বিএম কলেজ ছাত্রী লিজা আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মুলাদী প্রতিবেদক ॥ বরিশাল বিএম কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শেষ বর্ষের মেধাবী ছাত্রী লিজার আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মুলাদী প্রাণী হাসপাতাল রোডের বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত. নূরুল হক মাস্টারের ছোট মেয়ে লিজা গত ৫ মে বেলা সাড়ে ১২টায় বিয়ের ৩ দিনে মাথায় স্বামীর মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। রক্ষণশীল পরিবারের ভূয়া ফতোয়ার কারণেই লিজাকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে দাবী করেছে তার পরিবার। জানা গেছে, গত প্রায় একমাস ধরে দেখা শোনার পর গত ৩ মে মুলাদী সদর ইউনিয়নের ভাংগারমোনা গ্রামের মাওঃ আব্দুল হাকিমের প্রবাসী পুত্র আমিনুলের সাথে লিজার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটা ভূয়া ফোন কলকে কেন্দ্র করে আমিনুলের পরিবারের লোকজন এবং আত্মিয়-স্বজন লিজাকে বধূরূপে রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বিয়ের দিন রাতে তাকে পিতার বাড়িতে রেখে আসে। লিজার পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, আমিনুলের আত্মিয়রা ভূয়া ফতোয়া দিয়ে লিজাকে বাসর ঘর করতে দেয়নি। এছাড়া মোবাইল ফোনে আমিনুলের আত্মিয়-স্বজনরা বিভিন্নভাবে লিজাকে অপমান অপদস্ত করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে। পরিবারের সদস্যরা জানায়, মৃত্যুর কিছু আগেও লিজা মোবাইল ফোনে আমিনুল ও তার আত্মিয়-স্বজনকে তাদের বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসেবে থাকার অনুনয় করেন। ওই সময় আমিনুলের আত্মিয়রা লিজাকে কটাক্ষ করে কথা শোনায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অপবাদ সইতে না পেরে ৫ মে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে লিজা আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় লিজার ভগ্নিপতি আসাদুজ্জামান রাসেল বাদী হয়ে আমিনুল ইসলাম, মাওঃ আব্দুল হাকিম, মামা কাজী মাইনুদ্দিন মঈন, বোন হাফিজা আক্তার, মুলাদী বন্দর বণিক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা ইসলামি আন্দোলনের সভাপতি আলহাজ্ব এফ.এম মাইনুল ইসলাম ও এনামুল হকের বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার পর থেকেই আসামীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।