বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তায় পুলিশের নিয়ন্ত্রন কক্ষ চালু

সাইদ মেমন ॥ নগরীতে অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য দূর থেকে মহানগর পুলিশ সার্বক্ষনিক নজরদারী শুরু করেছে। গতকাল সোমবার থেকে ওই নজরদারী শুরু করা হয়েছে বলে মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এছাড়াও একই দিন তাদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে সভা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের মুখপাত্র জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার আবু সাইদ।
ওই সূত্র জানিয়েছে, দেশে ইটালী ও জাপানী নাগরিক হত্যার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে ওই নজরদারী শুরু করা হয়েছে। রোববার বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. হুমায়ন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মুখপাত্র জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার আবু সাইদ জানান, বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং মেডিকেল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিতে নিয়ন্ত্রন কক্ষ খোলা হয়েছে। এছাড়াও পৃথক চারটি সতর্ক দল (ভিজিল্যান্স টিম) বিদেশী নাগরিকদের চলাচলের স্থানে ভিন্ন ভিন্নভাবে পর্যবেক্ষন করবে ও তাদের গন্তব্যে পৌছে দেবে।
মহানগর পুলিশের সভা কক্ষে সোমবার বেলা ১১ টায় যে সকল প্রতিষ্ঠানে বিদেশী নাগরিক কর্মরত ও অধ্যয়নকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে সভা হয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়াটার) হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপ-পুলিশ কমিশনারদ্বয় গোলাম রউফ খান ও আবু সালেহ মো. রায়হান, তিনিসহ মহানগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চার থানার ওসিগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিদেশী নাগরিকদের মাঝে আতংক কিংবা তারা অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ সৃষ্টি না হয় সেই বিষয়ের উপর লক্ষ্য রেখে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদেশী নাগরিকদের যাতায়াত করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন কক্ষে অবহিত করতে হবে। পুলিশী প্রহরায় তাদের গন্তব্যে পৌছে দেয়া হবে। আওতাধীন এলাকার বাইরে হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রধানদের মাধ্যমে তাদের দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এছাড়াও তাদের আবাসস্থল ও কর্ম প্রতিষ্ঠানসহ আশে পাশে ও তাদের চলাচলের পথে সাদা পোষাকে দূর থেকে সার্বক্ষনিক নজরদারী করবে গঠিত চার সতর্ক দল। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।
সহকারী কমিশনার বলেন, বর্তমানে নগরীতে ৬৫ জন বিদেশী নাগরিক রয়েছে। তাদের তালিকা প্রস্তুতসহ সার্বক্ষনিক যোগাযোগ করা ও রাখার যাবতীয় তথ্য আদান প্রদান করা হয়েছে। এসব নাগরিকদের মধ্যে সিংহভাগ চীন, জাপান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিন কোরিয়ার।