বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের এক পক্ষের মিছিল লাঠিচার্যে পন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বিএম কলেজের বাতিল হওয়া ছাত্র কর্মপরিষদের সাহিত্য সম্পাদক নূর আল আহাদ সাঈদী’র বিরুদ্ধে করা ক্রীড়া সম্পাদকের মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একাংশের মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার বেলা ১২টার দিকে এই ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন কম বেশি আহত হয়েছে। এরা হলেন- সমাজকল্যাণ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র পলাশ ও ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র বাদল, রাসেল আহম্মেদ, বাবু, রাকিব হাওলাদার সহ ১০ জন।
প্রত্যক্ষদর্শী বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা জানায়, গত মঙ্গলবার ক্রীড়া সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ মুন্নাকে কুপিয়ে জখম করে ছাত্রলীগের অপর গ্রুপ। এই ঘটনায় মুন্না বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাহিত্য সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতা নূর আল আহাদ সাঈদীকে আসামী করা হয়।
এর প্রতিবাদে গতকাল রবিবার বেলা ১২টার দিকে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাতিল হওয়া কর্মপরিষদের ভিপি মঈন তুষার। বহিরাগতদের ছাত্র সাজিয়ে বের করা বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাস হয়ে প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন সহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যায়। তারা বিক্ষোভের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই পুলিশের সাথে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয় মঈন তুষার সহ তার সহযোগিরা। এর কিছুক্ষন পরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
এছাড়াও বাতিল হওয়া কর্মপরিষদের ভিপি মঈন তুষার তার লোকজন নিয়ে ক্যাম্পাসের মধ্যে ফের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেয়। গত বৃহস্পতিবার কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ক্যাম্পাসে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করেন কলেজ অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হক। তখন তার সাথে মঈন তুষার বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এমনকি অধ্যক্ষকে আঙ্গুল তুলে উচ্চ স্বরে হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তবে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ স.ম ঈমানুল হাকিম বলেন, ক্যাম্পাসের মধ্যে বিক্ষোভের চেষ্টা করলে তাতে তারা বাধা দেন। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের ছেলেরা ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিক্ষোভের নামে ছাত্রলীগের কিছু লোকজন ক্যাম্পাসের মধ্যে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে। এতে আইন শৃংখলার অবনতী ঘটার আশংকায় তারা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রনে রয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।