বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পূন.গঠন সম্মানজনক পদ পাচ্ছেন নগরীর দুই নেতা

জুবায়ের হোসেন ॥ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পূন.গঠনে কপাল খুলে যাচ্ছে এই নগরীর দুই নেতার। এমনিতে ওই দুই নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। সেই পরিচিতি পূন.গঠনের কমিটিতে সম্মানজনক পদ পেলে আরো পোক্ত হবে। দলীয় চেয়ারপার্সন দেশে ফিরে এলে পূন.গঠনের কাজ শুরু হবে। খুব দ্রুত দলের সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন দুই নেতা। তারা হলেন-বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর শাখার সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার ও যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এই নগরীর উত্তর ও দক্ষিন প্রান্তের বাসিন্দা ওই নেতার একজন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং অপরজন যুগ্ম মহাসচিব পদ পাচ্ছেন। নির্ভরযোগ্য সুত্রের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
ওই তথ্যদাতা জানিয়েছেন, একের পর এক ভুল সিদ্বান্ত ও পদক্ষেপে দলের সাংগঠনিক ভীত দুর্বল হয়ে পড়েছে। শুধু মুল দল নয়, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অবস্থা একই পর্যায়ে রয়েছে। তাই দলকে চাঙ্গা করতে ঢেলে সাজানোর জন্য নীতি-নির্ধারকরা কেন্দ্রী কমিটি পূন.গঠনের সিদ্বান্ত নিয়েছেন। মুল দলের সাথে অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের কমিটিতেও পরিবর্তন করা হবে।
বিতর্কিত, স্বেচ্ছায় নিস্ক্রিয় ও বার্ধক্যজনিত কারনে দূর্বল হয়ে পড়া নেতাদের বদলে অপেক্ষাকৃত তরুন ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি হবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পরেই আসবে এই পরিবর্তন। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাহী কমিটি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই নতুনত্ব আনবেন চেয়ারপার্সন বলে জানায় সূত্রটি। সেই সিদ্ধান্তে ডজন খানেক নেতাদের সম্মানজনক পদে আসা নিয়ে কেন্দ্রে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ওই গুঞ্জনে এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নাম সম্ভাব্য হিসেবে রয়েছে। ত্যাগী ও তরুন এই দুই নেতার অবস্থান অনেকটাই শক্ত। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার বরিশাল সদর আসন থেকে ৫ বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। দলের ভাল সময়ে যেমন দায়িত্ব পালন করেছেন তেমনি দায়িত্ব এড়াননি সংকটে সময়ও। নিজের দক্ষতা ও রাজনৈতিক চৌকষতার প্রমাণ দিয়ে ধরে রেখেছেন দলের সুনাম। বিগত ১ বছর ৯ মাসের সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিপর্যয়ে মুখে কেন্দ্রের নির্দেশনা পালনে করেছেন আপ্রান চেষ্টা। এজন্য ত্যাগ ও দক্ষতার দিক দিয়ে এগিয়ে তিনি। অপর নেতা মোয়াজ্জেম হেসেন আলাল যিনি বর্তমানে কেন্দ্রিয় যুবদলের সভাপতি। বরিশাল অঞ্চলে বিএনপির রাজনীতিতে তার অবদানও কম নয়। মূলত কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে জড়িত এই নেতার বেশ অবদান রয়েছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনে মামলার আসামী হয়ে কারান্তরীন থাকা এই নেতার এখন দিনের সিংহভাগ সময় আদালতে কাটাতে হচ্ছে। তাই ত্যাগী ও অপেক্ষাকৃত সামঞ্জস্যপূর্ণ বয়সের নেতা হিসেবে তার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। এ্যাডঃ মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে দলের খারাপ সময় নেত্রীর পাশে ছিলাম। দলের গুরুত্বপূর্ণ কাজে দায়িত্ব দেয়ার আলোচনায় নেত্রী সব সময় আমাকে রাখার চেষ্টা করেন। এবার তিনি যদি আমাকে দায়িত্ব দেন তা আমি পালন করবো। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা মেনে নেব।
এদিকে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, দলের জন্ম লগ্ন থেকে আছেন। কোন দায়িত্ব পালনে এক চুলও নড়েননি তিন। ভবিষ্যতেও দেয়া দায়িত্ব পালন করবেন তিনি একনিষ্ঠভাবে। যেখানে ত্যাগ, নিষ্ঠা ও সত্যতা থাকবে।