বিএনপি নেত্রীর জন্মদিন পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা খারিজের বিরুদ্ধে আপীল

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জাতীয় শোক দিবসে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ছাত্রলীগ নেতার খারিজ করা মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে আপীল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপীল করে বাদী ছাত্রলীগের বিএম কলেজ শাখার যুগ্ম আহবায়ক মঈন তুষার। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আদীব আলী আপীল গ্রহন করে শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য রেখেছেন। ধার্য্য দিন আগামী ২৭ আগষ্ট।
জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালতে গত ১০ আগষ্ট বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে প্রধান বিবাদী করে ১৫ আগষ্ট জন্মদিন পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নালিশী মামলা করে।
এতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম, উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চান ও কোতয়ালী বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. এনায়েত হোসেন বাচ্চুকে বিবাদী করা হয়।
জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ এইচএম কবির হোসেন পরদিন শুনানী শেষে গ্রহন যোগ্যতা না থাকায় খারিজের আদেশ দেন। ওই আদেশের ৮ দিন পর একই আইনজীবী মো. আজাদ রহমানের মাধ্যমে আপীল করে।
আদালত সূত্র জানায়, আপীলে নি¤œ আদালতে আনা অভিযোগ পূনরায় উপস্থাপন করে মামলা গ্রহনের পর জন্মদিন পালনে নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রার্থনা করা হয়েছে।
আপীলে উল্লেখ করা হয়, ১৫ আগস্ট জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ব-পরিবারে খুন হন। তাই এই দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস পালন হয়ে আসছে। এ দিনটিতে বাদীপক্ষ সহ দেশ জুড়ে সাধারন মানুষ মনোকষ্টে ভোগে। কিন্তু ১৫ আগস্ট শোকের এই দিনটিতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার জন্মদিন পালন করে আসছে। যা জাতীর জন্য একটি বেদনা দায়ক ঘটনা দাবী করে অভিযোগ আনে, বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া’র জন্ম তারিখ সংক্রান্ত জনমনে বিভিন্ন শ্রুতি রয়েছে। তিনি ১৯৬০ সনে দিনাজপুর গাল্স স্কুল থেকে মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার কথা থাকলেও ১৯৬১ সনে তিনি ঐ স্কুলে মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হন। তার রোল নম্বর ছিলো এফ-৯৭২। রেকর্ড মূলে তার জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু তার পাসপোর্ট নম্বর ডি-০০০১১২৩৮ এ জন্ম তারিখ একই সনের ৫ আগস্ট উল্লেখ রয়েছে। এমনকি বিএনপি’র চেয়ারপার্সন নিকাহ্ নামা, ১৯৯১ সনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের ফরম এবং তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাবতীয় কাগজপত্রে জন্ম তারিখ ১৫ই আগস্ট ছিলো না। কিন্তু নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর সাবেক এই প্রধান মন্ত্রী মিথ্যাচার করে ১৫ই আগস্ট তার জন্মদিন উৎযাপন শুরু করেন। তাছাড়া ১৯৯৬ সনের পূর্বে তিনি ১৫ই আগস্ট জন্মদিন পালন করেছেন তার কোন তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায় না। এমনকি এসএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত কাগজপত্র, পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্রে ৬নং বিবাদী বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ ১৫ই আগস্ট নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং সমর্থক সহ কোটি কোটি সাধারন মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্যই বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা ভাবে জন্মদিন পালন করে আসছেন বলে বাদী অভিযোগ করেছেন।
এজন্য বাদীপক্ষ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর দিনটিতে কেক কেটে মিথ্যা জন্মদিন পালন না করতে পারে সে বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও খালেদা জিয়া আবারও মানুষকে কষ্ট দিতে আগামী ১৫ আগস্ট মিথ্যা জন্মদিন পালনের চেষ্টা করছেন। আর তাই বাদী মঈন তুষার আগামী ১৫ই আগস্ট শোকের দিনে যাতে বেগম খালেদা জিয়ার মিথ্যা জন্মদিন পালন না করে সে জন্য ১ থেকে ৫ নম্বর বিবাদীদের বিভিন্ন সময় অনুরোধ জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ গত ৫ই আগস্ট পূনরায় একই অনুরোধ করলে ১ থেকে ৫ নম্বর বিবাদীরা বাদী মঈন তুষারকে হুমকি দেয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
তাই বাধ্য হয়ে বেগম খালেদা জিয়া যাতে তার ভূয়া জন্মদিন পালন করতে না পারে সে জন্য প্রতিকার চেয়ে বাদী এই মামলাটি দায়ের করেছেন।
এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে মামলাটি নালিশি মামলাটি আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিচারক আদেশের জন্য সময় নেন। গতকাল সোমবার বিকাল ৪টায় এ মামলার আদেশ হওয়ার কথা থাকলেও তার সময় পরিবর্তন করে আজ মঙ্গলবার আদেশের জন্য সময় নির্ধারন করেছেন বলে জানিয়েছেন আদালের বেঞ্চ সহকারী।
এদিকে গতকাল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হলেও বাদী বরিশাল সরকারী বিএম কলেজের ছাত্র কর্ম পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ সহ-সভাপতি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আজাদ রহমান জানান, মামলা দায়েরের জন্য বাদী পক্ষ তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তাছাড়া বাদী মঈন তুষার বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করায় তিনি আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেননি।