বিএনপির নেতাকর্মীর সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি নারী নেত্রী সহ আহত-৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানার প্রতিবাদে নগরীতে দ্বিতীয় দিনের মত বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেরিকেট এবং বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ এ হামলা করে। এছাড়াও পুলিশ এবং বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুরুষ পুলিশরা নারী নেতৃবৃন্দকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। পুলিশের হামলায় বিএনপি’র নারী নেত্রী সহ কমপক্ষে ৬ জনের মত কম বেশি আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হল সংলগ্নে এই ঘটনা ঘটে। তবে এর পূর্বে কোন প্রকার বাঁধা ছাড়াই প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে মহানগর বিএনপি। একই সময় অশ্বিনী কুমার হলের সামনে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি যৌথ বিক্ষোভ ও সমাবেশ পন্ড হয়েছে। জানাগেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় সদর রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ এর আয়োজন করে মহানগর বিএনপি। কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিক আহমেদ রুনু সরদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এম জি ফারুক, মহানগর মহিলা দল নেত্রী শামীমা আকবর, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন আহম্মেদ, মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি কামরুল আহসান রতন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আফরোজা খানম নাসরিন, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন, বিএনপি নেত্রী ও বিসিসি’র প্যানেল মেয়র শরিফ তাসলিমা কামাল পলি, কাউন্সিলর জাহানারা বেগম, মহিলা দল নেত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা মিতু প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার বিএনপিকে ভয় পায়। আজ বিএনপি কোন কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামলেই পোটোয়া পুলিশ বাহিনী দিয়ে বিএনপি’র উপর হামলা নির্যাতন চালাচ্ছে অবৈধ সরকার। বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানার প্রতিবাদে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ন কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ আমাদের সেই শান্তিপূর্ন মিছিল-সমাবেশে হামলা চালাচ্ছে। যার প্রমান মঙ্গলবার নগরীতে যুবদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্য।
বক্তারা বলেন, যতই হামলা-মামলা করা হোক না কেন বিএনপি রাজপথ ছাড়বে না। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশের গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে। বিএনপি নেতাকর্মীরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় জারিকরা গ্রেপ্তারী পরোয়ানা প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
এদিকে সমাবেশ শেষে নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল সহকারে সদর রোডের দিকে অগ্রসর হয়। এসময় পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। পুলিশের বাঁধা এবং বেরিকেট ভেঙ্গে নেতা-কর্মীরা সদর রোডে মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে হামলা চালায়। এক পর্যায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে তাদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। এতে বিএনপি’র বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী পুলিশের হামলার শিকার হয়ে রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়ে। এক পর্যায় মিছিলটি পন্ড হয়ে যায়।
এদিকে একই সময় সমাবেশ করেছে বরিশাল উত্তর ও দক্ষিন জেলা বিএনপি। উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দক্ষিন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম শাহীন, কোতয়ালী বিএনপি সভাপতি এ্যাড.এনায়েত হোসেন বাচ্চু, সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন লাবুু, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন দিপেন, মুলাদী উপজেলা বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড.তরিকুল ইসলাম দিপু, উত্তর জেলা মুক্তিযুদ্বা প্রজন্ম দলের আহবায়ক এ্যাড. জাহিদুর রহমান পান্না, কোতয়ালী বিএনপি সহ-সভাপতি আরহাজ নুরুল আমিন, জেলা স্বেচ্চাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মাহাবুবুর রহমান পিন্টু, বাখেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সম্পাদক নাসির হাওলাদার, বানারীপাড়া বিএনপি সম্পাদক রিয়াজ মৃধা ও বরিশাল কোতয়ালী যুবদল সভাপতি কবীর হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন। পরে তারা মিছিল নিয়ে সড়র রোডে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাঁধায় তা পন্ড হয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সত্য রঞ্জন খাসকেল বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। অনুমতি ছাড়া সদর রোডে মিছিল করতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তাদের বাঁধা দিয়েছে। এ নিয়ে একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে মাত্র। তাছাড়া বিএনপিকে শুধুমাত্র তাদের দলীয় কার্যালয়ের মধ্যে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছিলো। তাই সমাবেশে পুলিশ কোন বাঁধা দেয়নি।