বিশেষ সার্ভিসের সঙ্গে বাড়লো লঞ্চ ভাড়াও

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে বিশেষ সার্ভিস শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়ে গেছে যাত্রী ভাড়াও। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অজুহাত দেখিয়ে সর্বনি¤œ একশ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ফের ভোগান্তিতে পড়তে হলো দক্ষিণাঞ্চলে নৌ রুটের কয়েক লাখ যাত্রীদের।
সূত্রমতে, বর্তমান সময়ে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে রোটেশন প্রথা নৌ মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতায় পরিনত হয়েছে। বৃহত্তর এই রুটে অত্যাধুনীক এবং বিলাহবহুল সহ একাধিক লঞ্চ রয়েছে। কিন্তু তার পরেও যাত্রীদের জিম্মি করে রোটেশন প্রথা জিইয়ে রেখেছেন লঞ্চ মালিকরা। অবশ্য রোটেশন প্রথার কারনে প্রতিদিন এক এক প্রান্ত থেকে সর্বচ্চ ৫টি লঞ্চ চললেও স্বাভাবিক দিনে ভাড়া তুলনামুলক কম রাখা হয়। যাত্রী পেতে এক প্রকার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে লঞ্চ ভাড়া কমিয়ে ফেলেন মালিক পক্ষ। বিশেষ করে ডেকের ভাড়া সর্বনি¤œ ১২০ টাকা থেকে দেড়শ টাকা রাখা হয় যাত্রীদের কাছ থেকে। এর পরেও নৌ টার্মিনালে যাত্রীদের নিয়ে টানা হেচড়া নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিনত হয়েছে।
এদিকে স্বাভাবিক দিনে রোটেশন প্রথা এবং ভাড়া কম রাখা হলেও ঈদ ও কুরবানীকে পুজি করে নিজেদের লোকসান পুষিয়ে নেন লঞ্চ মালিকরা। তথা কথিত বিশেষ সার্ভিসের নামে রোটেশন প্রথা ভেঙ্গে বরিশাল-ঢাকা রুটে ডাবল ট্রিপ চালু করে মালিকরা। সেই সঙ্গে পূর্বের ভাড়া কয়েক গুন বৃদ্ধি করে ফেলে। এর নমুনা প্রতি ঈদ এবং কোরবানী আসলেই দেখা যায়।ফলে বিষয়টি নিয়ে অনেকটা আলোচনার ঝড় তুললেও সে দিকে যেন কর্ণপাত হচ্ছে না সংশ্লিষ্টদের।
লঞ্চ মালিক সমিতি সূত্রে জানাগেছে, তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস শুরু হয়েছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অতিরিক্ত লঞ্চ আজ শুক্রবার সকালে বরিশাল নদী বন্দরে যাত্রী নামিয়ে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার নৌ বন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে যানা গেছে, নৌ রুটে বিশেষ সার্ভিস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চের ভাড়াও বেড়েগেছে একশ থেকে এক হাজার টাকা। বিশেষ করে ডেক শ্রেণির টিকেট ১৫০ টাকা থেকে এক লাফে ২৫০ টাকা হয়ে গেছে। ঠিক সেভাবেই বেড়েছে প্রথম শ্রেণির কেবিনের ভাড়াও। কেবিন এবং সোফায় শ্রেণি অনুযায়ী এক হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে এসি-নন এসি কেবিনের ভাড়া রাখা হত ৮ থেকে ৯শ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ভাড়া বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে এক হাজার থেকে ১১শ টাকা। ডাবল কেবিন ১৬শ থেকে ১৭ টাকার স্থলে এখন রাখা হচ্ছে সর্বনি¤œ ২ হাজার থেকে ২২শ টাকা। পাশাপাশি ভিআইপি ও ফ্যামিলী কেবিনের নতুন ভাড়া হিসেবে রাখা হচ্ছে সর্বনি¤œ সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। অবশ্য সরাসরি কাউন্ডার রেটে এমন মূল্যে কেবিনের ভাড়া এমন অবস্থায় থাকলেও বর্তমান দালালদের মাধ্যমে টিকেট পেতে গেলে গুনতে হয় আরো সর্বনি¤œ ৫শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। দালালদের কাছ থেকে পাওয়া কেবিনের টিকেট বিক্রির কিছু অংশ লঞ্চের কর্মকর্তারা পেয়ে থাকেন বলে দাবী দালালদের।
লঞ্চ ভাড়ার বৃদ্ধির প্রসঙ্গে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের বেশ কয়েকজন লঞ্চ মালিক বলেছেন তারা ভাড়া বৃদ্ধি করলেই নিয়মের ভেতরে থেকেই করেছেন। ঈদ মৌসুমে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয় না। সরকার নির্ধারিত ভাড়াই ঈদ এবং কোরবানীতে আদায় করে থাকেন তারা।
লঞ্চ মালিকরা আরো বলেন, স্বাভাবিক সময়ে লঞ্চে তেমন যাত্রী পাওয়া যায় না। ডেকে যাত্রী কম থাকলেও কেবিন নিয়ে সংকট এটা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। তাই মুলত ডেকের যাত্রীদের উপর নির্ভর করেই লঞ্চের সংখ্যা এবং ভাড়া কমবে না বাড়বে তা নির্ভর করে। তারা বলেণ, স্বাভাবিক সময়ে যাত্রীদের কাছ থেকে আমরা ভাড়া কম রাখি। এতে লাখ লাখ টাকা লোকশান দিতে হয়। তাই ঈদের মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে লোকশন কাটিয়ে উঠার চেষ্টা মাত্র।
তবে লঞ্চ যাত্রীদের অভিযোগ ভিন্ন। তারা বলেন, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ঈদ মৌসুমে যাত্রীদের ভির কয়েক গুন বেশি হয়ে থাকে। এতে করে তারা চাইলে ভাড়া আরো কমিয়ে নিতে পারে। কিন্তু তা না করে অতি লাভের আশায় যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। তার পরেও বাধ্য হয়ে গো-গাদাগাদির মধ্যে ঝুকি নিয়েই কর্মস্থল থেকে নিজ গ্রাম আবার গ্রাম ছেড়ে কর্মস্থলে ছুটতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন যাত্রীরা।