বিএনপির মহানগরের পুনঃগঠনের কাজ শুরু

জুবায়ের হোসেন॥ মামলা, হামলায় জর্জরিত হয়ে প্রায় কর্মীশূন্য জেলা ও মহানগর বিএনপি অবশেষে শুরু করেছে দল পুনঃগঠনের কাজ। কেন্দ্রের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে না পারলেও আবেদন করে সময় বাড়িয়ে এই কাজ শুরু করেছে তারা। গুরুত্বপূর্ন হিসেবে বিএনপির মহানগরীর ওয়ার্ড থেকেই শুরু হয়েছে পুনঃগঠনের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রীয়ায় পর্যায়ক্রমে গঠিত হবে ৩০ ওয়ার্ড বিএনপি কমিটি। তা হবে অল্পদিনের মধ্যেই বলে জানায় এখানকার নীতিনির্ধারনী নেতারা। জেলা উপজেলা কমিটি পুনঃগঠনের মাধ্যমে দলকে ফের দাড় করাতে ইতিমধ্যেই আর্জি নিয়ে আসছেন বিভিন্ন জেলার স্থানীয় ও তৃণমূল নেতারা। এই নিযে প্রতিদিন হচ্ছে ঘরোয়া আলোচনা সভা ও ছোট খাটো মিটিং। বসে নেই অঙ্গ সংগঠন যেমন- যুবদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ ছাত্রদলে নেতা কর্মীরা। বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে শূন্য এ সকল অঙ্গসংগঠনগুলোকে দাড় করতে পদবীর দাবিদার ও বিশেষ করে আগ্রহ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ সহ সিনিয়র নেতাদের দারস্থ হচ্ছেন তৃণমূল নেতা কর্মীরা। এখন দলের খারাপ অবস্থা বিধায় ত্যাগিরাই টিকে আছে দৌড়ঝাপ করাদের তালিকায়। তাদের দাবী বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি পদে অঙ্গ সংগঠনগুলোর সিংহভাগেরই কোন কমিটি নেই। দু’একটির আছে তবে সেখানে পদবিতে আছে এক কথায় অকেজো ও অযোগ্য লোকজন। যোগ্য নেতৃত্ব নেই তাই ওই অঙ্গ সংগঠনগুলোর ডাকে লোকও আসে না। এখন যখন দল পুনঃগঠন হচ্ছে তাই নতুন ও যোগ্য নেতৃত্বের দাবি তাদের এ বিষয়ে জেষ্ঠ্য নেতারা বলেন, বিএনপির কমিটি নিয়ে তারা কাজ করছেন। কেন্দ্র ঠিক করবে অংগ সংগঠনগুলো। অতঃপর অঙ্গ সংগঠনের স্ব স্ব নেতারা ঠিক করবেন তাদের ইউনিট ও এতে নেতৃত্বদাতা ভবিষ্যত নেতা। তবে এতে অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে ত্যাগিরা।
বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যকার একাধিক সূত্র জানায়, বিগত কয়েক বছরে বরিশাল জেলা ও মহানগর ব্এিনপি ধীরে ধীরে প্রায় অস্তিত্বহীনতার পর্যায়ে চলে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের এই অদম্য সুনাম এখন অবশিষ্ট রয়েছে নাম মাত্র। মূল দল বিএনপি ব্যাতিত এর অন্যান্য অঙ্গ সংগঠন যেমন যুবদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ইত্যাদির নেই পদবিতে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার মত কেউই। এমনকি নেই কোন কমিটিও। মূল দলের নেতাদের প্রভাব বিস্তারের কারণে এদের কমিটির প্রয়োজনও পরেনি তেমনভাবে। সিনিয়র নেতাদের তোষামদকারী কিছু নেতা কর্মীরে স্ব ঘোষিত পদবির মাধ্যমেই চলতো সংগঠনগুলো। অন্যদিকে ছাত্রদলের জেলা ও মহানগরে আছে আহবায়ক কমিটি। জেলা আহবায়ক মাসুদ হাসান মামুনকে নিয়ে তৃণমূলে তেমন কোন বিতর্ক না থাকলেও মহানগরের শেষ নেই। প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সি খন্দকার আবুল হাসান লিমন এখনও চালাচ্ছেন মহানগর ছাত্রদল। আহবায়ক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাও হয়ে গেছে ২ বছরের বেশি। তবে সিনিয়র নেতাদের দেখেও না দেখার ভান করায় ওই আহবায়ক কমিটিতেই চলছে টেনে হিচড়ে। অভিযোগ আছে আহবায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন বিগত এক বছর ৯ মাসের আন্দোলনে ছিল পুরোটাই গা ঢাকা দিয়ে। নগরীর বড় ব্যবসায়ী ওই ছাত্রনেতার নিজেরও এখন আর আগ্রহ নেই ছাত্রনেতা থাকার বলে নিশ্চিত করেছে তার একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র। কিন্তু সিনিয়র নেতারা তাকে আর্থিক দিক দিয়ে বলিষ্ঠ মনে করায় এখন টিকে আছে। বাকিদের কমিটি যে অঙ্গ সংগঠনটির আছে তারও এই বেহাল অবস্থা। তাই এবার কমিটি পুনঃগঠনের তোরজোরে সামনে চলে এসেছে তৃণমূল। তারা বলেন, একজন ভাল ও যোগ্য নেতা দেখলেও কর্মসূচীতে লোক আসে। বিতর্কিতদের পেছনে নয়। এছাড়া তারা এখন আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছেন বিধায় নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। আর কর্মী ফেরত পেতে হলে জোর হস্তে কাজ করে ঢেলে সাজাতে হবে মূল দল সহ প্রতিটি অঙ্গ সংগঠন। এজন্যই সিনিয়রদের কাছে যাতায়াত শুরু হয়েছে। পুনঃগঠনের জন্য কেন্দ্রের বেধে দেয়া সময় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল। অধিকাংশ নেতাকর্মী সরকার বিরোধী কর্মকান্ড ও নাশকতার মামলায় কারাগারে থাকায় ওই সময়ের মধ্যে কিছুই করা সম্ভব হয়নি। তাই আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে ও অভ্যন্তরিন আলোচনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে পুনঃগঠনের কাজ। গত শুক্রবার ও শনিবার গঠন করা হয়েছে বরিশাল মহানগর ১ ও ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির নতুন কমিটি। মহানগর বিএনপির সভপতি এ্যাডঃ মজিবর রহমান সরোয়ার নিজেই জোরেসোরে চালাচ্ছেন এই কর্মকান্ড। পর্যায়ক্রমে ৩০ ওয়ার্ডের কমিটিই গঠন করা হবে বলেও জানায় দলীয় সূত্র। অতঃপর অঙ্গ সংগঠন গুলোর কেন্দ্রের মাধ্যমে হবে পূর্নাঙ্গ কমিটি। এমনকি বাদ যাবেনা একটি কলেজ শাখা কমিটিও। জেলার নেতারা প্রতিদিনই আসছেন পুনঃগঠিত হবার আশায়। মহানগর এরপরে পর্যায়ক্রমে তাদের বিষয়ে ও জেলার নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে শীঘ্রই বলেও জানিয়েছে দলের তথ্যদাতা সূত্রটি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাডঃ মজিবর রহমান সরোয়ার এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, অধিকাংশ নেতাকর্মী মামলায় জর্জারিত হয়ে কারাবাসে থাকায় কেন্দ্রের বেধে দেয়া সময়ে পুনঃগঠন কাজ শুরু হয়নি। তবে কারন দেখিয়ে পুনঃগঠনের মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন তারা। মূল দলের ওয়ার্ড কমিটি গঠন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং শীঘ্রই পুনঃগঠিত হবে মহানগরে ৩০টি ওয়ার্ডের কমিটি। অঙ্গ সংগঠনগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবকদল এর কোন কমিটিই নেই। কেন্দ্র শীঘ্রই এই কমিটিগুলোকেও প্রয়োজনের তাগিদে গঠন করবে। অতঃপর নেতৃত্বে আসারা করবেন তাদের অধিনস্থ কমিটিগুলো। জেলা উপজেলা থেকে নেতৃবৃন্দ আসছেন। তাদের সাথে প্রতিদিনই হচ্ছে পুনঃগঠনের আলোচনা। গতকাল শনিবার বরগুনা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। পুনঃগঠনের বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনাও করা হয়েছে। এক কথায় পুনঃগঠনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শীঘ্রই দলকে উজ্জীবিত করে তুলবেন তারা বলে এ্যাডঃ মজিবর রহমান সরোয়ার জানান।