বিচারক শুন্যতায় জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলার জট

ওয়াহিদ রাসেল॥ জুডিসিয়াল আদালতগুলোতে দিন দিন মামলার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল, সিনিয়র জুডিসিয়াল ও আমলী আদালত-৩ এই আদালতগুলোতে মামলার পরিমাণ রয়েছে বেশী। সূত্রমতে, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির আওতায় রয়েছে ২০ টি আদালত। এই ২০টি আদালতের মধ্যে ১৬টি আদালতে রয়েছে বিচারক শূন্যতা। আর এই বিচারক শূন্যতার কারনেই দিনে দিনে মামলার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়েছে বলেই আদালত সূত্র। ৪ জন বিচারকের পক্ষে ২০ আদালতের আমলী সহ বিচারকার্য সম্পাদক করা প্রায় অসম্ভব। এর উপরে আরও রয়েছে উপজেলার ১০টি থানার মামলাও। যার ফলে বিচারক সহ মামলার বিচার প্রার্থীদেরও পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। চীফ জুডিসিয়াল নাজির মোঃ সুমন হাওলাদার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির আওতায় থাকা আদালতগুলোর মধ্যে রায়ছে চীফ জুডিসিয়াল, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল, সিনিয়র জুডিসিয়াল-১, ২, ৩, ৪ ও জুডিসিয়াল- ১, ২, ৩, ৪, ৫ মেজিষ্ট্রেট বিচার আদালত। এছাড়াও আরও রয়েছে আমলী আদালত- ১, ২, ৩, ৪, ৫, বিদ্যুৎ আদালত, টিএন্ডটি, দ্রুত বিচার ও বিএসটিআই আদালত। এর মধ্যে বিচারক রয়েছে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের একেএম ফজলুল হক, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালতের মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ৪র্থ আদালতে তরুন বাছাড় ও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালতে মোঃ এনায়েত উল্লাহ। এছাড়াও আরও ২ জন বিচারক থাকলেও এর মধ্যে একজন মোঃ আশরাফ উদ্দিন তিনি ৬ মাসের প্রশিক্ষণে ও অপরজন কানিজ কামরুন নাহার আছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। যার ফলে উপস্থিত ৪ বিচারককে সামলাতে হচ্ছে পুরো জুডিসিয়াল আদালতগুলোর দায়িত্ব। এই ২০টি আদালতগুলোতে গত মাসে মোট মামলা ছিল ৯ হাজার ৪৫৭টি যা বেড়ে এখন হয়েছে ৯ হাজার ৪৭৬টি মামলা। এর মধ্যে চীফ জুডিসিয়াল আদালতে গত মাসে মোট মামলা ছিল ৬৩৮টি। নতুন করা হয়েছে ২টি, অন্য আদালত থেকে দেয়া হয়েছে আরও ১৫টি। দোতরফা ও অন্যভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৩টি। বেড়েছে ৪টি। অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল আদালতে মামলা ছিল ৭৯৯টি। অন্য আদালত থেকে বিচারের জন্য আসছে ১০টি। এ থেকে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ২টি। মোট রয়েছে ৮০৭টি মামলা। একইভাবে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বিচার ১, ২, ৩, ৪ আদালত গত মাসে মামলা ছিল ৬৭১, ৪৬৫, ৯৯৯ ও ৩৯৪টি। অন্যান্যভাবে আদালতগুলোতে বিচারের জন্য মামলা এসেছে ১৯, ৬১, ২৬, ২৮টি। যা থেকে পূর্বের মামলা সহ দোতরফা ও অন্যভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৪, ৩১, ২৫ ও ৩৫টি। বর্তমানে মোট মামলা রয়েছে ৬৭৬, ৪৯৫, ১০০০ ও ৩৮৭টি মামলা। জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বিচার ১, ২, ৩, ৪, ৫ আদালতে গত মাস পর্যন্ত মামলা ছিল যথাক্রমে ৫১১, ৩৩৪, ৫৬৯, ২৪৮ ও ১৫টি। অন্যভাবে আদালতগুলোতে মামলা যোগ করা হয়েছে ১৫, ২২, ২৯, ১০ ও ৫টি। নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১৫, ৬, ১৬, ২৪ ও ৬টি মামলা। এরপরও বিচারাধীন রয়েছে ৫১১, ৩৫০, ৫৮২, ২৩৪ ও ১৪টি মামলা। কিছু কিছু আদালতে মামলার জট কিছুটা কমলেও বৃদ্ধিই পেয়েছে বেশি। এছাড়াও আমলী আদালত গুলোর মধ্যে ১, ২, ৩, ৪, ৫ আদালতে গত মাসে মোট মামলা ছিল ৭২৮, ৬২৬, ১০৫৫, ৩৭৬ ও ৭৭টি মামলা। চলতি মাসে আদালতগুলোতে দায়ের করা হয়েছে ১০০, ৫৪, ১০২, ৭৯ ও ২৮টি মামলা। অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে যথাক্রমে ১৪৫, ৪৬, ৭৮, ৯৭ ও ২৩টি মামলা। বর্তমানে রয়েছে ৬৮৩, ৬৩৪, ১০৭৯, ৩৫৮ ও ৮২টি মামলা। বিদ্যুৎ আদালতে মোট মামলা ছিল ৫৯৩টি। কোন নতুন মামলা না আসায় এবং নিষ্পত্তি না হওয়ায় সমপরিমান মামলা এখনও রয়েগেছে। এছাড়াও সিএন্ডটি আদালতে মামলা ছিল ২৮১টি। অন্যভাবে ৫টি মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় রয়েছে ২৭৬টি। দ্রুত বিচারক আদালতে মামলা রয়েছে ২৫টি এবং বিএসটিআই আদালতে ৫৩টি মামলার সাথে নতুন যুক্ত হয়েছে আরও ১৫টি মামলা। ১৯টি মামলা নিষ্পত্তি করায় বর্তমানে রয়েছে ৪৯টি মামলা। নাজির সুমন হাওলাদার আরও জানিয়েছেন এই ২০ আদালত উপস্থিত ৪ বিচারক সমন্বিতভাবে কার্য সম্পাদক করছে। এর মধ্যে চীফ জুডিসিয়াল তিনি জিনের আদালত সহ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ও বিদ্যুৎ আদালতের দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম বিচার আদালতের বিচারক নিজেরটা সহ সিনিয়র জুডিসিয়াল-২, আমলী আদলত ১ ও ২ সহ দ্রুত বিচারক আদালতের দায়িত্বপালন করছেন। এছাড়াও সিনিয়র জুডিসিয়াল ৪র্থ বিচার আদালতের বিচারক তরুন বাছাড় তার আদালত সহ সিনিয়র ৩য়ম আমলী- ৩, ৪, টিএন্ডটি ও বিএসটি আই আদালতের দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক মোঃ এনায়েত উল্লাহ তার আদালত সহ জুডিসিয়াল ২, ৩, ৪, ৫ ও আমলী- ৫ আদালতের বিচারকার্য সম্পাদক করেন। এ অবস্থায় বিচারকদের তাদের দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যার ফলে বিচারপ্রার্থী সহ সবাই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।