বিদ্যুৎ বিহীন এলাকাবাসীর হাতে ওজোপাডিকোর শ্রমিক কর্মচারী অবরুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মেরামতের জন্য আসা ওয়েষ্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো-১) কর্মচারীদের আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দা (১৩নং ওয়ার্ড) নূরিয়া স্কুল সংলগ্ন হাজী বাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। দীর্ঘ নয় ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকা ও মেরামতের জন্য ঘুষের দাবীতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এ সময় তারা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং অবরুদ্ধদের মুক্ত করে ঘটনার পূর্ণ বিরনিতে ভুক্তভোগি নুরুল বশির জানান, গত ২ জুন একইভাবে বিদ্যুৎ চলে যায় এই ফিডারে। সে সময় মেরামদের জন্য লোক এসে তা মেরামত করে এবং বিনিময়ে চা-পানির খরচ হিসেবে ২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ফের গতকাল দুপুরে নষ্ট হয়। নষ্ট ট্রান্সফর্মার মেরামতের জন্য অফিসে ফোন দেয়া হলে দুইজন ফিডার ইনচার্জ সহ মেরামত কর্মীরা আসেন। এসে সারাদিন তালবাহানা করে রাত ১০টার দিকে জানায় ট্রান্সফর্মার বদল করতে হবে। কিন্তু অফিসের নিজস্ব কোন ট্রান্সফর্মার নেই তাই আজ কাজ হবে না। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে যায়। কথোপকথনের এক পর্যায়ে মেরামতে আসা কর্তারা জানান কিছু টাকা দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ এতোক্ষণে চলে আসতো। এতে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী তাৎক্ষণিক তাদের ওপরে চড়াও হয় এবং অবরুদ্ধ করে। ওজোপাডিকো-১ কর্তারা এমন কাজ প্রতিনিয়ত করে বলে তিনি আরও অভিযোগ করেন। বিগত দিনে ঘুষ না দিলে নানা তালবাহানা করে ওজোপাডিকো-১ এর কর্তা কর্মচারীরা। শ্রমিকরেদ অবরুদ্ধ করার খবরে ওজোপাডিকো-১ এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস ছালেক খান ঘটনাস্থলে এলে তাকেও আটকে রাখে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের আশ্বাসে ও কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের ছেড়ে দেয়। সে সময় এই ঘটনার বিষয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সালেক খান বলেন, বিদ্যুতের চাইতে তো আর টাকা বেশি না। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের সাথে সাথেই ফিডার ইনচার্জ ফিরোজ ও নিমাই বাবু সহ মেরামত কর্মিদের পাঠিয়েছেন। তবে ওই দুই ফিডার ইনচার্জ এর কাজের বিনিময়ে ঘুষ এর দাবী করার বিষয়টি মেনে নেননি তিনি। বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের তীব্র ইচ্ছা নিয়ে তিনি বলেন, ওজোপাডিকো-১ এ কোন ভাল ট্রান্সফর্মার নেই তাই কিভাবে মেরামত হবে? মেরামতের জন্য এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তবে কেন দেরি হল সেই প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যর্থ ছিলেন ওজোপাডিকো-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস ছালেক খান। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ওজোপডিকো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম তারিকুল ইসলামের সাথে ফোসে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হয়েছে।