বিলাসবহুল সুরভী-৯ লঞ্চের যাত্রা শুরু আজ

জুবায়ের হোসেন॥ আজ ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রা শুরু করবে দেশের সর্বোচ্চ যাত্রী ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন লঞ্চ সুরভী-৯। অত্যাধুনিক ইঞ্জিন, প্রশস্ত কাঠামো এবং যাত্রীদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা সম্পন্ন এ লঞ্চ সন্ধ্যায় নির্ধারিত সময়ে বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রথম যাত্রা করবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। সুরভী গ্রুপ অব কোম্পানীর বেলতলা ফেরিঘাট এলাকার ডক ইয়ার্ডে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে এই লঞ্চ নির্মান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যাত্রার জন্য ফেরীঘাটে রয়েছে বিলাসবহুল সুরভী-৯ লঞ্চ। এই লঞ্চের সুপার ভাইজার আব্দুর রব পরিবর্তনকে জানান,সুরভী-৯ হচ্ছে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রশস্ত। এই রুটের সর্বোচ্চ তথা ২ হাজার ৫০০ যাত্রী ধারন ক্ষমতাসম্পন্ন এই লঞ্চ। দৈর্ঘ্যে ৩৫০ এবং প্রস্থে ৫০ ফুটের এই লঞ্চে আছে মোট ১২৬ প্রথম শ্রেনীর যাত্রীদের কক্ষ। এর মধ্যে দ্বৈত কক্ষ ৫৬টি, একক ৫৫টি, সেমি ভিআইপি ৪টি, ফ্যামিলি কক্ষ ৫টি এবং ভিআইপি কক্ষ ৬টি। দ্বিতীয় শ্রেনীর যাত্রীদের জন্য সোফা রয়েছে মোট ৩৪টি। লঞ্চে ৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র রয়েছে। ভিআইপি কক্ষের জন্য রয়েছে পৃথক শীতাতপ নিয়ন্ত্রন যন্ত্র। যাত্রীদের সুবিধার জন্য লঞ্চে রয়েছে প্রশস্ত বারান্দা ও সিড়ি যা একে দিয়েছে একটি রাজকীয় রূপ। এছাড়া লঞ্চের প্রতিটি কক্ষে অনেকটা খোলামেলা। এ রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ প্রশস্ত হওয়ায় ডেকের যাত্রীদের জন্যও এটি অনেক সুবিধাজনক। উন্নত খাবারের জন্য ক্যান্টিন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য খেলার ব্যবস্থা, অসুস্থ যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত শৌচাগার সহ নানা আধুনিক সুযোগ সুবিধা ছাড়াও রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আব্দুর রব জানান, শ্রেণি ভিত্তিতে যাত্রীদের জন্য দুটি ক্যান্টিন থাকবে। পুরো লঞ্চে যাত্রী সেবা দেয়ার জন্য মোট কর্মরত কেবিন ক্রু থাকবে সব মিলিয়ে ৭৫ জন। নিরাপত্তার জন্য থাকবে ৬ জন আনসার সদস্য ও ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র। লঞ্চে মোট বয়ার সংখ্যা ৫০০। তবে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য সাজানো থাকবে ৩৬৫টি। আছে অগ্নি নির্বাপনের যন্ত্র। লঞ্চ চলাচলের জন্য সুদক্ষ মাষ্টার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। লঞ্চের সাজ সজ্জায় চীন থেকে আমদানিকৃত দরজা, মূল্যবান আলোকসজ্জা ও দেয়ালচিত্র ব্যতিক্রমী অবয়ব এনেছে। যা যাত্রীদের মুগ্ধ করবে। চলালের সময় দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার জন্য রয়েছে রাডার, ইকো সাউন্ডার, ফ্রন্টলাইট ও হাইড্রোলিক ব্রেক। বিশালাকার এই লঞ্চের নির্ঝঞ্ঝাট চলাচলের জন্য এতে আছে ২ হাজার ৫০০ হর্স পাওয়ার ২টি শক্তিশালী ইঞ্জিন। নদী পথে ভ্রমন বিলাসী সকল শ্রেণির যাত্রীদের জন্য এই লঞ্চটি হবে সেরা নৌযান।
সুরভী-৯ এর সত্ত্বাধিকারী রিয়াজুল কবির বলেন, আড়াই বছর পরিশ্রমের পড়ে আজ সুরভী-৯ যাত্রার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দুই মাস পূর্বে ডক থেকে লঞ্চটিকে নদীতে নামানো হয়েছে। এটিকে তৈরি করা হয়েছে পুরোপুরিই যাত্রীদের যথাসাধ্য সকল সুবিধা দেয়ার মত করে। ঢাকা-বরিশাল রুটে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীদের জন্য এটিই সর্বোচ্চ সুবিধা সম্পন্ন লঞ্চ বলেও জানান তিনি।