বিআরটিসির বাস ডোবায় পড়ে আহত অর্ধশত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ব্রেক ফেল করা বিআরটিসি পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ সেতুর ঢালে দপদপিয়া এলাকায় রাস্তার পাশে ডোবায় পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে ৫ টার দিকে এই ঘটনায় বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা নগরীগামী বাসটির অর্ধশত যাত্রী আহত হয়েছে। এছাড়াও খান সন্স টেক্সটাইল মিলের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছে। আহতদের মধ্যে ৪৬ জনকে শেবাচিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবশ্য আহতদের মধ্যে শিশু সহ ৭ জনের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। বাসটির আহত যাত্রীদের অভিযোগ বিআরটিসি বাসের চালকের খামখেয়ালীর কারনেই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে বাসটির চালক এবং সহকারী পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বিআরটিসি বরিশাল বাস ডিপো সূত্রে জানাগেছে, বিআরটিসির (ঢাকা মেট্রো ব-১১-১৬৩৯) বাস আমতলী থেকে ৫৩ যাত্রী নিয়ে নগরীর উদ্দেশে রওয়ানা হয়। শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর ঢালে নেমে চালক বাসের ব্রেক ফেল করে। মুহূর্তের মধ্যে চলন্ত বাস টোলঘর পাড় হয়ে সোজা সোনারগাঁ টেক্সটাইল মিলের দেয়ালের উপর আছড়ে পড়ে। সোনার গাও টেক্সটাইল মিলের সীমানা প্রাচির ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেছে। এতে বাস যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়। এমনকি বাসের চালকও আহত হয়েছে বলে দাবী করেছেন ডিপো ম্যানেজার। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে এবং থানা পুলিশ রেকার দিয়ে গাড়িটিকে সরিয়ে নেয়। বাস যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন চালকের খামখেয়ালী এবং অজ্ঞতার কারনেই বাসটি দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। মজিবর রহমান, রিপন, সজল, রবি সহ একাধিক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, লেবুখালী ফেরী পার হয়ে এসে পৌছুলে বাস বিকল হয়। এরপর চালক ও সহকারী বাসের বিকল ব্রেক মেরামত করে পুনরায় রওয়ানা হয়। বিষয়টি আচ করতে পেরে যাত্রীরা বাসের মধ্যে ডাক চিৎকার শুরু করে। এসময় যাত্রীরা বাস থেকে তাদের নামিয়ে দিতে চালকের প্রতি অনুরোধ জানান। কিন্তু চালক এবং বাসের সুপার ভাইজার কোন সমস্যা হবে না মন্তব্য করে বাস নিয়ে রওনা হয়। যাত্রীরা আরো জানান, বাসটি দপদপিয়ার শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কীর্তনখোলা নদীর সেতুতে বেপরোয়া গতিতে উঠে বাসের ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায় বাসটি সোজা টোল ঘরের সামনে দিয়ে সোনার গাও টেক্সটাইল মিলের দেয়ালের সাথে ধাক্কা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। এতে বাসের যাত্রী কম বেশি সবাই আহত হয়। এর মধ্যে যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সেই সব যাত্রীরা হলো- লিয়াকত আলী, মাসুদ, নুরুল ইসলাম, শাহাজাহান, আলামিন, ইউসুফ, আমিনুল, নুরুল হক, মস্তফা, মামুন, বিবেক, ওমর ফারুক, কালাম, মারিয়া আক্তার, আলেয়া বেগম, রাশিদা বেগম, আলো রানী, সম্পা রানী, আয়েশা বেগম, বিথি বেগম, মজিবুর রহমান, রিপন, সজল, রবি, লিটন, নজরুল ইসলাম, জিল্লুর রহমান, শিশু তানভির হোসেন, আব্দুল্লাহ ও লামিয়া সহ ৪৬ জন। আহতদের বাড়ি বরগুনা, আমলতী, পাথর ঘাটা ও বরিশাল। শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুম বিল্লা জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ৪ শিশু, ১০ নারীসহ ৪৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এদেরকে জেনারেল সার্জারি ও অর্থপেডিক্স বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হলেও মারা যাওয়ার শঙ্কা নেই বলে জানান তিনি। পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী বলেন, যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে ডোবা এবং সামনে দেয়াল না থাকলে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারতো। বিআরটিসি’র গাড়ি বলে চালক ও সহকারী পলাতক থাকলেও তাদের খুঁজে বের করা যাবে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।