বিচারক শূন্য ২৭ আদালত

ওয়াহিদ রাসেল॥ বরিশালে অর্ধেকের বেশী আদালতের বিচারক শূন্যতায় কার্যক্রমে দীর্ঘসুত্রীতা বাড়ছে। অনেক দিন থেকেই আদালতগুলোতে বিচারক শুন্যতা থাকায় ধীরে ধীরে মামলার অগ্রগতি ব্যহত হচ্ছে। বাড়ছে নিরুপায় হয়ে আদালতের দারস্থ হওয়া বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি। দীর্ঘদিন থেকে আদালতের দরবারে ধরনা দিতে হচ্ছে তাদের। বরিশালে মোট ৪৬টি আদালত রয়েছে। এর মধ্যে বিচারক রয়েছে ১৯টি আদালতের। বাকি ২৭টি আদালতই রয়েছে বিচারক শূন্য। এতে উপস্থিত বিচারকদের ও পোহাতে হচ্ছে অতিরিক্ত ঝামেলা। এক এক জন বিচারককে তার অধীনে থাকা প্রায় ৩/৪টি আদালতের দায়িত্ব অতিরিক্ত পালন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিচারক রয়েছে জেলা ও দায়রা জজ, ২য় অতিরিক্ত জেলা জজ, ১ম যুগ্ম জেলা জজ, ২য় যুগ্ম জেলা জজ, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, মেহেন্দিগঞ্জ, গৌরনদী, হিজলা, মুলাদি সহকারী জজ আদালতগুলোতে। এছাড়া ম্যাজিষ্ট্রেট পার্যায়ের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ ও ৪, জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১, চীফ মেট্রোপলিটন, মেট্রোপলিটন, অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন, দ্রুত বিচার ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আদালতগুলোতে বিচারক রয়েছে। বিচারক শূন্য রয়েছে ১ম অতিরিক্ত জেলা জজ, ৩য় যুগ্ম জেলা জজ, অতিরিক্ত যুগ্ম জেলা জজ, সদর সিনিয়র সহকারী জজ, বাকেরগঞ্জ, আগৈলঝাড়া, বানারীপাড়া ও বাবুগঞ্জ সহকারি জজ আদালত। ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল, সিনিয়র জুডিসিয়াল ২ ও ৩, জুডিসিয়াল আদালতের ২, ৩, ৪, ও ৫ একই সাথে ৫টি আমলি আদালত সহ বিদ্যুত আদালত, টিএন্ডটি আদালত, দ্রুত বিচার, বিএসটিআই ও বিভাগীয় স্পেশাল জজ, জন নিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল রয়েছে বিচারক শূন্য। যার ফলে ধীরে ধীরে থমকে যাচ্ছে মামলার অগ্রগতি। সিনিয়র জুডিসিয়াল বিচার আদালতের সাথে যোগ করা হয়েছে আমলি আদালত গুলোও। বিচারক না থাকায় আদালতগুলোতে দিনে দিনে মামলার পরিমান বৃদ্ধিই পাচ্ছে। নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না পুুরোনো মামলাগুলো। উপস্থিত বিচারকরা তার নিজ দায়িত্বে থাকা আদালতের প্রতিদিনের নালিশি মামলাগুলো সহ অন্যান্য আদালতের নিত্য দিনের মামলা দেখতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এর ফলে পুরোনো মামালা গুলো থেকে যাচ্ছে আড়ালে। সম্ভব হচ্ছে না যথা সময়ে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা। বরিশালের মহানগরের ৩টি আদালত ছাড়া অন্য ৪৩টি আদালতে মোট মামলা রয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার ৩৫টি। এর মধ্যে জেলা জজ আওতাধীন ১৮টি আদালতে মোট মামলা রয়েছে ৩৪ হাজার ৩৮৩টি এবং ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ৯ হাজার ৪৭৬টি। এছাড়াও ৪টি ট্রাইব্যুনালের ২টিতে রয়েছে ৩ হাজার ১০৩টি মামলা। বিচারক শূন্যতার কারণে মামলার বিচার কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে আছে যে সব আদালতের তার মধ্যে রয়েছে ১ম অতিরিক্ত জেলা জজে প্রায় ১ হাজার, ৩য় যুগ্ম জেলা জজে ১ হাজার ৪৫৮টি, অতিরিক্ত যুগ্ম আদালতে ১ হাজার ২’শ, সদর সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে ৩ হাজার ৪৯৩টি, বাকেরগঞ্জ, আগৈলঝাড়া, বানারীপাড়া ও বাবুগঞ্জ আদালতে যথাক্রমে ১ হাজার ৯৭৪, ৯১৭, ৮২০ ও ৯২২ মামলা রয়েছে। বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে রয়েছে ৭৬টি দুর্নিতির মামলা, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে ২ হাজার ৫৮১টি, জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে রয়েছে ৫২২টি মামলা। এছাড়াও ম্যাজিষ্ট্রেসি আওতাধীনের মধ্যে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল আদালতে ৮০৭, সিনিয়র জুডিসিয়াল ২ আদালতে ৪৯৫, সিনিয়র ৩ আদালতে ১ হাজার। জুডিসিয়াল ২, ৩, ৪, ও ৫ আদালতে যথাক্রমে মামলা রয়েছে ৩৫০, ৫৮২, ২৩৪ ও ১৪টি মামলা। একই সাথে ৫টি আমলি আদালতে রয়েছে ৬৮৩, ৬৩৪, ১ হাজার ৭৯, ৩৫৮ ও ৮২ টি মামলা। বিদ্যুৎ আদালতে বিচারকের অভাবে আটকে রয়েছে ৮৯৩টি মামলা। এর মধ্যে প্রায় ১৫ বছরের পুরাতন মামলাও রয়েছে। এছাড়াও টিএন্ডটি আদালতে ২৭৬, দ্রুত বিচারে ২৪ ও বিএসটিআই আদালতে ৪৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালত গুলোতে বিচারকের অভাবে এক এক জনকে ৩/৪টিরও অধিক আদালতের বিচারকার্য পরিচালনা করার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। এর মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আনোয়ারুল হককে তার নিজ আদালতের দায়িত্বপালন সহ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বিভাগীয় স্পেশাল জজ, নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল ও জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের। ২য় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আদীব আলী তার আদালতের পাশাপাশি পালন করছেন ১ম অতিরিক্ত জেলা জজের কার্যক্রম। ৩য় যুগ্ম ও অতিরিক্ত জেলা জজের দায়িত্ব অতিরিক্ত পালন করছেন ১ম যুগ্ম জজ মোঃ আব্দুল হামিদ। একইভাবে সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের দায়িত্ব পালন করছেন উজিরপুর সহকারী জজ আদালতের বিচারক। এছাড়া আগৈলঝাড়া, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ ও বাবুগঞ্জ সহকারি জজ আদালতের দায়িত্ব পালন করছেন অন্যান্য আদালতের সহকারি জজবৃন্দ। এদিকে ম্যাজিষ্ট্রেসি আদালতের বিচারক শূন্যতার কারনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ এ.কে এম ফজলুল হক তার নিজ আদালতের দায়িত্ব পালন শেষে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ও বিদ্যুৎ আদালতের। ম্যাজিষ্ট্রেসি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল আছে ৪টি। আরও যোগ করা হয়েছে আমলী আদালতগুলো , এই আদালতগুলো সঠিকভাবে বিচারক থাকলেও বিভিন্ন কারনে বর্তমানে উপস্থিত আছে ১জন বিচারক। অন্যান্য বিচারকদের মধ্যে মোঃ মোস্তফিজুর রহমান অসুস্থ, মোঃ আশরাফ উদ্দিন তিনি ৬ মাসের প্রশিক্ষণ ও কানিজ কামরুন নাহার তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। উল্লেখিত কারনগুলোর ফলে ওই আদালত গুলো সহ টিএন্ডটি, বিএসটিআই ও দ্রুত বিচার আদালতের দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৪র্থ আদালতের বিচারক তরুন বাছাড়। অপরদিকে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৫টি আদালতের দায়িত্ব একা পালন করেছেন সদ্য ভোলা আদালত থেকে বরিশাল যোগ দেয়া ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ এনায়েত উল্লাহ। বিচারক সংকটের ফলে এতগুলো আদালতের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে উপস্থিত বিচারকদের। যার ফলে ধীরে ধীরে মামলার কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।