বিএম কলেজ ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আটক-২

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সরকারি বিএম কলেজের রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্রী শান্তা খানম নামের ছাত্রীকে ক্ষুর দিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সকালে তাদের আটক করা হয়। তবে প্রধান ঘাতক আলাল আত্মগোপনে রয়েছে। আটককৃতরা হলো আলালের বন্ধু উজিরপুরের বাসিন্দা সৌরভ ও মিরাজ।
শনিবার রাতে বিএম কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে উজিরপুরের ধামুরা বাজারের রতœপুর ভ্যান স্ট্যান্ডে বখাটেরা ক্ষুর দিয়ে শান্তার মুখমন্ডল কুপিয়ে জখম করে। তিনি বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত ছাত্রী শান্তা খানমের মা নিলুফা বেগম ও চাচা মো. সোহরাব হোসেন জানান, ওই এলাকার বখাটে আলাল বিভিন্ন সময়ে শান্তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। তাকে বোঝানো হলেও সে কারো কথা শুনতো না। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় ধামুরা বাজারে ভ্যানস্ট্যান্ডে শান্তাকে কুপিয়ে আহত করে।
উজিরপুর থানার এস আই জসিম উদ্দিন বলেন, শান্তা আগৈলঝাড়া উপজেলার সিমান্তর্বী রতœপুর গ্রামের মৃত মোস্তফা সরদারের মেয়ে। ৩ বছর আগে থেকে পাশ^বর্তী উজিরপুর উপজেলার কাংশি গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে আলালের সাথে তার ঘনিস্ট সম্পর্ক হয়। মাধ্যমিকের গন্ডি না পেরোনো আলাল ঢাকায় একটি চাইনিজ রেস্তোরায় বেয়ারার কাজ করে শান্তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করতো। শান্তা ইতিপূর্বে ৩বার আলালের বাড়ি গিয়েছিলো। তাদের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিয়ের কথাও হয়েছিলো। কিন্তু শান্তা বিএম কলেজে অনার্সে ভর্তি হওয়ার পরই তাদের সম্পর্কে ছেদ পড়ে। ইদানিং আলালের সন্দেহ হচ্ছিলো শান্তার সাথে অন্য কারোর সম্পর্ক আছে। এই ক্ষোভ-হতাশা থেকে সে ওই ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করতে পারে বলে ধারনা পুলিশের।
শের-ই বাংলা মেডিকেলের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুব্রত পাল জানিয়েছেন, শান্তার মুখমন্ডলে ১২টি সেলাই দিয়ে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি বর্তমানে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।
উজিরপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে বলে আমাদের নিশ্চিত করেছে। তবে এর আগেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার সকালে সৌরভ ও মিরাজ নামের দুই জনকে আটক করা হয়েছে। অবশ্য আহত শান্তা আটক দুই জনের নাম পূর্বেই বলেছিলো। তাই আটকদের ছবি তুলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শান্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া মুল আসামী আলালকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।