বিএম কলেজ ছাত্রী গৃহবধূ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর গড়িয়ারপার এলাকাধিন উত্তর কলাডেমায় নিহত গৃহবধূ মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হয়েছে। গলায় ফাঁস দিয়ে নয় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে তাকে। গতকাল মঙ্গলবার তার মরদেহের ময়না তদন্তের সময় শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের আলামত দেখে এমনটিই নিশ্চিত হয়েছেন চিকিৎসকরা। সেই সাথে গৃহবধূ এবং বিএম কলেজ ছাত্রী তানিয়া আক্তার’র হত্যার অভিযোগে স্বামী জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে তার দুই ভাই আত্মগোপনে রয়েছে।
এদিকে কলেজ ছাত্রী গৃহবধূকে হত্যার প্রতিবাদ এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতার পরবর্তী আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে গড়িয়ার পাড় সংলগ্ন উত্তর কলাডেমায় নিহতের বাড়ি সংলগ্নে এই ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিএম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তানিয়া আক্তার তাবাচ্ছুম সোমবার কলেজে টার্ম পেপার জমা দিয়ে দুপুর ৩ টার দিকে শ্বশুর বাড়িতে যায়। বেলা সারে ৩ টার দিকে একই এলাকায় অবস্থিত বাবার বাড়িতে খবর আসে তানিয়া আত্মহত্যা করেছে।
এদিকে খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ঘরের মধ্যে থেকে ঝুলন্ত অবস্তায় তানিয়ার লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিমের মর্গে প্রেরন করেন।
গতকাল মঙ্গলবার শেবাচিমের মর্গে ময়না তদন্ত কালে তানিয়ার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পান চিকিৎসকরা। বিষয়টি তার বাবার পরিবারকে জানালে গোটা এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে হত্যাকারী স্বামী জুয়েল পালাবার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছে জুয়েলের দুই ভাই।
তানিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক ছিল তানিয়া ও জুয়েলের। ওই এলাকার হান্নান মিয়ার ছেলে জুয়েলের কোন কাজ বাজ না থাকায় তানিয়ার পরিবার জুয়েলের সাথে বিবাহ দিতে রাজি হচ্ছিল না। তবে মেয়ের পিড়াপিড়িতে জুয়েল সাথে বিয়ে দেয় তানিয়াকে। কিন্তু বিয়ের পরও তানিয়া পড়া লেখা চালিয়ে যাওয়ার আবদার জানালে তা মেনে নিতে চায়নি জুয়েল ও তার পরিবার। কিছুদিন পরই সন্তান লাভ করে তানিয়া ও জুয়েল। কিন্তু তানিয়া তার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ায় তাকে প্রায় সময় স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির সদস্যদের হাতে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এ নিয়েও পূর্বে বেশ কয়েকবার পারিবারিকভাবে সালিস মিমাংশা হয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার তানিয়াকে হত্যার মাধ্যমে এ কলহের ইতিটানা হয় বলে অভিযোগ করেন তার মা তাসলিমা বেগম।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় মামুন ও মিলন জানান, সোমবারের ঘটনাটি প্রথমে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিলো তার স্বামী এবং শ্বশুরালয়ের লোকেরা। কিন্তু ময়না তদন্তের পর হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে হত্যাকান্ডের মূল নায়ক জুয়েল এবং তার বাবা, ভাইদের গ্রেফতার সহ শাস্তির দাবীতে এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন বলে সূত্রদ্বয় জানিয়েছেন।