বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারে নগরীর হোল্ডিংয়ে ডিজিটাল প্লেট স্থাপন বন্ধ, অনলাইনে সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর প্রত্যেক হোল্ডিংয়ের মালিকসহ যাবতীয় তথ্য হাতের মুঠোয় চলে আসছে। শুধু নগরী নয়, বিশ্বের যে কোন স্থান থেকেও তথ্য জানতে পারবে। নগরীর প্রত্যেকটি হোল্ডিংয়ের তথ্য ডিজিটাইলজ করার মাধ্যমে অনলাইনে দেয়ার পর ওই সুবিধা পাওয়া যাবে। যার কাজ শুর”র পর অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য আপাতত বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই জন্য প্রত্যেকটি হোল্ডিংয়ে গ্যালভানাইজড সীট ( যা ডিজিটাল প্লেট হিসেবে পরিচিত) বসানো হবে। এর আগে প্রত্যেকটি হোল্ডিংয়ের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই কাজটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান “আরবান ডেভলপমেন্ট এন্ড র”রাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।
নগরীর প্রজেক্ট অর্গানাইজার মো. জামাল উদ্দিন জানান, সিটি কর্পোরেশনের প্রত্যেকটি হোল্ডিংয়ের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ ও ডিজিটাল প্লেট বসানোর জন্য তাদের সাথে নগর ভবনের একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ ৬ মাস। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ওয়েব সাইটের সাব-ডোমেইন ব্যবহার করে সকল তথ্য সংযুক্ত করা হবে। এতে যে কেউ যে কোন স্থান থেকে নগরীর প্রতিটি হোল্ডিং সম্পর্কে সকল তথ্য পাবেন।
তিনি জানান, এই কাজে প্রত্যেকটি হোল্ডিংয়ের জন্য অনলাইনে আলাদা ডাটাবেইজ (পরিচয়) থাকবে। শুধু সার্চ দিলেই হোল্ডিংয়ের ধরন, মালিক, জনসংখ্যাসহ সকল তথ্য পাওয়া যাবে।
কয়েকদিন পূর্বে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুর” হয়েছে। এই জন্য প্রতিষ্ঠানটি নগরীর প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ করতে ৪০ উর্ধ্ব  শিক্ষিতদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়োগ করেছে। তারা তথ্য সংগ্রহের জন্য কাজ শুর”র পর কতিপয় লোক বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে গত ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
প্রজেক্ট অর্গানাইজার জানান, ডিজিটাল প্লেট বসানোর সময় নির্বাহী খরচ হিসেবে মাত্র ২৫০ টাকা নেয়া হবে। এছাড়া কোন বাড়তি অর্থ নেয়া হবে না। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অর্গানাইজার জামাল উদ্দিন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওই কাজ চলছে জানিয়ে বলেন, সেখানে প্রতিটি হোল্ডিংয়ে ডিজিটাল প্লেট বসানো হচ্ছে। এই জন্য নির্বাহী খরচ হিসেবে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিংয়ে মালিকদের কাছ থেকে নেয়া হয় ৩৭০ টাকা। একইভাবে উত্তর সিটি কর্পোরেশনে নেয়া হচ্ছে ৩৬৫ টাকা।
বরিশাল নগরীতে অনেক কম নেয়ার পরেও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আধুনিকায়নের কাজটি পন্ড করে দিতে একটি মহল কাজ করছে। বিভ্রান্তি বা অপপ্রচারের শিকার না হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বরিশাল নগরবাসীর কাছ থেকে ডিজিটাল প্লেট বসানোর সময় ওই ২৫০ টাকা রশিদের মাধ্যমে নেয়া হবে।
তিনি বলেন, সবকিছু অনলাইনে এলে দ্র”ত যেকোন নাগরিক সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়াও এর মাধ্যমে প্রত্যেক হোল্ডিং মালিকগনকে দেয়া হিসাব নম্বরের বিপরীতে সহজেই নগর কর জমা দিতে পারবেন। যে কোন দেশ থেকে হোল্ডিংয়ের অবস্থানসহ তথ্যাবলি জানতে পারবে। এতে বাসা ভাড়া দেয়া বা বিক্রিসহ সকল কার্যক্রম দ্র”তগতিতে হবে ও সহজ হবে।
এর মাধ্যমে নগরীর কোথায় কি আছে তা অনলাইনের মাধ্যমে জানা যাবে।