বিএম কলেজে ছাত্রলীগে দুই গ্রুপের ফের সংঘর্ষে হল বন্ধ ঘোষনা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বিএম কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে পূনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএম কলেজের কবি জিবনানন্দ দাস হল বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় এ নির্দেশ দিলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ত্যাগ করেছে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী। এছাড়াও ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি। কলেজের বিভাগীয় প্রধান হিমাং শেখর বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ করেছেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফজলুল হক। এই কমিটিতে সহযোগী সদস্য হিসেবে রয়েছেন শিক্ষক গোলাম মোর্শেদ ও রনজিৎ মল্লিক।
সরকারী বিএম কলেজের কবি জিবনানন্দ দাস (হিন্দু হোস্টেল) আবাসিক ছাত্র মনিষ জানান, আধিপত্য বিস্তার এবং জীবনানন্দ দাস হলে একটি কক্ষ নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিম ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতা অনিক সেরনিয়াবাত গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এসময় আতিকুল্লাহ মুনিমের সমর্থকরা অনিক সেরনিয়াবত সমর্থক মনি শংকর, সাধন ও আশিক সহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করে। রাতের এই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।
এরই জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা অনিক সেরনিয়াবত সমর্থক এবং কলেজের ছাত্র নামধারী বাবুল হালদার ও জেলা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জীবন সরকার চঞ্চলের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন বহিরাগত ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ধারালো অস্ত্র এবং লাঠি সোটা নিয়ে জীবনানন্দ দাস হলে হামলা চালায়। তারা হলের ২, ৭ ও ২৬ নং কক্ষ ভাংচুর করে। এসময় হলে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া দর্শন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র জহর মন্ডল, একই বর্ষের বোটানি বিভাগের ছাত্র সবুজ রায়, অনার্স ২য় বর্ষের বিজেশ ও আনন্দ সহ ৭/৮ জনকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আহত করে। এর মধ্যে বাবুল ও চঞ্চল বাহিনীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত জহর ও সবুজকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই খবর পেয়ে অপর আতিকুল্লাহ মুনিম গ্রুপের সমর্থকরা ছাত্রাবাসে হামলাকারীদের উপর পাল্টা হামলা চালায়। এক পর্যায় দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে সাধারন শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
বিএম কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফজলুল হক সাংবাদিকদের জানান, গত কয়েকদিন ধরে জীবনানন্দ দাস হলের একটি কক্ষকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নামধারী কিছু ছাত্রদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এতে ক্যাম্পাসের আইন শৃংখলা ব্যহত হচ্ছে।
অধ্যক্ষ বলেন, সোমবার রাতের ঘটনায় এক পক্ষ তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। তারা কক্ষ ত্যাগ করে জীবনানন্দ দাস হলে হামলা ও ভাংচুর চালায় বলে জানান অধ্যক্ষ ফজলুল হক।
তিনি বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশের সাথে তারা আলোচনায় বসেন। পরে জেলা প্রশাসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কবি জীবনানন্দ দাস হল অস্থায়ী ভাবে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে পূনরায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হবে। সেখানের সিদ্বান্ত অনুযায়ী হল খুলে দেয়া হবে।
এছাড়া ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের বিষয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের সাথে আলাপ করা হয়েছে। তারা সন্ধ্যায় দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে ঘটনার মিমাংশা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
অধ্যক্ষ আরো জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছেন। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
জীবনানন্দ দাস হলের সুপার সহকারী অধ্যাপক সঞ্চয় কুমার বিশ্বাস পরিবর্তনকে জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হল বন্ধ ঘোষনা করেন তারা। বিকাল ৪টার দিকে হোস্টেলে নোটিশ টানিয়ে দেয়ার পর ৬টার মধ্যে ছাত্রাবাস খালি করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ছাত্রাবাসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানান, পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জীবনানন্দ দাস হল এবং ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে জানান তিনি।