বিএম কলেজে ছাত্রাবাস পুকুরের মাছ নিয়ে তুলকলাম কান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বিএম কলেজের ছাত্রাবাসের পুকুরের মাছ বিক্রির টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় ছাত্রলীগের সহায়তায় হল সুপার এক ছাত্রর ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএম কলেজের কবি জীবনানন্দদাস ছাত্রাবাসে ওই হামলার শিকার হয় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র বিভব দত্ত বাপ্পি। ছাত্রাবাসের সুপার ও বিএম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘটনার শিকার হওয়া ছাত্রসহ একাধিক আবাসিক ছাত্ররা ওই অভিযোগ করেছে। তবে অভিযোগ মিথ্যা ও মানহানিকারন বলে উল্টো একাধিক অভিযোগ করেছেন সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস। একই সাথে তিনি বলেন, তার হামলা করাতো দূরের কথা উল্টো তাকেই নাকি সাবেক জাসদ ছাত্রলীগ নেতা সিদ্ধার্থ মন্ডলের সহায়তায় লাঞ্ছিত করা হয়েছে।
একাধিক আবাসিক ছাত্ররা জানায়, কবি জীবনানন্দ দাস ছাত্রাবাসের পেছনের পুকুরের মাছ অধ্যক্ষের নির্দেশনুযায়ী ছাত্রদের জন্য চাষ করা হয়। ওই পুকুর স্থানীয় মামুন নামের এক ব্যক্তির কাছে ১ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। অধ্যক্ষের নির্দেশনানুযায়ী পুকুরের মাছ অথবা মাছ বিক্রিত অর্থ অর্ধেকটা পাবে ছাত্রাবাসের সাধারন ছাত্ররা এবং বাকি অর্ধেক ইজারাদার। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে পুকুরে মাছ ধরার জন্য জেলে আনা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাপ্পি ও সুমন নামের দুই আবাসিক ছাত্র সকল আবাসিক ছাত্রদের পক্ষে সেখানে যায় এবং জানতে পারে ছাত্রবাস সুপারের নির্দেশে মাছ ধরা হচ্ছে। সারারাত মাছ শিকারের পর ভোরে প্রায় ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। ছাত্রদের জন্য সেখান থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা দিয়ে দেয় ইজারাদার মামুন। ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে টাকা আনে বাপ্পি। কিন্তু সকাল ১০টার দিকে সুপার কেন তাকে না জানিয়ে টাকা আনা হয়েছে প্রশ্ন করে বাপ্পির সন্ধান করে। বাপ্পি পিয়নের মাধ্যমে সন্ধ্যায় ডাইনিংয়ে সকল ছাত্রের সামনে সুপারকে দেয়ার কথা জানায়। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয় সুপার সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস। ওই দিন সন্ধ্যায় হল সুপার ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয়ধারী স্বপন, পার্থ, সুমন, সজল, বিপ্লব ও দিলিপকে ছাত্রাবাসে যায়। সেখানে গিয়ে উচ্চ স্বরে ডাকচিৎকার করে হল সুপার সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস। খবর পেয়ে বাপ্পি তার সাথে দেখা করতে গেলে মা-বাবাকে তুলে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে টানা হেচরা করে। এক পর্যায়ে লাকরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করে। এ সময় ছাত্রাবাসে উপস্থিত সাবেক জাসদ ছাত্রলীগ নেতা সিদ্ধার্থ মন্ডল হল সুপার সঞ্জয় কুমার বিশ্বাসকে বাধা দেয়। তাৎক্ষনিক তার সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে সুপার। পরে বাপ্পিকে হল ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে সুপার। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক পুরো ছাত্রাবাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একই সাথে হল সুপারের নানা অনিয়মের খসরা নিয়ে নামে সাধারন ছাত্ররা। তাকে বহিস্কারের দাবি সহ ১১টি দাবির লিখিত কপি তৈরি করে অধ্যক্ষ ফজলুল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ঢাকা থাকায় সহকারী হল সুপার গৌতম কুমার সাহা বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের শান্ত করে।
এদিকে গতকাল রোববার সুপারের বাপ্পির বিরুদ্ধে ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্ধ না নিয়ে অবস্থান, সাধারন ছাত্রদের আন্দোলনের উস্কানী দেয়া, শিক্ষককে লাঞ্ছিত করাসহ নানা অভিযোগ এনে শিক্ষক পরিষদে ডেকে পাঠান বিএম কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক এসএম কাইয়্যুম উদ্দিন। সেখানে প্রশাসনের সদস্য ও শিক্ষকদের সামনে বাপ্পিকে হলত্যাগ করার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।
ছাত্রাবাসের সুপার সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস বলেন, ছাত্রাবাসের পেছনের পুকুরে মাছ বিক্রির টাকা ছাত্রবাসে ১৮ নং কক্ষের ছাত্র বাপ্পী তাকে না জানিয়ে নিয়ে আসে। ওই দিন সকালে বাপ্পিকে একাধিকবার দেখা করার জন্য ডেকে পাঠান তিনি। কিন্তুসে না এসে উল্টো তাকে ডাকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাপ্পিকে উচ্চবাচ্য করেছেন তিনি। তবে মারধর করেননি। সাবেক জাসদ ছাত্রলীগ নেতা সিদ্ধার্থ তারই ছাত্র। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ায় সিন্ধার্থের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়েছে। তবে পরে সিদ্ধার্থ তার ভুল বুঝে ক্ষমা চাইলে বিষয়টি মিমাংসা হয়ে যায়। অন্যদিকে ছাত্রলীগের সদস্যদের নিয়ে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তার সাথে যারা ছিল সবাই ছাত্রাবাসের ছাত্র। এদের মধ্যে কেউই ছাত্রলীগ নয়। বাপ্পি আন্দোলনের উস্কানি দেয়ার মত কাজের চেষ্টা করছিলো তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।