বিদেশী অস্ত্র ও গুলিসহ ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ ও জুবায়ের আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ রাজধানী থেকে ম্যাগজিনে ২ রাউন্ড গুলি ভর্তি বিদেশী পিস্তলসহ ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ সেরনিয়াবাত (৩০) এবং জুবায়ের আলমকে (২৯) আটক করেছে র‌্যাব-১০। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আটক নাহিদ বিএম কলেজের ছাত্র সংসদ বাকসু’র বিকল্প হিসেবে গঠিত ছাত্র কর্মপরিষদের অনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন। এছাড়াও সে ছাত্রলীগের ওই কলেজ শাখার যুগ্ম আহবায়ক। গৌরনদী উপজেলার মাগুড়া গ্রামের মৃত সিরাজুল হকের ছেলে নাহিদ।
অপরদিকে গোপালগঞ্জের বলাকৈর গ্রামের মৃত ইফতেখারুল আলমের ছেলে জুবায়ের আলম একই কলেজের ছাত্র কর্মপরিষদের অনির্বাচিত ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া সে ছাত্রলীগের বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি ছিল।
উভয়ের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজী, জমি দখল, টাকা আত্মসাৎ ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে নথুল্লাবাদ মাইক্রোবাস ষ্ট্যান্ডসহ অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হতে নিয়মিত চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত বলে র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে র‌্যাবের একটি বিশেষ দল ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার গোলাপবাগ বিশ্বরোডে তল্লাশী চৌকি স্থাপন করে। এ সময় সন্দেহভাজন সিএনজির (ঢাকা মেট্রো থ-১২-৭৯৭৫) দুই আরোহীকে তল্লাশী করা হয়। তখন দুই অরোহীর কাছ থেকে ওই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
আরোহীর একজন নাহিদ সেরনিয়াবাত ও অপরজন জুবায়ের আলম পরিচয় দেয়। কিন্তু তারা উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে তারা অস্ত্রটি অবৈধভাবে ও অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেদের দখলে রাখার কথা স্বীকার করে।
র‌্যাব সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, নাহিদ ও জুবায়ের বরিশালে টেন্ডারবাজী সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে আসছিলো। গত ২৪ মার্চ নাহিদ ও তার ক্যাডার বাহিনী পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে বরিশাল এলজিইডি কার্যালয়ে মেহেন্দিগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. সেলিম খান ওরফে ভিপি সেলিমের মাথা ফাটিয়ে দেয়। এই সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যাংক গ্যারান্টির ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা ছিনতাই করে।
এছাড়াও নাহিদ ও জুবায়েরের বিরুদ্ধে বিরোধী জমি দখল, টাকা আত্মসাত, ভয়-ভীতি দেখিয়ে নথুল্লাবাদ মাইক্রোবাস ষ্ট্যান্ড সহ অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গত বছরের শেষ দিকে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে গুলি করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে নাহিদের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে নগরীসহ সরকারী দপ্তরে মূর্তিমান আতংক ছিল নাহিদ ও তার সহযোগি জুবায়ের। শটগানসহ নানা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সাথে নিয়ে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করে নগরময় ঘুরে বেড়াতো। বিএম কলেজে অধ্যয়নরত ২৫ ছাত্রীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে নাহিদ। এসব ছাত্রীদের নানা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ওই সিন্ডকেটে তৈরি করে। তাদের সুযোগ সুবিধা দিয়ে আস্থাভাজন হিসেবে গড়ে তুলেছে।
নিজেকে মূর্তিমান আতংক ও ক্ষমতাবান হিসেবে পরিচিত করতে “ছাত্রী সিন্ডিকেট” ব্যবহার করেছে। ঠিকাদারী কাজ বাগিয়ে নেয়াসহ নাহিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ‘সাইজ’ করতো নাহিদ সেরনিয়াবাত। বিশেষ করে টেন্ডার সংক্রান্ত ঘটনা ঘটলেই প্রশাসনের ঐ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করত।
তার মাধ্যমেই নাহিদ তার সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কার্যক্রমে বিরোধীতাকারীদের শায়েস্তা করতো। মাত্র ৬ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে নাহিদ অর্থ কষ্টে ছিল। গৌরনদী ডাসার কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বিএম কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়। চতুর নাহিদ কৌশলে দলের নেতাদের আস্থাভাজন হয়। এরপর থেকে সে তার অবৈধ পথে অর্থ আয় শুরু করে। বিএম কলেজের জিএস হয়ে নানা দুর্নীতির মাধ্যমে সকল বরাদ্দ আত্মসাতের অংশীদার সে। বর্তমানে বেপরোয়া হয়ে নগরময় দাপিয়ে বেড়াতো নাহিদ।
তার আটকের খবরে বিভিন্ন দপ্তরের সাধারণ ঠিকাদারসহ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। উল্লেখ্য ছাত্রলীগ নেতা নাহিদের (সেরনিয়াবাত) উপাধিও ছিল ভূয়া। তার বংশানুক্রমে তাদের কেউই সেরনিয়াবাত পদবী ব্যবহার না করলেও হঠাৎ করে বরিশালে এসে তাৎক্ষণিক সেরনিয়াবাত হয়ে যান।