বিএম কলেজের সমাজকল্যান বিভাগে মাস্টার্স ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সরকারী বি এম কলেজের সমাজকল্যান বিভাগের মার্স্টাসে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই টাকা না দেয়া হলে শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। তাই ভর্তি রশিদে উল্লেখ না থাকা অতিরিক্ত ওই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। ফিল্ড ওয়ার্ক ফি এই অর্থ শুধু মাষ্টার্সের নয়, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়। এই খাতে সাড়ে ৬ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। গত গত ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ভর্তি ৪০ জন শিক্ষাথী কাছ থেকে অতিরিক্ত ২৪ হাজার ৬০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী সুত্র জানিয়েছে, কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষা সফর ও সেমিনার ফিসহ ভর্তি ফি নির্ধারন করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৫ টাকা।  কিন্তু সমাজ কল্যান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ টাকা। অতিরিক্ত ৬১৫ টাকা আদায়ের কোন ধরনের রশিদ দেয়া হয় না। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা  প্রতিবাদ করলে তাদেরকে ফিল্ড ওয়ার্ক এ ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয় বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করেছে। গত বছর চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে ফেল করিয়ে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সমাজ কল্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর বন্দে আলী হাওলাদার জানান, ফিল্ড ওয়ার্কে অনেক খরচ আছে । এসব খরচের জন্য এ টাকা আদায় করা হয়। কোন কোন খাতে এ টাকা খরচ করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ টাকার ভাগ বি এম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ ফজলুল হক, উপাধ্যক্ষ কাজি নজরুল ইসলাম, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক এস এস কাউয়ুম উদ্দিন , বি এম কলেজ কর্ম পরিষদের ভিপি মঈন তুষার, জি এস নাহিদ সেরনিয়াবাত, ফিল্ড ওয়ার্ক কর্মকর্তাদের দেয়া হয়। তিনি তার রুমের একটি ভাঙ্গা বুক সেলফ দেখিয়ে বলেন, গত বছর টাকা ও মার্ক ঠিকমতো না দেওয়ায় মঈন তুষার এ বুক সেলফ ও বিভাগের চেয়ার ভাংচুর করেছেন।
তবে বি এম কলেজের অধ্যক্ষ জানান, কলেজ নির্ধারিত ফি এর বাইরে বিনা রশিদে কোন ধরনের ফি আদায় করা যাবে না। আমি টাকা নেই এই কথা যদি কেউ বলে থাকে তাহলে সে মিথ্যা কথা বলেছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কলেজ সূত্রে জানাগেছে, সমাজ কল্যান চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের তাদের তাত্বিক জ্ঞানের বাস্তব শিক্ষার জন্য সরকারি হাসপাতাল, সমাজ সেবা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন এনজিওতে মাঠকর্ম প্রতিবেদন বা ফিল্ড ওয়ার্ক করতে হয়।
গত প্রায় ৪ বছর পযন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জন প্রতি ৫০০-৬০০ টাকা আদায় করা হয়। সমাজ কল্যানে অনার্সে প্রায় ৪০০ ও মাস্টার্সে ৬০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। শুধু তাই নয় যেসব শিক্ষার্থী অনিয়মিত ফিল্ড ওয়ার্ক করেন তাদের কাছ থেকে আরও ১ থেকে দেড় হাজার টাকা আদায় করেন বিভাগীয় প্রধান। এ নিয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোন ক্ষোভের অন্ত নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ফিল্ড ওয়ার্ক এর টাকা না দিলে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়া যাবে না। আর চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীর জানান, কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের কে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়।
মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে এমন এক শিক্ষার্থী জানান, তারা চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরন করেছেন তখন তাদের এক গরীব বন্ধুকে তারা চাদাঁ তুলে ফরম পূরন করিছেন। বিভাগীয় প্রধান তার কাছ থেকে এ অতিরিক্ত টাকা নিয়ে  ভাগভাটোয়ারা করে খেয়েছেন।
এক ফিল্ড অফিসার ও মহিলা সহায়তা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ পরিচালক আলতাফ হোসাইন বলেন, আসলে তাদের কে কোন মাস্টার্স ও চতুর্থ বর্ষের প্রতি ব্যচ প্রতি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বিভাগ থেকে খামে করে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এর বেশি নয়। তারা কোন দিন কোন টাকা চাননি। তার স্ব উদ্যেগে এ টাকা পাঠান।
এনজিও আভাস এর নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল জানান, তাদের কে খাতা কেনার জন্য ১ হাজার টাকা দেয়া হয় কলেজের পক্ষ থেকে। তিনি এক বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা আদায় করেন শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
এব্যাপারে মঈন তুষার জানান, আমি কোন ডিপার্টমেন্ট থেকে কোন টাকা পয়সা নেইনা। জাতিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরর্ধারিত ফি আর সেশন চার্য ছাড়া অন্য কোন টাকা রিসিভ ছাড়া নিলে সেটা বিএম কলেজের সাধারন শিক্ষারর্থীরাও মেনে নেবেনা আর আমরা কর্ম পরিষদের নেতৃবৃন্দ মেনে নেবনা।
এব্যাপারে শিক্ষক কর্ম পরিষদের সাধারন সম্পাদক এ এস কাইয়ুম উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টাকা বেশি নেয়ার ঘটনা আমি শুনেছি শোনার পরে অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে বন্দে আলী স্যারকে ফোন দিয়েছি। ফোন দেয়ার পরে সে আমার কাছে বেশি টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেছে। আসলে সে যদি রিসিভ ছাড়া টাকা নেয় তাহলে ভূল কাজ করছে । এই ভুল কাজের মাসুল তাকে দিতে হবে। আর আমার ব্যাপারে যে টাকা নেয়ার কথা বলছে সা সম্পূর্ন অসত্য আমি কোন টাকা পয়সা নেই না।