বিএম কলেজের ধর্ম নিয়ে কটুক্তিকারী ছাত্র বহিস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ধর্ম নিয়ে কটুক্তিকারী বিএম কলেজের ছাত্রকে বহিস্কার করা হয়েছে। সাধারন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গতকাল সোমবার কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্বান্তে বহিস্কার করা হয়। বহিস্কৃত ছাত্র হলো-জহিরুল ইসলাম জসিম। সে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। জসিম বরগুনার পাথরঘাটার মানিকখালি গ্রামের গোলাম মস্তফার ছেলে। অশ্বিনী কুমার হলের আবাসিক ছাত্র জহিরুল ইসলাম জসিমের বিরুদ্ধে রোববার বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে সাধারন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের পর কুশপুত্তলিকা দাহ করে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
তাকে কলেজ থেকে বহিস্কার ছাড়াও ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এসএম আলাউদ্দিনকে প্রধান করে করা তদন্ত কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তাকে বহিস্কারের জন্য জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
একই কলেজের ছাত্র আব্দুর রহমান পরিবর্তনকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ নামে ধর্মকে কটুক্তি করে মন্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে সে আল্ল¬াহ ও রাসূল সম্পর্কে কটুক্তি করেছে।
আব্দুর রহমান বলেন, ওইদিন রাতে জসিমের কটুক্তি প্রিন্ট করে ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দেয়া হয়। রোববারের পর গতকাল সোমবার সকল শিক্ষার্থীরা জহিরুল ইসলামের বিচার এবং বহিস্কারের দাবীতে পূনরায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা জসিমকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে তার কুশপুত্তলিকা দাহ এবং অধ্যক্ষের কাছে পূনরায় স্মারকলিপি দেয়া হয়।
লিখিত অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কলেজ সভা কক্ষে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরী সভা করে।
বিএম কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফজলুল হক জানান, একাডেমিক কাউন্সিলের সভা চলাকালে অভিযুক্ত সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জহিরুল ইসলাম জসিমকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞাসাবাদ কালে সে তার ফেইসবুক আইডিতে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হেনে লেখাটি প্রচারের অভিযোগ স্বীকার করেন। প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জসিমকে কলেজ ও ছাত্রাবাস থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।
অধ্যক্ষ জানান, এই ঘটনার পূর্ণ তথ্য জানতে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রতিবেদন পেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাকে বহিস্কারের জন্য সুপারিশ করা হবে বলে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন।