বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করবে তৃণমূল, ঘোষণা দেবে কেন্দ্র

রুবেল খান॥ মার্চের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে একই পথে হাটছে বিএনপি। যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে তৃণমূল থেকে আগ্রহী প্রার্থীদের তালিকা সংগ্রহ করছে কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে প্রার্থীদের তালিকা পাঠানোর জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় বেঁধে দেয়া হয়নি। বিএনপি’র জেলা ও মহানগর কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এমন তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
বরিশাল জেলা ও বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, মার্চে প্রথম বারের মত দলীয় প্রতিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বরিশাল বিভাগের ২৮৫ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। আগামী ২২ মার্চ ভোট গ্রহণের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে তফলিস ঘোষণাও করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি, আপিল দাখিল ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি, আপিল নিষ্পত্তি ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২ মার্চ ও প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৩ মার্চ।
অনুযায়ী আগামী ২২ মার্চ থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ছয় ধাপে আয়োজিত নির্বাচনের প্রথম পর্বে বরিশাল সহ মোট ৭৫২ টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হবে ২২ মার্চ।
এদিকে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থী বাছাইয়ে তড়ি ঘড়ি শুরু হয়েছে বিএনপি’র। তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ভাবনা থাকলেও বর্তমানে তা আরো প্রকোট হয়ে দাড়িয়েছে। যে কারণে সরকারী দলীয় আওয়ামী লীগের মত করেই প্রার্থী বাছাইয়ের দিকে হাটছে বিএনপি’র নীতি নির্ধারনী মহল।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির একটি সূত্র জানিয়েছে, এবারের ইউপি নির্বাচনে তৃণমূল বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন দলের চেয়ারপার্স বেগম খালেদা জিয়া। যে কারণে জেলা পর্যায়ে নয়, প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য উপজেলা এবং ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি চেয়ারপার্সনের নির্দেশ ক্রমে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এমনটি ঘোষণা করেন। প্রার্থী বাছাইয়ে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি একই পদ্ধতি অবলম্বন করলেও কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে বিএনপিতে। আর তা হলো আওয়ামীলীগ উপজেলা এবং ইউনিয়নের পাশাপাশি জেলার নেতৃবৃন্দকে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব দিলেও বিএনপি’র ক্ষেত্রে বাদ পড়েছেন জেলার নেতারা। এদিক থেকে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও খুশি তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। কেননা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কতটা সক্রিয় তা জেলার থেকে উপজেলা এবং ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতৃবৃন্দই ভালো জানেন।
বিএনপি’র বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) এর সভাপতি এবায়দুল হক চান বলেন, ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম এক মাস পূর্বে থেকেই শুরু করেছি। কিন্তু এখন একটু তোড়জোড় বেড়েছে।
তিনি বলেন, যারা প্রার্থী হতে আগ্রহী সেই সব বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামের তালিকা চেয়ারপার্সনের দপ্তরে প্রেরণ করতে হবে। ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি, সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থীর তালিকা করে উপজেলা কমিটির কাছে হস্তান্তর করবে। এর মধ্যে থেকে উপজেলা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলাকে জানাবে। তবে উপজেলা কমিটি সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে জেলা কমিটি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রে তালিকা প্রেরণ করবে। তাছাড়া প্রতি ইউনিয়ন থেকে একজন করে প্রার্থীর নাম ইউনিয়ন এবং উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ সুপারিশ করতে পারবেন জানিয়ে তিনি বলেন, সাংগঠনিক এবং মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় নেতা-কর্মীদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির পূর্বেই কেন্দ্র থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছেন এই নেতা।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদে প্রথম বারের মত দলীয় প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২২ মার্চ প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর পূর্বে ৭৫২টি ইউপিতে ২২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা, ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি বাছাই, ২ মার্চ প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩ মার্চ।