বিএম কলেজে আবাসিক শিক্ষার্থীদের লাঠি বহিরাগত ঠেকাতে পাহারা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বহিরাগত ঠেকাতে বরিশাল বিএম কলেজে গভীর রাতে লাঠিসোটা নিয়ে পাহাড়া দিয়েছে ৩টি হোস্টেলের আবাসিক ছাত্ররা। রাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশের খবরে ৩টি হোস্টেলের কয়েক শ’ শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে বের হলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ সময় সাধারন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে মূল সড়কে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাইরে বের হতে দেয়নি। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের আবাসিক ছাত্র সালাউদ্দিনকে মারধরের পর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুরেই তারা লাঠিসোটা নিয়ে বের হলে বহিরাগতদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ এক রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে বিরাজমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য রাতে ফের বহিরাগতদের প্রবেশের খবরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার ডিগ্রী হলের বাসিন্দা ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রবি জানান, রাতে মসজিদ গেট, বানিজ্য ভবন এবং বাকসুর সামনে বহিরাগতরা মাদক সেবন করছিল। এ খবরে ৩টি হোস্টেলের কয়েক শ’ শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে হল থেকে বেড়িয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে। পরে গভীর রাত পর্যন্ত লাঠিসোটা নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান এবং দফায় দফায় বিক্ষোভ করে আবাসিক শিক্ষার্থীরা। কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী নজরুল ইসলাম জানান, দুপুরের ঘটনার জের ধরে ওই রাতে কিছুটা উত্তেজনা হয়েছিল। বহিরাগত প্রবেশ করেছিল। আবাসিক ছাত্ররা তাদের ধাওয়া করে। পরে তারা বিক্ষোভ করে। কোতয়ালী থানার ওসি মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, দুপুরে দুই পক্ষকে মিলিয়ে দিয়েছিলাম। ওই ঘটনার জের ধরে রাতে ছাত্ররা ক্যাম্পাসে মিছিল করে। তারা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে সড়কে যেতে চাইলেও পুলিশ তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। বিক্ষোভকারী ছাত্রদের অভিযোগ, ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের কলেজ শাখার কমিটি গঠনের গুঞ্জনে পদ প্রত্যাশী নেতারা বহিরাগতদের এনে ক্যাম্পাসে শক্তির মহড়া দিচ্ছে। ফলে প্রায়ই বহিরাগতদের হামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বিভিন্ন ছাত্রাবাসের ছাত্ররা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওইদিনই কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যে কোন সময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পাসে অভিযান চালাতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের সর্বক্ষনিক পরিচপত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।