বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে রিক্সার গ্যারেজ !

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অক্সফোর্ড খ্যাত বরিশাল সরকারী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ক্যাম্পাস এখন পরিণত হয়েছে রিক্সার গ্যারেজ আর বখাটেদের মাদকের আড্ডা খানায়। দিনে শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখোরিত থাকা ঐতিহ্যবাহী এই ক্যাম্পাস রাতে থাকে বহিরাগত রিক্সা মালিক এবং চালকদের দখলে। সেই সাথে আড্ডবাজী আর ছিনতাইয়ে মেতে উঠছে বহিরাগত বখাটেরা। তবে বিষয়টি যেনও নজরে আসছে না কলেজ কর্তৃপক্ষের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল সরকারী বিএম কলেজের প্রথম গেট সংলগ্ন রসায়ন ভবন, কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্রজমোহন থিয়েটার, কলা ভবন, এবং প্রশাসনিক বিভাগের সামনে রাত ৮ টার পরেই রিক্সার দীর্ঘ লাইন পড়ছে। কোন প্রকার অনুমতি এমনকি বাধা ছাড়াই উল্লেখিত স্থান গুলোতে প্রায় অর্ধশত রিক্সা থামিয়ে রাখা হয়েছে। এজন্য হঠাৎ করে দেখে বোঝার সাধ্য নেই যে এটা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাকি রিক্সার গ্যারেজ। গভীর রাত নেমে আসার সাথে সাথে রিক্সার গ্যারেজের সাথে সংযুক্ত হচ্ছে বহিরাগতদের মাদকের রমরমা আড্ডা এবং ছিনতাই এর মত গুরুতর অপরাধ।
বিএম কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তর রিক্সার গ্যারেজে পরিণত করা শাহ-আলম নামের এক রিক্সার মালিক জানান, তিনি যে স্থানে বসবাস করেন সেখানে রিক্সা রাখার জায়গা নেই। তাই তার মালিকানাধীক ৬টি রিক্সা বিএম কলেজের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখছেন।
এদিকে বিএম কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্র রাজিব হোসেন জানান, সোনালী ব্যাংক ক্যাম্পাস শাখার পাশের পকেট গেট দিয়ে রাত ৯ টার দিকে বন্ধুরা মিলে সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ক্যাম্পাসের মধ্যে অবৈধ রিক্সার গ্যারেজ থেকে ১০-১২ জন যুবক লাফ দিয়ে তাদের সামনে এসে গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে কল দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে মোবাইলটি নিয়ে পকেটে ঢোকায়। এর প্রতিবাদ করতেই তাকে মারধর শুরু করে। এসময় ক্যাম্পাসের ছাত্র নেতাদের ডাক দিলে মোবাইলটি নিয়ে পালিয়ে যায় বখাটেরা।
মুসলিম হলের আবাসীক ছাত্র এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া এনামুল কায়সার জানান, যেসব স্থানগুলোতে রিক্সা রাখা হচ্ছে সেখানে রাতের বেলায় রিক্সার মধ্যে মাদক সেবিদের হাট বসছে। তাছাড়া দিনের বেলায় এসকল স্থানের আশপাশে ফেন্সিডিলের বোতল, প্যাথিডিলের ভাঙ্গা ভায়েল, রক্তমাখা সিরিঞ্জ সহ মাদক গ্রহনের নানা সরঞ্জামাদী ফেলে রাখা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে বিএম কলেজ অধ্যক্ষ স.ম. ইমান উল হাকিম’র সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।