বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু ‘আলিফ ও কবিরাজ’ বাহিনীর আত্মসমর্পন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ এবার পটুয়াখালীতে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি’র কাছে ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ১শ’ ১০ রাউন্ড গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পন করেছেন সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু ‘আলিফ ও কবিরাজ’ বাহিনী প্রধান সহ তাদের ২৫ সহযোগী। আত্মসর্পণকারী জলদস্যুরা হলেন, আলিফ বাহিনীর প্রধান মো. আলিফ মোল¬া ওরফে দয়াল (৪২), মো. রেজাউল ইসলাম শেখ ওরফে ছোট (২৮), মো. সফিনুর রহমান সফি (২০), মো. আব্দুল¬াহ্ আল মামুন ওরফে আব্দুল¬া (৪০), মো. হযরত আলী বরকন্দাক ওরফে জামাই গুটি (৩৮), মো. শাহিনুর আলম ওরফে শাহিন(২৯), মো. জামির আলী জামু (৪৬), মো. আলামিন মোল¬া (৩৫), মো. তাইজেল ওরফে বড় ভাই (২৭), মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে সুমন (৪১), মো. আলমগীর গাজী (২৬)। মো. কামাল শেখ (৩৮), মো. হোসেন আলী শেখ ওরফে ভাগ্নে (২৮), মো. সেলিম মোড়ল (৩৯), মো. হযরত আলী গাইন ওরফে আঙ্গুল কাটা হযরত (৩৯), মো. পিয়ার আলী (৩৭), মো. লিটন বিশ্বাস ওরফে দেওয়ান (৩২), মো. হাবিবুর রহমান ওরফে বাছা (২৭), মো. এনামুল গাজি ওরফে এনা (৩৫)। এছাড়া কবিরাজ বাহিনীর প্রধান মো. ইউনুস আলী ওরফে কবিরাজ ওরফে লাদেন (৩৮), মো. নাজিম শেখ (৪৮), মো. আফতাব উদ্দিন ফকির ওরফে বেয়াই (৩৩), মো. আবু শেখ (৪৬), মো. সেলিম হাওলাদার (৩০), মো. আশরাফ হোসেম ওরফে রাজু (৩৭)। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমী হলে এক অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পন করেন তারা। এ সময় আলিফ বাহিনীর প্রধান আলীফ ওরফে দয়াল এবং কবিরাজ বাহিনীর প্রধান ইউনুস আলী মোল্লা স্বরাস্ট্র মন্ত্রী তথা সরকারের কাছে তাদের জীবন ভিক্ষা চান এবং ফের অন্ধকার জগতে ফিরে না যাওয়ার ওয়াদা করেন। একই অনুষ্ঠানে গত ৩০ মার্চ বরিশালে র‌্যাব অফিসে (স্বরাস্ট্র মন্ত্রীর কাছে) আত্মসমর্পন করা সুন্দরবনের ছোট রাজু বাহিনীর ১৫ সদস্য ও তাদের পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ অনুদান দেন স্বরাস্ট্র মন্ত্রী। এ নিয়ে গত বছরের ৩১ মে থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ১১ দফায় ১২ জলদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ১৩২জন সদস্য ২৪৭টি অস্ত্র এবং ১২ হাজার ৪শ’ ৯০ রাউন্ড গুলি জমা দিয়ে র‌্যাব-৮’র মাধ্যমে স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পন করেন। র‌্যাব-৮ অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আনোয়ার-উজ জামানের সভাপতিত্বে অস্ত্র সমর্পন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, র‌্যাব প্রাথমিকভাবে সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় দস্যু বিরোধী অভিযান জোড়দার করেছে। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হওয়ার পর পূর্বাঞ্চলে হাতিয়া-সন্দিপ এলাকায় জোড়দার অভিযান চালাবে র‌্যাব। র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, আগে আমাদের মাথাপিচু গড় আয় ছিলো ৬শ’ ডলার। এখন মাথাপিচু গড় আয় দাড়িয়েছে ১৫শ’ ডলারে। এমন একটি দেশে জলদস্যু-বনদস্যু থাকবে এটা মেনে নেয়া যায়না। যারা জলদস্যু-বনদস্যুদের ইন্ধন দিচ্ছে, কিংবা পেছন থেকে রসদ যোগান দিচ্ছে তাদেরও ভয়াবহ পরিনতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুশিয়ারী দেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেন, কয়েক লাখ জেলে সুন্দরবন সংলগ্ন সমূদ্রে মাছ শিকার এবং লাখো বাওয়ালী সুন্দরবনে গোলপাতা সহ কাঠ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দস্যুরা তাদের জীবন অস্টি করে তুলেছিলো। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জোড়ালো অভিযানে দস্যুরা এখন কোনঠাসা। অনেকেই সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পন করেছে। এখনও সক্রিয় কিংবা নিস্ক্রিয় যেসব দস্যু বাহিনী রয়েছে, তাদেরও আত্মসমর্পন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী। আত্মসমর্পন করলে তাদের সরকার পুনর্বাসন করবে বলেও ঘোষনা দেন তিনি। শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ^ ঐতিহ্য সুন্দরবন যে কোন মূল্যে দস্যুমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি পুনব্যক্ত করেন স্বরাস্ট্র মন্ত্রী। মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে কোথাও মাদক তৈরী হয়না। আমরা ভিকটিম হচ্ছি। তাই মাদক চোরাচলান প্রতিরোধে সারা দেশে ২০০ কিলোমিটার সিমান্ত সড়ক তৈরী হচ্ছে ফেস বাই ফেস। এতে আগামীতে নজরদারী আরো বাড়ানো সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে ইতিপূর্বে আত্মসমর্পন করা ছোট রাজু বাহিনীর ১৫ সদস্য এবং তাদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেন স্বরাস্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। এ সময় পটুয়াখালীর এমপি মাহবুবুর রহমান তালুকদার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান মোশাররফ হোসেন, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অতিরিক্ত ডিআইজি আকরাম হোসেন, জেলা প্রশাসক একেএম শামীমুল হক সিদ্দিকী, পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, র‌্যাব-৮’র উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক আফজাল হোসেন, পৌর মেয়র ডা. শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা চেয়ারম্যান তারিকুজ্জামান মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।