বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু শুকরিয়াকে বাঁচাতে এক মায়ের আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মাত্র ছয় বছর বয়সের শিশু শুকরিয়া। সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ছয়মাইল রাজমাথা এলাকার অসহায় হানিফ হাওলাদার ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম তার। কুড়ে ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয়ায় বাবা-মা খুশি হয়ে তার নাম রেখেছিলো শুকরিয়া। কিন্তু সেই নিঃস্পাপ অবুঝ শিশুটিই এখন পরিবারের বড় বোঝা। জন্মের মাত্র তিন মাস বয়স থেকে অজানা দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত শিশুটি এখন প্রতিবন্ধি প্রায়। তার দুটি পা সোজা হয়ে একটি অপরটির উপর উঠে গেছে। পায়ের অংশ বাকা হয়ে পেছনের দিকে চলে গেছে। হাত দুটিও শক্ত হয়ে আছে। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না শুকরিয়ার। তার মধ্যে ভ্যান চালক বাবাও অসুস্থ, সংসারে রয়েছে আরো দুটি ছোট বোন। সংসারে উপার্জনের একমাত্র সম্বল মা আনোয়ারা বেগম। এক দিকে অসুস্থ শিশু পুত্র, অন্যদিকে অসুস্থ স্বামী। দু’জনের চিকিৎসার কথা ভাবতে গিয়ে চার দিক অন্ধকার হয়ে আসছে তার। তাইতো অসহায় মা সন্তানের চিকিৎসার অর্থ জোগান দিতে অসুস্থ শুকরিয়াকে নিয়েই ভিক্ষার হাত পাতছেন। রাস্তার ধারে, বাস টার্মিনাল কিংবা হাসপাতালের মধ্যে অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবন্ধি প্রায় শিশু সন্তানকে দেখিয়ে ভিক্ষা করছেন তিনি। কিন্তু ভিক্ষা করে যা পাচ্ছেন তা দিয়ে সন্তানের চিকিৎসা তো দুরের কথা পেটে ভাত দিতেও পারছেন না তিনি। তার মধ্যেও অবুঝ শিশু সন্তানকে স্বাভাবিক জীবনে দেখতে চাচ্ছেন তিনি।
শিশুটির মা আনোয়ারা বেগম জানান, ২০১১ সালে হানিফ হাওলাদারের সাথে বিয়ে হয় তার। বিয়ের এক বছরের মাথায় জন্ম নেয় শুকরিয়া। এর পর ভালই ছিলো শুকরিয়া। কিন্তু জন্মের তিন মাসের মাথায় হঠাৎ করে জ্বর আসে তার। যা অনবরত ছিলো।
তিনি বলেন, আমার স্বামী ভ্যান চালক। তিনি নিজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তাই অর্থাভাবে শুকরিয়াকে ভালো চিকিৎসকের কাছে নিতে পারিনি। গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা জ্বরের ওষুধ দেয়। বলেছিলো অন্য কোথাও নিতে হবে না, জ্বর ভালো হয়ে যাবে। কিš ‘শুকরিয়া আর ভালো হয়ে উঠলো না। বরং ৪ থেকে ৫ মাস বয়সে সে প্রতিবন্ধিতে রূপ নেয়। দুটি পা একদম সোজা হয়ে একটি অপরটির উপরে উঠে গেছে। হাত দুটি শক্ত হয়ে গেছে। মাথা এবং পায়ের অংশ বাকা হয়ে পেছনের দিকে চলে গিয়ে কোমড়ের অংশ সামনের দিকে এগিয়ে গেছে। কেউ বলছে এটি ধনুষ্টংকার আবার কেউ বলছেন বিরল রোগ। আবার কেউ বলছে, গ্রাম্য হাতুড়ে চিকিৎসকের অপ চিকিৎসা এবং ঝারফুকের কারনে শিশুর এমন পরিনতি।
আনোয়ারা বেগম বলেন, শুকরিয়ার ফুফু তাকে ঢাকার এক ওজার কাছে নিয়ে গিয়েছিলো। ওই ওঝা ঝারফুক ও তেল মালিক দিয়ে বলেছিলো এগুলো ব্যবহারে সুকরিয়া ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। সন্তান আমার প্রতিবন্ধি অবস্থায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়লো। সন্তানের এমন করুণ পরিনতির কথা বলতে গিয়ে অশ্রু ঝড়া দুটি চোখে বার বার বলেন, আমি কি পাপ করেছি যে কারনে আমার বাবার এমন শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও ওকে বাঁচানোর জন্য আমি প্রস্তুত। কিন্তু অর্থের অভাব ওকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন ক্রমশই ফুরিয়ে আসছে। ওকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছেও যেতে পারছি না। কিন্তু করবো বুঝে উঠতে পারছি না। স্থানীয়দের কাছে হাত পেতেও কোন লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ভিক্ষার থালা হাতে নিতে হয়েছে। অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত শিশুর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বৃত্তবান এবং সহৃদয়বানদের কাছে সহযোগিতাও চেয়েছেন অসহায় এই মা। ০১৯৯৯৬৫৮১০৬ এই নাম্বারটিতে যোগাযোগের জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন এই হতভাগী মা।