বিএনপির কার্যালয়গুলো অন্ধকারে

রুবেল খান॥ নেতা-কর্মীদের নিস্ক্রিয়তায় ঝিমিয়ে আছে বরিশাল জেলা ও মহানগরসহ ৬ জেলার বিএনপি কার্যালয়। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ এ কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের আসা-যাওয়া না থাকায় অন্ধকারে রয়েছে কার্যালয়গুলো। বিশেষ করে পুলিশের সার্বক্ষনিক নিরাপত্তায় ঘেরা বরিশাল জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের তালায় এখন মরিচা পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিএনপি নেতাদের দাবী মাঝে মধ্যে কার্যালয় খোলা হলেও পুলিশ তাদের বাধা দিচ্ছে।
জানাগেছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবীতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিএনপির নেতৃত্বাধিন ২০ দলীয় জোট। গত ৬ জানুয়ারী থেকে প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় হরতালের পাশাপাশি লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
এদিকে ২০ দলের লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি শুরু থেকেই সাড়া নেই বরিশাল বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের। দলীয় এবং কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে এদের উপস্থিতি শূন্যর কোঠায় পৌছেছে। গ্রেফতার আতংকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবী নেতা-কর্মীদের। আর নেতা-কর্মীদের অনুপস্থিতিতে দলীয় কার্যালয়গুলোতেও সৃষ্টি হয়েছে ভূতুরে পরিবেশ। জ্বলছে না সন্ধ্যা বাতিও। শুধু বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি কার্যালয় নয়, বিভাগের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি কার্যালয়গুলোর একই পরিস্থিতি বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সূত্র।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর সদর রোড অশ্বিনী কুমার হল সংলগ্ন জেলা ও মহানগর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এমন করুন পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করা গেছে।
দেখাগেছে, জেলা ও মহানগর বিএনপি’র স্থায়ী কার্যালয়ের সামনে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সদস্যরা অবস্থান করছেন। কার্যালয়ের আশপাশের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে সন্ধ্যা বাতি জ্বলছে। শুধু মাত্র অন্ধকারে রয়েছে জেলা ও মহানগর বিএনপি কার্যালয়টি। তিন তলা বিশিষ্ট এ কার্যালয়ের উপরে ওঠার সিঁড়ির সামনের গেটে ঝুলছে দুটি তালা। আর নিচ তলায় কক্ষে ঝুলছে একটি। জানালো গুলোও রয়েছে বন্ধ। ভেতরে আলো না জ্বলায় পাশাপাশি মাকড়সার জাল পড়ে কার্যালয়ের ভেতরে সৃষ্টি হয়েছে জরাজীর্ন পরিবেশ। কার্যালয়ের বাইরে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিশাল আকৃতির একটি বিলবোর্ড বাতাসে ভেঙ্গে পড়ে আছে। দলীয় কিছু পোষ্টার লাগানো ছিলো তাও বৃষ্টির পানিতে ভিজে গলে গেছে।
কার্যালয়ের পাশের ব্যবসায়ীরা জানায়, ২০ দলের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনার পর থেকেই বিএনপি কার্যালয়ের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ কার্যালয়ের দেখা সোনার দায়িত্বে রয়েছে সিদ্দিকুর রহমান ও তৈয়ব নামে দু’ ব্যক্তি। নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি এ দুই কর্মচারীকেও কার্যালয়ের সামনে ঘেষতে দেখা যাচ্ছে না বলে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত করেন।
এর মধ্যে সিদ্দিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাঝে মধ্যে তারা গিয়ে কার্যালয়ের খোঁজ খবর নেন। তাছাড়া ভেতরে ধুলাবালি পড়লে পরিস্কার করছেন।
তবে কর্মচারীদের এমন দাবী হাস্যকর বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে থাকা পুলিশ সদস্যরা। তারা জানান, দীর্ঘ দিন যাবৎ কার্যলয়টি তারা খুলতে দেখছেন না। কেন খুলছে না, নাকি খুলতে দেয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে পারেননি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ও মহানগর বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ কোন নেতার মোবাইল নম্বর খোলা পাওয়া যায়নি। তবে মহানগর বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক রাসেল কবির জানান, মাঝে মধ্যে তারা দলীয় কার্যালয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলীয় কার্যালয় খুলে সেখানে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসেন তাদের নেতা-কর্মীরা। মাইকে বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রচার শুরুর পর পরই কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ এসে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে নাজিরের পুলে পাঠিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া নেতা-কর্মীরা না গেলে বা কোন সভা-সমাবেশ ছাড়া দলীয় কার্যালয় এমনেতেই খোলা হয় না বলে জানিয়েছেন নগর বিএনপি’র এই নেতা।
বরিশাল ছাড়া বিভাগের বাকি ৫ জেলায় খোঁজ নিয়ে দেখাগেছে প্রতিটি জেলা বিএনপি কার্যালয়ের একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি আর আসা যাওয়া না থাকায় জেলার পাশাপাশি উপজেলা এবং ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর একই পরিস্থিতি বিরাজমান। বরিশাল মহানগরীর ওয়ার্ড থেকে শুরু করে বিভাগের বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের বেশ কিছু ভাড়া করা বিএনপি কার্যালয় নেতা-কর্মীদের হাতছাড়া হয়ে গেছে বলেও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছেন।