বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে হাটু পানিতে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কদিনের টানা বর্ষনে নগরীতে জমে থাকা সড়কের জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে। তবে এখনো কমেনি নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমে থাকা পানি। বিশেষ করে নগরীর বিএম কলেজে হাটু সমান জলাবদ্ধতায় সিমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সহ সর্বস্তরের মানুষের। তবে এ থেকে পরিত্রান পেতে নেই কলেজ কর্তৃপক্ষের কার্যকরী ভূমিকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকদিনের প্রবল বর্ষনের ফলে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে বিসিসি’র পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের রাত দিন প্রচেষ্টায় খুব অল্প সময়ে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায় নগরবাসী। তবে এখন পর্যন্ত হাটু সমান পানির নিচে জমে আছে বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএম কলেজ। এই কলেজের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে প্রতিটি সড়কেই হাটু সমান পানি জমে আছে। রাস্তা থেকে কলেজের কম্পাউন্ড নিচু হওয়ার পাশাপাশি কলেজ চত্ত্বরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিস্কাসনে বিঘœতা সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএম কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বিশাল আয়তনের দুটি এবং পেছনের অংশে আরো কয়েকটি পুকুর ও জলাশয় রয়েছে। বৃষ্টিতে এসব পুকুর এবং জলাশয় কানায় কানায় ভরে গিয়ে রাস্তায় পানি উঠে গেছে। রাস্তায় উঠে যাওয়া পানি কোন দিকে নামতে না পারায় গত তিন দিন যাবত জলাবদ্ধতায় অসহনীয় ভোগান্তিতে কাটাতে হচ্ছে কলেজে আসা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের।
ব্রজমোহন কলেজে পরীক্ষা দিতে আসা সরকারী বরিশাল কলেজের ছাত্র ওয়াহিদ রাসেল জানান, সকালে পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখি কলেজের প্রধান সড়কটিতে এখানো জলাবদ্ধতা রয়েছে। জমে থাকা পানিতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি মাশা-মাছি ডিম ছড়াচ্ছে। কিন্তু পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে বিধায় বাধ্য হয়ে নোংরা পানি পেরুতে হয়েছে।
রাসেলের ন্যয় কলেজের আরো একাধিন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা একই কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি কবে নাগাদ জমে থাকা পানি থেকে মুক্তি পাবেন সে সম্পর্কেও বিস্ময় প্রকাশ করেন তারা।
জানতে চাইলে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, পানি নামার কোন জায়গা নেই। সে জন্য শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমাদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তারা বলেন, কলেজের সামনে এসে রিক্সায় চেপে প্রশাসনিক বিভাগে পৌছাতে হয়। আবার সেখান থেকে রিক্সায় চেপে যেতে হচ্ছে ক্লাসে। এমন অবস্থা কবে নাগাদ কাটবে তা বুঝতে পারছি না। তারা বলেন, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।
এদিকে শুধুমাত্র বিএম কলেজই নয়, জলাবদ্ধতার চিত্র প্রত্যক্ষ করা গেয়েছে সরকারী মহিলা কলেজ, বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সরকারী বরিশাল কলেজ ও সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজেও। প্রতিটি কলেজেই পানি নিস্কাসনের জন্য পর্যাপ্ত এবং যুগপোযোগি ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে পানি নিস্কাসনে বিলম্বের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এখানকার ছাত্র ও শিক্ষকরা।