বিদ্যুতস্পৃষ্টে মারা যাওয়া ছেলের লাশ নিয়ে বানিজ্যর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর জিয়া সড়কের বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বানিজ্যর চেষ্ঠা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার ২০ দিন পর বুধবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৭ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেছে নিহত কিশোরের মা।
মামলার আসামী পক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় যাত্রা কালাম নামে এক ব্যক্তির প্ররোচনায় কিশোরের মা আলেয়া বেগম মামলা করেছে। তার প্ররোচনায় প্রত্যেক নামধারী আসামীর মাথাপিছু এক লাখ টাকা করে মোট ৭ লাখ দাবী করা হয়েছে। ওই টাকা দিলে মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে অভিযোগকারী আসামীরা জানিয়েছেন।
আসামী কলেজ ছাত্র রনির মামা নজরুল ইসলাম জানান, যাত্রা কালাম কয়েকমাস পূর্বে জিয়া সড়কের মসজিদের পাশে যাত্রা ও জুয়ার আয়োজন করে। তখন সাবেক কাউন্সিলর আনম সাইফুল আহসান আজিমের সাথে যাত্রা ও জুয়া বন্ধে সদর রোডে মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেয় রনি। এতে যাত্রা কালাম ক্ষিপ্ত হয়ে মুরগি চুরি করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে চানাচুর বিক্রেতা কিশোর হোসেন মারা যাওয়ার ঘটনাকে পুজি করেছে।
নজরুল জানান, মারা যাওয়া হোসেনের বাবা ভুরঘাটার হান্নান হাওলাদারের ১৭ বিয়ে। আলেয়া তার ভগ্নিপতি খলিল মাষ্টারের বাসায় ভাড়া ছিলো। মুরগী চুরি করতে গিয়ে ছেলে নিহত হওয়ার পর সালিশ বৈঠকে দুর্ঘটনায় কেউ দায়ী নয় বলে জানিয়েছে। তবুও দরিদ্র পরিবারকে এলাকাবাসীর প্রস্তাবে সহায়তা করার সিদ্বান্ত নেয়া হয়। কিন্তু কুটকৌশলী যাত্রা কালামের প্ররোচনায় ছেলের মৃত্যু নিয়ে বানিজ্যর চেষ্ঠায় মেতে উঠেছে আলেয়া।
নজরুল বলেন, ঘটনার রাতে ভাগ্নে রকিসহ কয়েক কিশোর বাড়ীতে পিকনিক আয়োজন করে। ওই পিকনিকের জন্য মুরগী চুরি করতে স্থানীয় হাকিমের খামারে যায় হোসেন। শিয়াল ও চোরের হাত থেকে রক্ষায় খামারে বেড়ায় বিদ্যুত সংযোগ দেয়া ছিলো। হোসেন সে বেড়া ধরলে বিদ্যুতস্পষ্টে হয়। তখন কিশোররা বিষয়টি রনিকে জানালে সে ছুটে এসে বিদ্যুতের তারে গামছা পেচিয়ে ছিড়ে ফেলে। পরে তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে শুধুমাত্র বিদ্যুস্পষ্টে মারা গেছে বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক মো. আকতারুজ্জামান তালুকদার। সুরতহাল প্রতিবেদনে এসআই দেলোয়ার হোসেন উল্লেখ করেছেন বৈদ্যুতিক শকের কারনে সৃষ্ট চিহৃ ছাড়া আর কোন ক্ষত বা আঘাতের চিহৃ নেই।
কিন্তু বাদী আলেয়া আদালতে মিথ্যা অভিযোগ করেছে যে হোসেনের কোন সুরতহাল বা ময়না তদন্ত করা হয়নি। আদালতের কাছে মিথ্যা অভিযোগে করা মামলা বিচারক কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
নিরীহ ও কিশোরদের আসামী করায় সকলের মাঝে আতংক সৃষ্টি হয়েছে।