বিজ্ঞান জয়োৎসবে উদ্ভাবিত প্রকল্প দর্শনে মুগ্ধ শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রকল্পের উপস্থাপন করতে নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজ্ঞান জয়োৎসব। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে অনুষ্ঠিত উৎসবে বিভিন্ন বিষয়ের উদ্ভাবিত প্রকল্প দর্শনে মুগ্ধ ছিলো শিক্ষার্থীরা। সিটি ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় উৎসবের আয়োজন করে প্রথম আলো। সহযোগিতা করেন বরিশাল বন্ধুসভার বান্ধুরা।
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস, আলু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস, ব্যাটারী চালিত আইপিএস বাতাসের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীরা। চলে কুইজ, প্রশ্নোত্তর পর্ব ও মজার মজার বিজ্ঞানের বিষয়। সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর পর্যন্ত বরিশালের ছয় জেলার সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা মেতে ছিল উৎসবে। স্মারক বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের শুভ সূচনা করেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক। এরপর মিলনায়তনে বন্ধুসভার সদস্যদের গাওয়া জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন শেষে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, বিজ্ঞান প্রতি মুহূর্তে আমাদের সামনে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। আর শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান মনস্ক চিন্তার প্রতি আগ্রাহী হওয়ায় দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান অনুশীলনের মাধ্যমে চিন্তার প্রসার ঘটছে। বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে হলে গণিতেও পারদর্শী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের চিন্তা এবং উদ্ভাবনীর মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে সুন্দর সম্ভাবনার দ্বারে নিয়ে যাবে। তাই এখনই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর শিক্ষার্থীরা ৩০ মিনিটের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নয়। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী যখন পরীক্ষায় অংশ নেয় সেই সময় মিলনায়তনের দোতলায় উপস্থাপনের জন্য সাজানো হয় বিজ্ঞান বিষয়ক প্রকল্প। উৎসবে বরিশাল অঞ্চলের ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশালের সাড়ে চারশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
দুপুর ১২টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সমীরণ রায়, ভূতত্ত্ব ও খনিজ বিভাগের প্রভাষক মো. রিসালাত রফিক, বরিশাল জিলা স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক দুলাল চন্দ্র বণিক এবং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক নাজমা আলম শিক্ষার্থীদের উপস্থাপন করা ৩১টি প্রকল্প থেকে ১৫টি প্রকল্পকে সেরা হিসেবে মনোনয়ন দেন।
বেলা সাড়ে ১২টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সিটি ব্যাংক বরিশাল শাখার ব্যবস্থাপক ফরাজী মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম আলোর যুব কর্মসূচি ও বিজ্ঞান জয়োৎসবের সমন্বয়ক মুনির হাসানের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানের মজার মজার গল্পে মেতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে তিনি মঞ্চে ডেকে আনেন আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়ডে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দলের বরিশাল জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী নাঈমুল ইসলাম ছোয়াতকে।
এসময় গণিত জয়ের স্বপ্নের কথা শোনায় নাঈমুল ইসলাম। ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা নাঈমুলের কাছে গণিতে ভালো করার উপায় জানাতে চায়। নাঈমুল শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে যাওয়ার কথা বলেন। পরে বন্ধুসভার বন্ধুরা আন্তর্জাতিক এই গণিতবিদকে ফুল দিয়ে সংবর্ধিত করে।
উৎসব শেষে বিজ্ঞান প্রকল্পের জন্য ৩০জন এবং কুইজের তিনটি বিভাগের জন্য ৩০জনকে ঢাকায় জাতীয় উৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়। এদের প্রত্যেককে অতিথিরা মেডেল পরিয়ে দেন। বন্ধুসভার বন্ধুরা পড়িয়ে দেন টিশার্ট।