বিএম কলেজ এলাকায় রাতের আধারে মন্দিরে ভাংচুর করেছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর বিএম কলেজ এলাকায় প্রায় সাত যুগ পুরানো মনসা ও কালি মাতার মন্দিরে ভাংচুর করেছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এসময় বাঁধা দেয়ায় মন্দিরের মালিক এক দম্পতিকে মারধরও করেছে তারা। গতকাল রোববার ভোর রাত ৫টার দিকে বিএম কলেজের প্রথম গেট সংলগ্ন টিএন্ডটি’র সামনে এই হামলা এবং ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দফায় দফায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শন করেছেন। মন্দিরের মালিক এবং হামলার শিকার দম্পতির অভিযোগ জমি দখলের জন্য ভুমি দস্যুদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা মন্দিরে হামলা এবং ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে।
মন্দিরের মালিকানা দাবীদার লিপি রানী দাস জানান, ওই এলাকায় তাদের ২৩ শতাংশ জমিতে বসতঘর, মনসা ও কালি মাতার মন্দির রয়েছে। গত ৮৫ বছর ধরে মন্দিরে শিব ও কালিপুজা হয়ে আসছে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে ভুয়া এবং জাল দলিল তৈরীর মাধ্যমে মন্দির সহ পৈত্রিক জমি জবর দখলের চেষ্টা করে আসছে একই এলাকার জাহিদুর রহমান ওরফে চাউল জাহিদ নামের এক ভূমি দস্যু। দীর্ঘ বছর পূর্বে জমির মুল মালিক তাদের দাদী রানী বালা শীল জমি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলা পরিচালনার জন্য জাহিদকে জমির পাওয়ার দেন। মামলায় পক্ষে রায় হলে তাদের ওই জমি থেকে ৩ শতাংশ জমি জাহিদ পাবে বলে তার সাথে চুক্তি হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে সেই পাওয়ার মুলে দলিল কাজে লাগিয়ে ভুয়া এবং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে পুরো জমিই নিজের বলে দাবী করে আসছে। এমনকি ওই জমি থেকে কিছু পরিমান জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রিও করে। কিন্তু তা কেউ দখলে নিতে পারছে না।
লিপি দাস জানান, জমিটি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই জাহিদ তাদের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় দুই নেতা এবং জেলা ছাত্রলীগের এক সহ-সভাপতির সহযোগিতায় মন্দির এবং তাদেরকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে আসছে। লিপির অভিযোগ, সপ্তাহ খানেক পূর্বে জমির পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চার লাখ টাকার বিনিময়ে জমিটি লিপি রানী দাসকে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাবও দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় গত ২৪ আগস্ট তার বাবা তপন কুমার শীলকে মোটর সাইকেলে করে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় ওই দিনই তপন কুমার শীল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন।
এই ঘটনার তিন দিনের মাথায় গতকাল রোববার ভোর ৫টার দিকে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত মন্দির ঘর ভেঙ্গে প্রতীমা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মন্দিরের পাশেই বসবাসকারী জমির মালিক মিলন চন্দ্র পাল, তার স্ত্রী ঝুমা পাল এবং মা গৌরী রানী পাল বাধা দেন। এসময় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা ঝুমা পাল ও গৌরী রানীর সাথে ধস্তাধস্তি এবং মিলন চন্দ্র পালকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। তবে বাঁধার মুখে প্রতীমা ভাংচুর ব্যর্থ হলেও মন্দিরের চার পাশে থাকা টিনের বেড়া তুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ঝুমা পাল এবং মিলন চন্দ্র পাল জানান, যারা ভাংচুর করেছে তারা মুখোশধারী থাকায় কাউকে চিনতে পারেননি। তবে মন্দিরের অদূরে বিএম কলেজের সামনে রাস্তায় ঘটনার সময় জমির জবর দখলের চেষ্টা কারী ভূমি দস্যু চাউল জাহিদ, শাহাজাহান এবং তার ছেলে সবুজকে রহস্যজনকভাবে ঘোরা ফেরা করতে দেখেছেন। ঘটনার পরে মুখোশধারীদের পালিয়ে যাবার সাথে সাথে জহিদ সহ অন্যান্যরাও নিরুদ্দেশ হয়ে যান।
এদিকে কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খলিলুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি সহ পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর হয়নি। মন্দিরের উপরে একটি চালা ছিলো সেটি রাত সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ভেঙ্গে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাছাড়া অভিযোগকারী ও মন্দিরের জমির মালিকানা দাবীদার লিপি রানী ও তার স্বজনদের থানায় আসতে বলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।