বিএনপি’র ২৭ জন সহ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা॥ প্রধান আসামি কাউন্সিলর জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সাথে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এতে মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১৭নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবির জাহিদকে প্রধান করে মোট ২৭ জনকে নামধারী এবং আরো ৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত মামলায় যানবাহনে ভাংচুর, জনসাধারনের মধ্যে ভীতি ও সন্ত্রাসের সৃষ্টি, পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা ও সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে আসামীদের বিরুদ্ধে।
এছাড়া শনিবার সংঘর্ষের সময় আটক বিএনপি’র ৮ নেতা-কর্মীদের মধ্যে ৭ জনকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। গতকাল রোববার তাদের মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক শামীম আহমেদ তাদের জেলে প্রেরনের নির্দেশ দেন। তবে মামলার প্রধান আসামী অসুস্থ থাকায় তিনি শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন ও মামলার বাদী উপ-পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দায়েরকৃত মামলার নামধারী আসামীরা হলো- স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান পিন্টু, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মামুন রেজা, চন্দ্রমোহন ইউপি যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক অলিউর রহমান হাওলাদার, ১০নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি আলমাস সরদার, জেলা শ্রমিক দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সোহেল আকন, ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য সোহাগ সিকদার। এই সাতজন বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। এছাড়া মামলার নামধারী পলাতক অন্যান্য আসামীরা হলো- জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. এইচএম তসলিম উদ্দিন, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম লিপন, রেজাউল কবির রনি, যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু, মতিউর রহমান মিঠু, জাবের আব্দুল্লাহ সাদি, আরিফুর রহমান জনি, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান রাশেদ, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. হাফিজ আহমেদ বাবলু, জেলা ছাত্রদলের সাবেক পরিবহন সম্পাদক রবিউল আলম আউয়াল শাহিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক মেম্বার, মহানগর ছাত্রদল কর্মী আবু তাহের হাওলাদার, ৭নং ওয়ার্ড যুবদল কর্মী জিএম মনির, ২৩নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা দুলাল হোসেন, মহনাগর ছাত্রদল কর্মী রাহাত হোসেন, জেলা শ্রমিক দলের সদস্য রিয়াজ হোসেন, জেলা যুবদল কর্মী মো. রুহুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহিদ হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী অংশ হিসেবে গত শনিবার সকালে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে জেলা ও মহানগর বিএনপি। সমাবেশের অনুমতি থাকলেও মিছিলের অনুমতি ছিলনা তাদের। তার মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা খন্ডমিছিল নিয়ে মহানগর বিএনপি’র কর্মসূচিতে যোগ দিতে আগরপুর রোড থেকে দলীয় কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে পুলিশ মিছিলে বাঁধা দেয়। বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করে। এমনকি পার্শ্ববর্তী স্থানে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশও পন্ড করে দেয় পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসময় বিএনপি নেতা-কর্মীরা বেশ কয়েকটি অটোরিক্সা ভাংচুর করে।