিয়ে সাজানো হয়েছে বানিজ্য মেলার স্টলগুলো। দর্শনার্থী এবং ব্যবসায়ীদের মতে ধোকাবাজি আর মানুষ ঠকানোর অভয়াশ্রম খোলা হয়েছে আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলায়। এদিকে বানিজ্য মেলায় আন্তর্জাতিক মানের কোন পন্য সামগ্রী না থাকলেও রয়েছে রয়েছে যাত্রা-জুয়া আর সকল প্রকার অশ্লীলতার ব্যাপক আয়োজন। স্বরাষ্ট্র কিংবা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় থেকে এসবের কোন অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সহযোগিতায় এসব যাত্রা-জুয়া, হাউজি এবং অশ্লীলতার জমজমাট আয়োজন চলছে। ইতোমধ্যে গতকাল উদ্বোধনী দিন থেকেই অনুমতি বিহীন যাত্রা, জুয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, বানিজ্য মেলার স্টলের পেছনেই বসেছে হাউজির আসর। নগরীর ৩০ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি-সম্পাদকের নামে পরিচালিত হচ্ছে অন্যতম জুয়া খেলা হাউজি। তার পাশেই সাজানো হয়েছে যাত্রা মঞ্চ। যাত্রাপালার নামে এখানে প্রস্তুতি চলছে অশ্লীল নৃত্যের। আর এর আয়োজনে রয়েছে শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দ। যাত্রা মঞ্চের পেছনে চার পাশে টিনের বেড়ার মাঝখানে আয়োজন চলছে ওয়ানটেন, চরকা, গুটি, শুটিং সহ অন্যসব জুয়ার আয়োজন। এই জুয়ার কোট পরিচালনা করবেন যুবলীগ নেতৃবৃন্দ। এর কিছুটা পাশেই রাস্তার ওপাশে স্থাপন করা হয়েছে র‌্যাফেল ড্র’র নামে ধোকাবাজির কারখানা। সেই সাথে একই স্থানে সাজানো হয়েছে বিচিত্রানুষ্ঠান ভারাইটিজ শো’র মঞ্চ। আজ থেকে এই মঞ্চে নাচবে নর্তকী। উলঙ্গ নৃত্য আর দেহ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়েই এর কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মঞ্চটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একাধিক সূত্র। ভ্যারাইটি শো’র নামে নর্তকীদের নগ্ন নৃত্য আর র‌্যাফেল ড্র’র নামে ধান্দাবাজি পরিচালনার দায়িত্বে থাকছে মহানগর ছাত্রলীগ। এমনটিই নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র। তবে বানিজ্য মেলার মাঠে অনুমোদন বিহীন এমন আয়োজন ভাবিয়ে তুলেছে বরিশালের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সহ সুধিজনদের। জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার আয়োজক বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিডেট এর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক বলেন, যাত্রা-জুয়ার বিষয়ে আমরা চেম্বার নেতৃবৃন্দ কিছু জানিনা। অনুমোদন নিয়ে আমরা শুধু মাত্র বানিজ্য মেলার আয়োজন করেছি। বাকি যাত্রা-জুয়ার আয়োজন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নেতারা।
তবে বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আফজালুল করিম জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আমরা মহানগর আওয়ামীলীগ যাত্রা-জুয়ার আয়োজন সম্পর্কে কিছুই জানিনা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বানিজ্য মেলার মাঠে আয়োজন চলছে। কিন্তু কাউনিয়ায় বেশ আগে থেকেই যাত্রা-জুয়ার নামে অশ্লীলতা চলছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অশ্লীলতা কিভাবে চলছে সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই নেতা। নগর আওয়ামীলীগের এই নেতার অভিযোগ যাত্রা-জুয়ার নামে অশ্লীলতার সাথে প্রশাসনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। যার ফলে তারাও চুপচাপ রয়েছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সাউথ) গোলাম আব্দুর রউফ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। উল্লেখ্য, বিভাগীয় এই শহরে সামাজিক বিনোদনের এমনিতেই অভাব রয়েছে। তবে বানিজ্য মেলার নামে অশ্লীল নৃত্য, জুয়া খেলার এসব আয়োজন সচেতন নগরবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে।